আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২৬. অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা

হাদীস নং: ৫৭৮০
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা'আলার প্রতি জান্নাতবাসীদের দৃষ্টিপাতের বর্ণনা
৫৭৮০. হযরত হুযায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জিব্রীল আমার কাছে এলেন। দেখি, তাঁর হাতে একটি আয়না, যেন সেটি আয়নার জগতে সবচেয়ে স্বচ্ছ ও সবচেয়ে সুন্দর। আরও দেখি, তার মাঝে রয়েছে একটি কালো দাগ। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে জিবরীল। এটা কি উত্তরে তিনি বললেন, এটা দুনিয়ার স্বচ্ছতা ও সৌন্দর্য। তিনি বলেন, আমি বললাম, তবে তার মাঝে এই কালো দাগটি কিসের? তিনি বললেন, এটা জুমু'আর দিন। তিনি বলেন, আমি বললাম, জুমু'আ কি? তিনি বললেন, আপনার প্রতিপালকের দিনসমূহ থেকে একটি মহান দিন। এক্ষুণি আমি আপনাকে তার মর্যাদা, ফযীলত ও দুনিয়া ও আখিরাতে তার ব্যবহৃত নাম সম্পর্কে অবহিত করব। তার মর্যাদা ফযীলত ও দুনিয়ায় ব্যবহৃত তার নামের কারণ হচ্ছে এই যে, আল্লাহ্ তা'আলা এদিন সৃষ্টি কার্য সম্পূর্ণ করেছেন এবং এদিন এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যখন কোন মুসলমান পুরুষ অথবা মুসলমান নারী সে মুহূর্তে আল্লাহর কাছে কোন কল্যাণের দু'আ করে, তাকে আল্লাহ্ তা'আলা তা দান করেন। আর পরকালে তার মর্যাদা, ফযীলত ও নামের কারণ এই যে, যখন আল্লাহ্ তা'আলা জান্নাতীদেরকে জান্নাতের দিকে পাঠাবেন, জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন এবং আখিরাতের কাল ও সময় তাদের উপর আবর্তিত হবে, সেখানে কোন রাত বা দিন থাকবে না। কেবল আল্লাহই দিনের পরিমাণ ও সময় জানবেন, সে সময় যখন জুমু'আর দিনের সে মুহূর্ত হবে যখন জুমু'আর সালাত আদায়কারীগন জুমু'আর জন্য বের হয়, তখন একজন ঘোষক ডেকে বলবে, হে জান্নাতবাসীগণ। তোমরা 'দারুল মাযীদ'-এ যাও, যার প্রশস্ততা, প্রস্থ ও দৈর্ঘ্য আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কেউ জানে না। তখন তারা মেশকের টিলায় যাবে। হুযায়ফা (রা) বলেন, নিশ্চয় সেই মেশক তোমাদের এই মেশকের চেয়ে অধিক সাদা হবে। তিনি বলেন, এরপর নবীদের ভৃত্যগণ নূরের মিম্বর নিয়ে বের হবে এবং মু'মিনদের ভৃত্যগণ চুনির কুরসী নিয়ে বের হবে। তিনি বলেন, যখন সেগুলো তাদের জন্য স্থাপন করা হবে এবং লোকজন তাদের নিজনিজ গ্রহণ করবে তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপর এমন এক মলয় প্রবাহ করবেন, যাকে 'মুসীরা' বলা হবে। সে বায়ু প্রবাহ তাদের উপর সাদা মেশকের ধূলো ছড়িয়ে দেবে, তাদের কাপড়ের নিচ থেকে মেশক ঢুকিয়ে দেবে এবং তাদের চেহারা ও চুলের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেবে। সে বায়ু প্রবাহ সেই মেশক কিভাবে ব্যবহার করবে, সে ব্যাপারে সে তোমাদের যে কোন ব্যক্তির স্ত্রীর চেয়ে অধিক অবগত হবে। যদি সে তার স্ত্রীকে ভূপৃষ্ঠের সমস্ত সুগন্ধিটুকু প্রবাহ আল্লাহ্ তা'আলার আদেশে উক্ত মহিলার চেয়ে অধিক অবগত হবে, যদি তাকে এ সুগন্ধি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এরপর আল্লাহ্ তা'আলা আরশ বহনকারী ফিরিশতাদের কাছে ওহী প্রেরণ করবেন। ফলে জান্নাতের সামনে আরশ স্থাপন করা হবে। তাঁর ও জান্নাতবাসীদের মাঝে থাকবে অনেক পর্দা। জান্নাতবাসীগণ তাঁর কাছ থেকে যে কথাটি সর্বপ্রথম শুনবে, তা হবে এই যে, তিনি বলবেন, কোথায়
আমার সে সব বান্দা, যারা গায়বের বিশ্বাসে আমার আনুগত্য করেছে, অথচ তারা আমাকে দেখে নি এবং আমার রাসূলগণকে বিশ্বাস করেছে, আমার হুকুম পালন করেছে। সুতরাং তোমরা আমার কাছে প্রার্থনা কর। আজ ইয়াওমুল মাযীদ' (অধিক অনুগ্রহের দিন)। তিনি বলেন, তখন তারা সমস্বরে বলে উঠবেঃ প্রভু। আমরা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছি, সুতরাং আপনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। তিনি বলেন, তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের কথার সূত্র ধরে বলবেন যে, জান্নাতবাসীগণ। যদি আমি তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট না হতাম, তবে আমি তোমাদেরকে আমার জান্নাতে প্রবেশ করাতাম না। সুতরাং তোমরা আমার কাছে প্রার্থনা কর। কেনানা, আজ 'ইয়াওমুল মাযীদ' (অধিক অনুগ্রহের দিন)।
তিনি বলেন, তখন তারা সমস্বরে বলে উঠবে। আমাদের প্রতিপালক। আমাদেরকে আপনার চেহারার দীদার নসীব করুন। আমরা তা দর্শন করব তিনি বলেন, তখন আল্লাহ্ তা'আলা সেসব পর্দা তুলে দেবেন এবং তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন। ফলে তাঁর কিঞ্চিৎ নূর তাদেরকে ঢেকে ফেলবে। যদি তাদের ব্যাপারে পূর্ব ফয়সালা না থাকত যে, তারা পুড়বে না। তবে তাঁর নূর তাদেরকে ঢেকে ফেলার কারণে তারা পুড়ে যেত। তিনি বলেন, এরপর তাদেরকে বলা হবে, তোমরা তোমাদের আবাসস্থলে ফিরে যাও। তিনি বলেন, অতঃপর তারা তাদের আবাসস্থলে এমতাবস্থায় ফিরে যাবে যে, আল্লাহ তা'আলার নূর তাদেরকে ঢেকে ফেলার কারণে তারা তাদের স্ত্রীদের কাছে অদৃশ্য থাকবে এবং স্ত্রীগণ তাদের কাছে অদৃশ্য থাকবে। যখন তারা তাদের আবাসস্থলে পৌঁছবে তখন নূর পেছনে সরে যাবে এবং স্থির হয়ে যাবে। ফলে তারা তাদের সে আকৃতিতে ফিরে আসবে, যে আকৃতিতে তারা পূর্বে ছিল।
তিনি বলেন, তখন তাদের স্ত্রীগণ তাদেরকে বলবে, তোমরা আমাদের নিকট থেকে একটি আকৃতি নিয়ে বের হচ্ছে এবং ভিন্ন আকৃতি নিয়ে ফিরে এসেছ? তিনি বলেন, তারা বলবে, এটা এ কারণে যে, আল্লাহ তা'আলা আমাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করেছেন, তখন আমরা তাঁর সেই নূরের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছি, যার ফলে আমরা তোমাদের কাছে অদৃশ্য হয়ে গেছি। তিনি বলেন, প্রতি সাতদিন অন্তর অন্তর তারা যে অবস্থায় ছিল, তার দ্বিগুণ নিয়ামত তাদেরকে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এটাই আল্লাহ্ তা'আলার এ বাণীর অর্থ : فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
তাদের চোখ জুড়ানোর কি উপাদান গোপন রাখা হয়েছে।" (৩২ঃ১৭)
(বাযযার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي نظر أهل الْجنَّة إِلَى رَبهم تبَارك وَتَعَالَى
5780- وَرُوِيَ عَن حُذَيْفَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَتَانِي جِبْرِيل فَإِذا كَفه مرْآة كأصفى المرايا وأحسنها وَإِذا فِي وَسطهَا نُكْتَة سَوْدَاء قَالَ قلت يَا جِبْرِيل مَا هَذِه قَالَ هَذِه الدُّنْيَا صفاؤها وحسنها
قَالَ قلت وَمَا هَذِه اللمْعَة السَّوْدَاء فِي وَسطهَا قَالَ هَذِه الْجُمُعَة قَالَ قلت وَمَا الْجُمُعَة قَالَ يَوْم من أَيَّام رَبك عَظِيم وسأخبرك بشرفه وفضله واسْمه فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة أما شرفه وفضله واسْمه فِي الدُّنْيَا فَإِن الله تبَارك وَتَعَالَى جمع فِيهِ أَمر الْخلق وَأما مَا يُرْجَى فِيهِ فَإِن فِيهِ سَاعَة لَا يُوَافِقهَا عبد مُسلم أَو أمة مسلمة يسألان الله فِيهَا خيرا إِلَّا أعطاهما إِيَّاه وَأما شرفه وفضله واسْمه فِي الْآخِرَة فَإِن الله تَعَالَى إِذا صير أهل الْجنَّة إِلَى الْجنَّة وَأدْخل أهل النَّار النَّار وَجَرت عَلَيْهِم أَيَّامهَا وساعاتها
لَيْسَ بهَا ليل وَلَا نَهَار إِلَّا قد علم الله مِقْدَار ذَلِك وساعاته فَإِذا كَانَ يَوْم الْجُمُعَة فِي الْحِين الَّذِي يبرز أَو يخرج فِيهِ أهل الْجُمُعَة إِلَى جمعتهم نَادَى مُنَاد يَا أهل الْجنَّة اخْرُجُوا إِلَى دَار الْمَزِيد لَا يعلم سعتها وعرضها وطولها إِلَّا الله عز وَجل فَيخْرجُونَ فِي كُثْبَان من الْمسك
قَالَ حُذَيْفَة وَإنَّهُ لَهو أَشد بَيَاضًا من دقيقكم هَذَا قَالَ فَيخرج غلْمَان الْأَنْبِيَاء بمنابر من نور وَيخرج غلْمَان الْمُؤمنِينَ بكراسي من ياقوت
قَالَ فَإِذا وضعت لَهُم وَأخذ الْقَوْم مجَالِسهمْ بعث الله تبَارك وَتَعَالَى عَلَيْهِم ريحًا تدعى المثيرة تثير عَلَيْهِم أثابير الْمسك الْأَبْيَض فتدخله من تَحت ثِيَابهمْ وتخرجه فِي وُجُوههم وأشعارهم فَتلك الرّيح أعلم كَيفَ تصنع بذلك الْمسك من امْرَأَة أحدكُم لَو دفع إِلَيْهَا كل طيب على وَجه الأَرْض لكَانَتْ تِلْكَ الرّيح أعلم كَيفَ تصنع بذلك الْمسك من تِلْكَ الْمَرْأَة لَو دفع إِلَيْهَا ذَلِك الطّيب بِإِذن الله عز وَجل
قَالَ ثمَّ يوحي الله سُبْحَانَهُ إِلَى حَملَة الْعَرْش فَيُوضَع بَين ظهراني الْجنَّة وَبَينه وَبينهمْ الْحجب فَيكون أول مَا يسمعُونَ مِنْهُ أَن يَقُول أَيْن عبَادي الَّذين أطاعوني بِالْغَيْبِ وَلم يروني وَصَدقُوا رُسُلِي وَاتبعُوا أَمْرِي فسلوني فَهَذَا يَوْم الْمَزِيد
قَالَ فيجتمعون على كلمة وَاحِدَة رب رَضِينَا عَنْك فارض عَنَّا
قَالَ فَيرجع الله تَعَالَى فِي قَوْلهم أَن يَا أهل الْجنَّة إِنِّي لَو لم أَرض عَنْكُم لما أسكنتكم جنتي فسلوني فَهَذَا يَوْم الْمَزِيد
قَالَ فيجتمعون على كلمة وَاحِدَة رب وَجهك أرنا نَنْظُر إِلَيْهِ
قَالَ فَيكْشف الله تبَارك وَتَعَالَى تِلْكَ الْحجب ويتجلى لَهُم فيغشاهم من نوره شَيْء لَوْلَا أَنه قضى عَلَيْهِم أَن لَا يحترقوا لَاحْتَرَقُوا مِمَّا غشيهم من نوره
قَالَ ثمَّ يُقَال لَهُم ارْجعُوا إِلَى مَنَازِلكُمْ
قَالَ فيرجعون إِلَى مَنَازِلهمْ وَقد خفوا على أَزوَاجهم وخفين عَلَيْهِم مِمَّا غشيهم من نوره تبَارك وَتَعَالَى فَإِذا صَارُوا إِلَى مَنَازِلهمْ ترَاد النُّور وَأمكن حَتَّى يرجِعوا إِلَى صورهم الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا
قَالَ فَتَقول لَهُم أَزوَاجهم لقد خَرجْتُمْ من عندنَا على صُورَة وَرَجَعْتُمْ على غَيرهَا قَالَ فَيَقُولُونَ ذَلِك بِأَن الله تبَارك وَتَعَالَى تجلى لنا فَنَظَرْنَا مِنْهُ إِلَى مَا خفينا بِهِ عَلَيْكُم
قَالَ فَلهم فِي كل سَبْعَة أَيَّام الضعْف على مَا كَانُوا
قَالَ وَذَلِكَ قَوْله عز وَجل فَلَا تعلم نفس مَا أُخْفِي لَهُم من قُرَّة أعين جَزَاء بِمَا كَانُوا يعْملُونَ السَّجْدَة 71
رَوَاهُ الْبَزَّار
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান