আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২৬. অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
হাদীস নং: ৫৭৭৮
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা'আলার প্রতি জান্নাতবাসীদের দৃষ্টিপাতের বর্ণনা
৫৭৭৮. হযরত জাবির ইবন আব্দুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, একদা জান্নাতীগণ তাদের একটি মজলিসে থাকবে। এমন সময় জান্নাতের দরজায় তাঁদের জন্য একটি আলো বিকশিত হবে। তখন তারা তাদের মাথা তুলবে। দেখা যাবে যে, আল্লাহ তা'আলা তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তখন তিনি বলবেন, হে জান্নাতীগণ! তোমরা আমার কাছে প্রার্থনা কর। তারা বলবে, আমরা আপনার কাছে আমাদের প্রতি আপনার সন্তুষ্টি প্রার্থনা করছি। তিনি বলবেন, আমার সন্তুষ্টিই তোমাদেরকে আমার জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছে এবং তোমাদেরকে আমার অধিক অনুগ্রহ দান করেছে। এখন সে অধিক অনুগ্রহের সময়। সুতরাং তোমরা আমার কাছে প্রার্থনা কর। তারা বলবে, আমরা আপনার কাছে অধিক অনুগ্রহটুকু কামনা করছি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, তখন লাল চুনির তৈরী উৎকৃষ্ট বাহনজন্তু তাদের কাছে আনা হবে। বাহনজন্তুগুলোর বাগডোর হবে সবুজ পান্না ও লাল চুনির। তাদেরকে সেসব বাহনজন্তুর উপর আরোহণ করানো হবে। সেগুলো তাদের দৃষ্টির শেষ সীমায় কদম ফেলবে। তখন আল্লাহ তা'আলা কিছু বৃক্ষের ব্যাপারে নির্দেশ দেবেন, সেগুলোতে ফল থাকবে। এরপর আয়তলোচনা হুরদের থেকে কিছু তন্বী আসবে। তারা বলবে, আমরা সদাপ্রসন্ন সুতরাং আমরা কখনও বিষন্ন হব না, আমরা চিরস্থায়ীনী, সুতরাং আমরা মৃত্যুমুখে পতিত হব না। আমরা সম্মানিত মু'মিন লোকদের স্ত্রী। আল্লাহ তা'আলা উন্নতমানের সাদা মেশকের ঢিবিকে হুকুম দেবেন। ফলে বাতাসের সাথে তাদের উপর মেশক ছড়িয়ে পড়বে। সে বাতাসের নাম হবে মুসীরা' (এমন বায়ু যা ছড়িয়ে দেয়)। এরপর ঘোড়াগুলো তাদেরকে নিয়ে 'আদন' জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছবে। আদন হচ্ছে জান্নাতের প্রাণকেন্দ্র। তখন ফিরিশতাগণ বলবেন, হে আমাদের প্রতিপালক! একদল লোক এসেছে। তিনি বলবেন, সত্যবাদীদেরকে স্বাগতম। অনুগতদেরকে স্বাগতম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা তাদের সম্মুখ থেকে পর্দা উন্মোচিত করে দেবেন। তখন তারা আল্লাহ্ তা'আলার দিকে দৃষ্টিপাত করবে এবং দয়ালু আল্লাহ তা'আলার নূর উপভোগ করবেন কি তারা। একে অপরের দিকে তাকাবার অবকাশ পাবে না। এরপর তিনি বলবেন, তাদেরকে উপঢৌকনাদি সহকারে প্রাসাদে নিয়ে যাও। তখন তারা একে অপরের প্রতি তাকিয়ে ফিরে যাবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, এটাই আল্লাহ তা'আলার এ বাণীর অর্থ : نزلاً مِّنْ غَفُورٍ رَحِيمٍ "এটা হবে ক্ষমাশীল পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে সাদর আপ্যায়ন।" (৪১ঃ ৩২)
(আবু নু'আয়ম ও বায়হাকী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত পাঠ বায়হাকী বর্ণিত। তিনি বলেন, এ অধ্যায় অর্থাৎ পুনরুত্থান অধ্যায় দীদার অধ্যায়ে এমন রিওয়ায়েত সমূহ উল্লিখিত হয়েছে, যেগুলো আলোচ্য হাদীসের বর্ণণাকে সমর্থন করে। হাদীসটি ইবন মাজাহ ও ইবন আবিদ-দুনিয়ার রিওয়ায়েতে সংক্ষিপ্তাকারে উল্লিখিত হয়েছে। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, একদা জান্নাতীগণ তাদের নিয়ামত উপভোগে থাকবে। এমন সময় তাদের সামনে একটি আলো বিকশিত হবে। তখন তারা তাদের মাথা তুলবে। দেখা যাবে যে, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপরের দিক থেকে তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তিনি বলবেন, আস্সালামু আলাইকুম, হে জান্নাতীরা! এটাই আল্লাহ্ তা'আলার এ বাণীর অর্থ :سلام قولاً من رب رحيم "পরম দয়ালু রবের পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে সালাম" (৩৬: ৫৮) ফলে যতক্ষণ তারা আল্লাহ্ তা'আলাকে দেখবে, ততক্ষণ তাদের অন্য সমস্ত নিয়ামতের মধ্য থেকে কোনটির দিকে তারা ফিরেও তাকাবে না। যে পর্যন্ত না তিনি তাদের থেকে অদৃশ্য হয়ে যান এবং তাদের মধ্যে তাঁর বরকত ও নূর থেকে যায়।
এটা ইবন মাজাহ বর্ণিত রিওয়ায়েতের পাঠ অপর রিওয়ায়েতটি এর অনুরূপ।)
(আবু নু'আয়ম ও বায়হাকী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত পাঠ বায়হাকী বর্ণিত। তিনি বলেন, এ অধ্যায় অর্থাৎ পুনরুত্থান অধ্যায় দীদার অধ্যায়ে এমন রিওয়ায়েত সমূহ উল্লিখিত হয়েছে, যেগুলো আলোচ্য হাদীসের বর্ণণাকে সমর্থন করে। হাদীসটি ইবন মাজাহ ও ইবন আবিদ-দুনিয়ার রিওয়ায়েতে সংক্ষিপ্তাকারে উল্লিখিত হয়েছে। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, একদা জান্নাতীগণ তাদের নিয়ামত উপভোগে থাকবে। এমন সময় তাদের সামনে একটি আলো বিকশিত হবে। তখন তারা তাদের মাথা তুলবে। দেখা যাবে যে, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপরের দিক থেকে তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তিনি বলবেন, আস্সালামু আলাইকুম, হে জান্নাতীরা! এটাই আল্লাহ্ তা'আলার এ বাণীর অর্থ :سلام قولاً من رب رحيم "পরম দয়ালু রবের পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে সালাম" (৩৬: ৫৮) ফলে যতক্ষণ তারা আল্লাহ্ তা'আলাকে দেখবে, ততক্ষণ তাদের অন্য সমস্ত নিয়ামতের মধ্য থেকে কোনটির দিকে তারা ফিরেও তাকাবে না। যে পর্যন্ত না তিনি তাদের থেকে অদৃশ্য হয়ে যান এবং তাদের মধ্যে তাঁর বরকত ও নূর থেকে যায়।
এটা ইবন মাজাহ বর্ণিত রিওয়ায়েতের পাঠ অপর রিওয়ায়েতটি এর অনুরূপ।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي نظر أهل الْجنَّة إِلَى رَبهم تبَارك وَتَعَالَى
5778- وَرُوِيَ عَن جَابر بن عبد الله رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بَينا أهل الْجنَّة فِي مجْلِس لَهُم إِذْ سَطَعَ لَهُم نور على بَاب الْجنَّة فَرفعُوا رؤوسهم فَإِذا الرب تبَارك وَتَعَالَى قد أشرف عَلَيْهِم فَقَالَ يَا أهل الْجنَّة سلوني فَقَالُوا نَسْأَلك الرِّضَا عَنَّا
قَالَ رضائي أحلكم دَاري وأنالكم كَرَامَتِي وَهَذَا أوانها فسلوني قَالُوا نَسْأَلك الزِّيَادَة قَالَ
فيؤتون بنجائب من ياقوت أَحْمَر أزمتها من زمرد أَخْضَر وَيَاقُوت أَحْمَر فيحملون عَلَيْهَا تضع حوافرها عِنْد مُنْتَهى طرفيها فيأمر الله عز وَجل بأشجار عَلَيْهَا الثِّمَار فتجيء جوَار من الْحور الْعين وَهن يقلن نَحن الناعمات فَلَا نبأس وَنحن الخالدات فَلَا نموت أَزوَاج قوم مُؤمنين كرام وَيَأْمُر الله عز وَجل بكثبان من مسك أَبيض أذفر فينثر عَلَيْهِم ريحًا يُقَال لَهَا المثيرة حَتَّى تَنْتَهِي بهم إِلَى جنَّة عدن وَهِي قَصَبَة الْجنَّة فَتَقول الْمَلَائِكَة يَا رَبنَا قد جَاءَ الْقَوْم فَيَقُول مرْحَبًا بالصادقين مرْحَبًا بالطائعين
قَالَ فَيكْشف لَهُم الْحجاب فَيَنْظُرُونَ إِلَى الله تبَارك وَتَعَالَى فيتمتعون بِنور الرَّحْمَن حَتَّى لَا ينظر بَعضهم بَعْضًا ثمَّ يَقُول أرجعوهم إِلَى الْقُصُور بالتحف فيرجعون وَقد أبْصر بَعضهم بَعْضًا فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَذَلِك قَوْله نزلا من غَفُور رَحِيم فصلت 23
رَوَاهُ أَبُو نعيم وَالْبَيْهَقِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَقَالَ وَقد مضى فِي هَذَا الْكتاب يَعْنِي فِي كتاب الْبَعْث وَفِي كتاب الرُّؤْيَة مَا يُؤَكد مَا رُوِيَ فِي هَذَا الْخَبَر انْتهى
وَهُوَ عِنْد ابْن مَاجَه وَابْن أبي الدُّنْيَا مُخْتَصر قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بَينا أهل الْجنَّة فِي نعيمهم إِذْ سَطَعَ لَهُم نور فَرفعُوا رؤوسهم فَإِذا الرب جلّ جَلَاله قد أشرف عَلَيْهِم من فَوْقهم فَقَالَ السَّلَام عَلَيْكُم يَا أهل الْجنَّة وَهُوَ قَوْله عز وَجل سَلام قولا من رب رَحِيم يس 85 فَلَا يلتفتون إِلَى شَيْء مِمَّا هم فِيهِ من النَّعيم مَا داموا ينظرُونَ إِلَيْهِ حَتَّى يحتجب عَنْهُم وَتبقى فيهم بركته ونوره
هَذَا لفظ ابْن مَاجَه وَالْآخر بِنَحْوِهِ
قَالَ رضائي أحلكم دَاري وأنالكم كَرَامَتِي وَهَذَا أوانها فسلوني قَالُوا نَسْأَلك الزِّيَادَة قَالَ
فيؤتون بنجائب من ياقوت أَحْمَر أزمتها من زمرد أَخْضَر وَيَاقُوت أَحْمَر فيحملون عَلَيْهَا تضع حوافرها عِنْد مُنْتَهى طرفيها فيأمر الله عز وَجل بأشجار عَلَيْهَا الثِّمَار فتجيء جوَار من الْحور الْعين وَهن يقلن نَحن الناعمات فَلَا نبأس وَنحن الخالدات فَلَا نموت أَزوَاج قوم مُؤمنين كرام وَيَأْمُر الله عز وَجل بكثبان من مسك أَبيض أذفر فينثر عَلَيْهِم ريحًا يُقَال لَهَا المثيرة حَتَّى تَنْتَهِي بهم إِلَى جنَّة عدن وَهِي قَصَبَة الْجنَّة فَتَقول الْمَلَائِكَة يَا رَبنَا قد جَاءَ الْقَوْم فَيَقُول مرْحَبًا بالصادقين مرْحَبًا بالطائعين
قَالَ فَيكْشف لَهُم الْحجاب فَيَنْظُرُونَ إِلَى الله تبَارك وَتَعَالَى فيتمتعون بِنور الرَّحْمَن حَتَّى لَا ينظر بَعضهم بَعْضًا ثمَّ يَقُول أرجعوهم إِلَى الْقُصُور بالتحف فيرجعون وَقد أبْصر بَعضهم بَعْضًا فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَذَلِك قَوْله نزلا من غَفُور رَحِيم فصلت 23
رَوَاهُ أَبُو نعيم وَالْبَيْهَقِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَقَالَ وَقد مضى فِي هَذَا الْكتاب يَعْنِي فِي كتاب الْبَعْث وَفِي كتاب الرُّؤْيَة مَا يُؤَكد مَا رُوِيَ فِي هَذَا الْخَبَر انْتهى
وَهُوَ عِنْد ابْن مَاجَه وَابْن أبي الدُّنْيَا مُخْتَصر قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بَينا أهل الْجنَّة فِي نعيمهم إِذْ سَطَعَ لَهُم نور فَرفعُوا رؤوسهم فَإِذا الرب جلّ جَلَاله قد أشرف عَلَيْهِم من فَوْقهم فَقَالَ السَّلَام عَلَيْكُم يَا أهل الْجنَّة وَهُوَ قَوْله عز وَجل سَلام قولا من رب رَحِيم يس 85 فَلَا يلتفتون إِلَى شَيْء مِمَّا هم فِيهِ من النَّعيم مَا داموا ينظرُونَ إِلَيْهِ حَتَّى يحتجب عَنْهُم وَتبقى فيهم بركته ونوره
هَذَا لفظ ابْن مَاجَه وَالْآخر بِنَحْوِهِ