মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
পানীয় অধ্যায়
হাদীস নং: ৮০
পানীয় অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: যে সব পাত্রে নাবীয তৈরী করা নিষেধ এবং এ বিধান রহিত হওয়া প্রসঙ্গ।
৮০। সা'ঈদ ইবন জুবায়র (র) সূত্রে ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কদুর খোলস, মটকা, খেজুর গাছের গোড়া এবং আলকাতরাযুক্ত পাত্র হতে এবং কাঁচা পাকা খেজুর একত্রে মিশিয়ে নাবীয তৈরী করতে নিষেধ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হে ইবন আব্বাস! যদি কোন ব্যক্তি সবুজ মটকায়- যা কাঁচপাত্রের ন্যায়-নাবীয তৈরী করে রাত্রে পান করে নেয় তবে এটা কেমন মনে করেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদেরকে যা হতে নিষেধ করেছেন তা হতে কি তোমরা বিরত থাকবে না?
(হাদীসটি মুসলিম ও নাসাঈ সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।)
(হাদীসটি মুসলিম ও নাসাঈ সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الأشربة
باب الأوعية المنهى عن الانتباذ فيها ونسخ تحريم ذلك
عن سعيد بن جبير عن ابن عباس (3) قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الدباء والحنتم والنقير والمزفت وأن يخلط البلح بالزهو (4) قال قلت يا ابن عباس أرأيت الرجل يجعل نبيذه فى جرة خضراء كأنها قارورة (5) ويشربه من الليل؟ فقال ألا تنتهوا عما نهاكم عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
খেজুর, মুনাক্কা অথবা আঙ্গুর কিংবা এ জাতীয় কোন জিনিস যদি পানিতে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং এতক্ষণ পড়ে থাকে যে, এর স্বাদ ও মিষ্টতা পানিতে এসে যায়, কিন্তু নেশার অবস্থা সৃষ্টি না হয়, তাহলে এ পানিকে 'নবীয' বলে। আরবদের মধ্যে এরও প্রচলন ছিল এবং কোন কোন হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ও এটা পান করতেন।
এ হাদীসে যে চার প্রকার পাত্রে নবীয বানাতে নিষেধ করা হয়েছে, এগুলো সাধারণত মদ তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হত। 'দুব্বা' লাউয়ের শুকনো খোলকে বলা হয়। 'হানতাম' ও 'মুযাফফাত' বিশেষ ধরনের কলসকে বলা হয়। আর 'নকীর' খেজুর গাছের কাঠ দিয়ে তৈরী এক ধরনের পাত্র। যাহোক, এ চার প্রকার পাত্রই সাধারণত মদ তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হত। যখন মদের চূড়ান্ত হারাম হওয়ার বিধান আসল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব পাত্রে নবীয তৈরী করতেও নিষেধ করে দিলেন। সম্ভবত এ নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য এই ছিল যে, এই পাত্রসমূহ মদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অন্তরে যেন এর খাহেশ সৃষ্টি করে না দেয়। তারপর যখন মদের প্রতি ঘৃণা অন্তরে পূর্ণরূপে স্থান করে নিল এবং এ আশংকা আর বাকী রইল না যে, এ পাত্রসমূহ মদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এর চাহিদা ও আকর্ষণ অন্তরে সৃষ্টি করে দিবে, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব পাত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে দিয়েছিলেন।
এ হাদীসে যে চার প্রকার পাত্রে নবীয বানাতে নিষেধ করা হয়েছে, এগুলো সাধারণত মদ তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হত। 'দুব্বা' লাউয়ের শুকনো খোলকে বলা হয়। 'হানতাম' ও 'মুযাফফাত' বিশেষ ধরনের কলসকে বলা হয়। আর 'নকীর' খেজুর গাছের কাঠ দিয়ে তৈরী এক ধরনের পাত্র। যাহোক, এ চার প্রকার পাত্রই সাধারণত মদ তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হত। যখন মদের চূড়ান্ত হারাম হওয়ার বিধান আসল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব পাত্রে নবীয তৈরী করতেও নিষেধ করে দিলেন। সম্ভবত এ নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য এই ছিল যে, এই পাত্রসমূহ মদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অন্তরে যেন এর খাহেশ সৃষ্টি করে না দেয়। তারপর যখন মদের প্রতি ঘৃণা অন্তরে পূর্ণরূপে স্থান করে নিল এবং এ আশংকা আর বাকী রইল না যে, এ পাত্রসমূহ মদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এর চাহিদা ও আকর্ষণ অন্তরে সৃষ্টি করে দিবে, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব পাত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে দিয়েছিলেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)