মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
৭. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ৭৩০
নামাযের অধ্যায়
(৩) পরিচ্ছেদঃ শেষ তাশাহহুদের পর নবী করীম (সা) ও তাঁর পরিজনদের উপর দরূদ পাঠ প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদীসসমূহ
(৭২৬) আবূ মাসউদ উকবাহ ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের উপস্থিতিতে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট এসে তাঁর সম্মুখে বসলেন এবং বললেন, হে রাসূল! আপনার উপর সালাম (পাঠের নিয়াম) আমরা জেনেছি। তবে সালাতের মধ্যে যদি দুরূদ পাঠ করতে চাই তাহলে কিভাবে আপনার উপর দুরূদ পাঠ করবো? (আল্লাহ আপনার উপর মেহেরবানী করুন।) রাসূলুল্লাহ (সা) একথা শুনে চুপ রইলেন। এমন কি আমরা আক্ষেপ করতে লাগলাম যে, লোকটি যদি তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস না করতো। (তাহলে খুবই ভাল হত) । এরপর রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন যখন তোমরা আমার উপর দরূদ পাঠ করবে তখন বলো:
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِى الْأُمِّىِّ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدِ النَّبِيِّ الْأُمِّىِّ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيْدٌ
(দ্বিতীয় সুত্রে তাঁর থেকে বর্ণিত) তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা)-কে বলা হল, হে রাসূল! আপনার উপর কিভাবে দুরূদ পাঠ করবো? তিনি বললেন- তোমরা বলবেঃ)
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ فِي العَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ
(ইবনে হিব্বান, দারাকুতনী, বায়হাকী, হাকিম ও ইবন খুযাইমা, দারাকুতনী হাদীসটিকে আহসান এবং হাকিম ও বাইহাকী সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন।)
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِى الْأُمِّىِّ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدِ النَّبِيِّ الْأُمِّىِّ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيْدٌ
(দ্বিতীয় সুত্রে তাঁর থেকে বর্ণিত) তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা)-কে বলা হল, হে রাসূল! আপনার উপর কিভাবে দুরূদ পাঠ করবো? তিনি বললেন- তোমরা বলবেঃ)
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ فِي العَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ
(ইবনে হিব্বান, দারাকুতনী, বায়হাকী, হাকিম ও ইবন খুযাইমা, দারাকুতনী হাদীসটিকে আহসান এবং হাকিম ও বাইহাকী সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন।)
كتاب الصلاة
3 - باب ما جاء في الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم عقب التشهد الأخير وكذا آله
(730) عن أبي مسعود عقبة بن عمرو رضي الله تبارك وتعالى عنه قال: أقبل رجل (1) حتى جلس بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن عنده فقال: يا رسول الله أما السلام عليك فقد عرفناه (2) فكيف نصلي عليك إذا نحن صلينا في صلاتنا صلى الله عليك؟ قال: فصمت رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أحببنا أن الرجل لم يسأله (3) فقال: إذا أنتم صليتم عليّ فقولوا: اللهم صل على محمد (4) النبي الأمي وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم وآل إبراهيم (1) وبارك على محمد (2) النبي الأمي كما باركت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد (3).
وعنه من طريق ثان (4) قال: قيل: يا رسول الله كيف نصلي عليك؟ فقال: قولوا: اللهم صل على محمد وعلى آل محمد، وبارك على محمد وعلى آل محمد، كما باركت على إبراهيم في العالمين، إنك حميد مجيد.
وعنه من طريق ثان (4) قال: قيل: يا رسول الله كيف نصلي عليك؟ فقال: قولوا: اللهم صل على محمد وعلى آل محمد، وبارك على محمد وعلى آل محمد، كما باركت على إبراهيم في العالمين، إنك حميد مجيد.
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত আবূ মাসউদ আনসারী (রা) বর্ণিত এ হাদীছের তাবারীর রিওয়ায়াতে এতটুকু বাড়তি আছে যে, যখন বশীর ইবনে সা'আদ (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-কে প্রশ্ন করলেন যে, আমরা আপনার প্রতি কিভাবে সালাত প্রেরণ করবো, তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ কিছুক্ষণ নিরুত্তর রইলেন। এমন কি তাঁর প্রতি ওহী অবতীর্ণ হলো: (فسكت حتى جاءه الوحي) তারপর তিনি উক্তরূপ দরূদ শিক্ষা দেন। এ বাড়তি অংশ দ্বারা জানা গেল যে, তাঁর চুপ থাকাটা ওহীর অপেক্ষায় ছিল। আর এটাও জানা গেল যে, দরূদ শরীফের কালিমাসমূহ তাঁকে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকেই শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল। উপরন্তু উক্ত হাদীস থেকে এও জানা গেল যে, দরূদ সংক্রান্ত এ প্রশ্নটি সর্বপ্রথম তাঁকে হযরত সা'আদ ইবনে উবাদার মজলিসেই করা হয়েছিল, যার জবাবের জন্যে তাঁকে ওহীর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। অন্যান্য কোন কোন সাহাবী (কা'আব ইব্ন উজরা এবং আবূ হুমায়দ সায়েদী প্রমুখ) গণের রিওয়ায়াতে এরূপ যে সব প্রশ্নের উল্লেখ রয়েছে, তা হয় এ মজলিসেরই ঘটনার বিবরণ, না হয় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জন রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে এ প্রশ্ন করে থাকবেন এবং তিনি জবাবে তাঁদেরকে দরূদ শরীফের সে সব কালিমা শিক্ষা দিয়েছেন, যা তাঁদের রিওয়ায়াতে বর্ণিত হয়েছে। অধিকাংশ হাদীসের পূর্বাপর দৃষ্টে এবং তাঁদের বর্ণিত শব্দমালার তারতম্য দেখে মনে হয় এই দ্বিতীয়োক্ত সম্ভাবনাই বেশি। আল্লাহই সমধিক জ্ঞাত।
হযরত আবূ সাঈদ আনসারীর এ হাদীসের ইমাম আহমদ, ইব্ন খুযায়মা, হাকিম প্রমুখের রিওয়ায়াতে একটি বাড়তি ব্যাপার হচ্ছে এই যে, বশীর ইবনে সা'আদ (রা) দরূদ প্রেরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলেছিলেন:
كَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ إِذَا نَحْنُ صَلَّيْنَا عَلَيْكَ فِي صَلَوَاتِنَا
"আমরা সালাত আদায়কালে আপনার প্রতি কিভাবে দরূদ পাঠ করবো।"
এর দ্বারা জানা গেল যে, বিশেষত সালাত আদায়কালীন দরূদ পাঠ সম্পর্কেই তাঁকে প্রশ্নটি করা হয়েছিল এবং এ দরূদে ইবরাহীমই বিশেষত সালাতের মধ্যে পাঠের উদ্দেশ্যেই রাসূলুল্লাহ ﷺ শিক্ষা দিয়েছিলেন।
হযরত আবূ মাসউদ আনসারীর এ রিওয়ায়াতেও আবূ হুমায়দ সায়েদী (রা)-এর মত كَمَا صَلَّيْتَ كَمَا بَارَكْتَ এর পর কেবল عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ রিওয়ায়াত করা হয়েছে এবং সর্বশেষে إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ এর পূর্বে فِي الْعَالَمِينَ শব্দের বাড়তি সংযোজন রয়েছে।
হযরত আবূ সাঈদ আনসারীর এ হাদীসের ইমাম আহমদ, ইব্ন খুযায়মা, হাকিম প্রমুখের রিওয়ায়াতে একটি বাড়তি ব্যাপার হচ্ছে এই যে, বশীর ইবনে সা'আদ (রা) দরূদ প্রেরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলেছিলেন:
كَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ إِذَا نَحْنُ صَلَّيْنَا عَلَيْكَ فِي صَلَوَاتِنَا
"আমরা সালাত আদায়কালে আপনার প্রতি কিভাবে দরূদ পাঠ করবো।"
এর দ্বারা জানা গেল যে, বিশেষত সালাত আদায়কালীন দরূদ পাঠ সম্পর্কেই তাঁকে প্রশ্নটি করা হয়েছিল এবং এ দরূদে ইবরাহীমই বিশেষত সালাতের মধ্যে পাঠের উদ্দেশ্যেই রাসূলুল্লাহ ﷺ শিক্ষা দিয়েছিলেন।
হযরত আবূ মাসউদ আনসারীর এ রিওয়ায়াতেও আবূ হুমায়দ সায়েদী (রা)-এর মত كَمَا صَلَّيْتَ كَمَا بَارَكْتَ এর পর কেবল عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ রিওয়ায়াত করা হয়েছে এবং সর্বশেষে إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ এর পূর্বে فِي الْعَالَمِينَ শব্দের বাড়তি সংযোজন রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)