মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়

হাদীস নং: ২৬১
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: 'হে রাসূল! তোমাকে যেন দুঃখ না দেয় যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়... তারাই ফাসিক।
২৬১। উক্ত আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, মহান আল্লাহর বাণী। আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুসারে যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফির... তারাই যালিম ... তারাই ফাসিক"(১) এ প্রসঙ্গে বর্ণনাকারী বলেন, 'আব্দুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) বলেছেন, এ আয়াতসমূহ আল্লাহ তায়ালা ইয়াহুদীদের দু'টি গোত্রকে উপলক্ষ্য করে নাজিল করেছেন। জাহিলী যুগে তাদের একটি গোত্র অপরটির ওপর খবরদারী করত, এক পর্যায়ে তারা মেনে নিল ও চুক্তি করল যে, যে প্রসিদ্ধ গোত্র (বনু নাযীর) এর কোন ব্যক্তি যদি দূর্বল গোত্র (বনু কুরাইযা)-এর কোন ব্যক্তিকে হত্যা করে তবে তার রক্তমূল্য হচ্ছে পঞ্চাশ ওসাক। আর দূর্বল গোত্রের কোন ব্যক্তি যদি সবল গোত্রের কোন ব্যক্তিকে হত্যা করে তবে তার রক্তমূল্য হচ্ছে একশত ওসাক। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় আগমন করার পূর্ব পর্যন্ত তারা এ প্রথা পালনে অভ্যস্ত ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আগমনে উভয় পক্ষই তার বশ্যতা স্বীকার করল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উভয়ের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপন করিয়ে দিলেন কিন্তু তাদের একগোত্রের ওপর অপর গোত্রের প্রাধান্য এবং রক্তঋণের ব্যাপারে তাদের প্রথার বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পরিজ্ঞাত হয়নি। কয়েকদিন পর দূর্বল গোত্রের কোন এক ব্যক্তি সবল গোত্রের কোন এক ব্যক্তিকে হত্যা করল, তখন সবল গোত্র দূর্বল গোত্রের নিকট একশত ওসক রক্তঋণ দাবী করল। তখন দূর্বল গোত্র বলল, ঐ বৈষম্য কি এ দু'গোত্রের মধ্যে স্থায়ী হবে? অথচ তাদের দ্বীন এক, তাদের নবী একজন এবং তাদের দেশ একটি। তাদের এক গোত্রের রক্তঋণ অপরগোত্রের অর্ধেক। আমরা তোমাদেরকে এটা দিয়েছি যুলুমের শিকার হয়ে এবং তোমাদের ভয়ে ভীত হয়ে। অতএব, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন এসে পড়েছেন তখন আমরা তোমাদেরকে আর এ সুযোগ দিব না। এভাবে তাদের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর উপক্রম হল। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তাদের মধ্যস্থতাকারী মানতে সম্মত হল। তাদের মধ্যে জনৈক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে স্মরণ করা হলে তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! তোমরা তাদেরকে যা দিয়াত হিসাবে দিয়ে থাকো তার দ্বিগুণ তারা তোমাদেরকে দিয়াত হিসেবে দিবে- মুহাম্মদ এটা কিছুতেই মেনে নিবেন না। তারা ঠিকই বলেছে, তারা আমাদেরকে এটা দেয় যুলুমের শিকার হয়ে এবং আমাদের ক্ষমতার ভয়ে ভীত হয়ে। তাই তোমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গোয়েন্দা প্রেরণ কর যে তোমাদেরকে তার অভিমত জানাতে পারবে। তোমরা যা চাও তিনি যদি তা দেয়ার পক্ষে হয় তাহলে তোমরা তাঁকে ফয়সালাকারী মানবে, আর তিনি যদি তোমাদের স্বার্থ পূরণ না করেন তাহলে তোমরা তাকে ফয়সালাকারী মানবে না। তখন তারা কয়েকজন মুনাফিককে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট প্রেরণ করলো যাতে তারা তাদেরকে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর অভিমত জানাতে পারে। অতঃপর তারা যখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসল, তখন মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলকে তাদের ব্যাপারে ও তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সাবিস্তারে জানিয়ে দিলেন, মহান আল্লাহ নাজিল করেন, 'হে রাসুল! তোমাকে যেন দুঃখ না দেয় যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়। যারা মুখে বলে ঈমান আনয়ন করেছি... আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিদাদ দেয় না, তারাই ফাসিক।(১) বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর কসম, এ আয়াতসমূহ তাদেরকে লক্ষ্য করেই নাজিল হয়েছে, আল্লাহ এভাবে সুস্পষ্ট করে দিলেন।
(আবু দাউদ, নাসাঈ)
টিকা: ১. আল-কুরআন, ০৫: ৪৪,৪৫,৪৭।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ০৫:৪১-৪৭।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب يا أيها الرسول لا يحزنك الذين يسارعون في الكفر إلى قوله (ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الفاسقون)
وعنه أيضا أن الله عز وجل أنزل (ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الكافرون وأولئك هم الظالمون وأولئك هم الفاسقون) قال قال ابن عباس أنزلها الله في الطائفتين من اليهود وكانت احداهما قد قهرت الأخرى في الجاهلية حتى ارتضوا واصطلحوا على أن كل قتيل قتله العزيزة (5) من الذليلة فديته خمسون وسقا وكل قتيل قتله الذليلة من العزيزة فديته مائة وسق فكانوا على ذلك حتى قدم النبي صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم فذلت الطائفتان كلتاهما لمقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم ويومئذ لم يظهر (6) ولم يوطئهما عليه وهو في الصلح فقتلت الذليلة (1) من العزيزة قتيلا فأرسلت العزيزة إلى الذليلة أن ابعثوا الينا بمائة وسق فقالت الذليلة وهل كان هذا في حيين قط دينهما واحد ونبيهما واحد وبلدهما واحد؟ دية بعضها نصف دية بعض إنا انما أعطيناكم هذا ضيما (2) منكم لنا وفرقا منكم فأما إذ قدم محمد فلا نعطينكم ذلك فكادت الحرب تهيج بينهم ثم ارتضوا أن يجعلوا رسول الله صلى الله عليه وسلم بينهم (3) ثم ذكرت العزيزة فقالت والله ما محمد بمعطيكم منهم ضعف ما يعطيهم منكم (4) ولقد صدقوا ما أعطونا هذا إلا ضيما منا وقهرا لهم فدسوا الى محمد من يخبر لكم رأيه أن أعطاكم ما تريدون حكمتموه وان لم يعطكم حذرتم فلم تحكموه (5) فدسوا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ناسا من المنافقين ليخبروا لهم رأي رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم أخبر الله رسوله بأمرهم كله وما أرادوا فأنزل الله عز وجل (يا أيها الرسول لا يحزنك الذين يسارعون إلى الكفر من الذين قالوا آمنا - إلى قوله - ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الفاسقون) (6) ثم قال فيها والله نزلت واياهما عنى الله عز وجل
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান