মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৩১৩
নামাযের অধ্যায়
৪। অনুচ্ছেদ: জামা'আতের সালাত বিশেষত ইশা এবং ফজরের জামা'আতে অংশগ্রহণে বিমুখ ব্যক্তির ওপর কঠোরতা আরোপ প্রসঙ্গে
(১৩০৯) উক্ত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, মুনাফিকের জন্য সর্বাপেক্ষা কঠিন সালাত হচ্ছে ইশার ও ফজরের সালাত। যদি তারা জানতো এতদুভয়ের মাঝে কি আছে, তবে তারা অবশ্যই উক্ত সালাতদ্বয়ে (জামা'আতে), হামাগুড়ি দিয়ে হলেও হাযির হতো। আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি মুয়াযযিনকে নির্দেশ দিই সে আযান (ইকামত) দিবে, অতঃপর আরেকজনকে নির্দেশ দিই সে সালাতের ইমামতি করবে, এরপর আমি কিছু মানুষ যাদের নিকটে খড়ির বোঝা থাকবে তাদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ি, যারা জামাতে হাযির হয় নি এমন জনগোষ্ঠীর বাড়ীঘর আগুনে জ্বালিয়ে দিই।
(বুখারী ও মুসলিম।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما جاء فى التشديد على من تخلف عن الجماعة خصوصا العشاء والفجر
(1313) وعنه أيضًا قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أثقل الصلَّاة على المنافقين صلاةى العشاء وصلاة الفجر، ولو يعلمون ما فيهما لأتوهما ولو حبوًا ولقد هممت أن آمر المؤذَّن فيؤذَّن آمر رجلًا يصلَّى بالنَّاس ثمَّ أنطلق معى برجالٍ معهم حزم الحطب إلى قومٍ يتخلَّفون عن الصَّلاة فأخرِّق عليهم بيوتهم بالنَّار

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আল্লাহু আকবার! রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যামানায় যে সকল লোক জামা'আতে সালাত আদায় করত না, তিনি তাদের বিরুদ্ধে কী কঠিন সতর্ক বাণী ও ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রভাবময়ী বাণী আরো স্পষ্টরূপে হযরত উসামা (রা) থেকে ইবনে মাজাহ শরীফে বর্ণিত আছে। এতে ইরশাদ হয়েছে: "লোকদের জামা'আত বর্জন করা থেকে বিরত থাকা উচিত নতুবা অবশ্যই আমি তাদের ঘর জ্বালিয়ে ছারখার করে দেব।" (কানযুল উম্মাল, ইবনে মাজার বরাতে) রাসূলুল্লাহ ﷺ সে সকল জামা'আত বর্জনকারীদের ব্যাপারে এহেন কঠিন ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, তারা হয়ত আকীদার দিক থেকে ছিল মুনাফিক নতুবা কার্যের দিক থেকে ছিল (বে-আমল) মুনাফিক। জামা'আত বর্জন কারীদের সম্পর্কেই ছিল তাঁর এহেন ধমক ও ভীতি প্রদর্শন। এই কথার ভিত্তিতে কিছু সংখ্যক ইমাম (এ যাঁদের মধ্যে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (র)ও রয়েছেন) বলেন, সক্ষম ব্যক্তিদের জামা'আতে সালাত আদায় করা ফরয। অর্থাৎ তাঁদের মতে সালাত যেমন ফরয, তদ্রূপ জামা'আতে সালাত আদায়ও একটি পৃথক ফরয এবং জামা'আত বর্জনকারী একটি ফরযে আঈনের বর্জনকারী। কিন্তু প্রাজ্ঞ হানাফী আলিমগণ জামা'আত সংক্রান্ত সকল হাদীস সামনে রেখে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, জামা'আতে সালাত আদায় করা ওয়াজিব এবং তার বর্জনকারী একজন গুনাহগার। উপরে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ভাষণে মূলত এক ধরনের সতর্কবাণী ও ধমক দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা সর্বজ্ঞ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ - হাদীস নং ১৩১৩ | মুসলিম বাংলা