মা'আরিফুল হাদীস

হজ্ব অধ্যায়

হাদীস নং: ১৫৫
হজ্ব অধ্যায়
মীকাত
১৫৫. হযরত জাবের রাযি. সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: মদীনাবাসীদের মীকাত হচ্ছে 'যুলহুলায়ফা' অন্য পথে (অর্থাৎ, শামের পথে গেলে) 'জুহফা', ইরাকবাসীদের মীকাত হচ্ছে 'যাতে ইরক', নজদবাসীদের মীকাত হচ্ছে 'কারনুল মানাযিল', আর ইয়ামানবাসীদের মীকাত হচ্ছে 'ইয়ালামলাম'। -মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ جَابِرٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ : « مُهَلُّ أَهْلِ الْمَدِينَةِ ، مِنْ ذِي الْحُلَيْفَةِ ، وَالطَّرِيقُ الْآخَرُ الْجُحْفَةُ ، وَمُهَلُّ أَهْلِ الْعِرَاقِ مِنْ ذَاتِ عِرْقٍ ، وَمُهَلُّ أَهْلِ نَجْدٍ مِنْ قَرْنٍ ، وَمُهَلُّ أَهْلِ الْيَمَنِ مِنْ يَلَمْلَمَ » (رواه مسلم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এক হাদীসে কেবল চারটি মীকাতের উল্লেখ রয়েছে। (১) যুল হুলায়ফা, (২) জুহফা, (৩) কারনুল মানাযিল, (৪) ইয়ালামলাম। আর হযরত জাবের বর্ণিত এ হাদীসে পঞ্চম মীকাত হিসাবে 'যাতে ইরক' এরও উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটাকে ইরাকবাসীদের মীকাত বলা হয়েছে। দু'টি রেওয়ায়াতের মধ্যে আরেকটি সামান্য পার্থক্য এও রয়েছে যে, প্রথম রেওয়ায়াতে জুহফাকে শামবাসীদের মীকাত বলা হয়েছে, আর অপর বর্ণনায় এটাকে অন্য পথে আগমনকারীদের মীকাত বলা হয়েছে- যার অর্থ বাহ্যত এই যে, মদীনাবাসীরাও যদি অন্য পথে (অর্থাৎ, জুহফার পথ ধরে) মক্কা শরীফ যায়, তাহলে তারা জুহফা থেকেও ইহরাম বাঁধতে পারে। আর তাদের ছাড়া অন্য এলাকার যেসব লোক যেমন, শামবাসীরা যদি জুহফার দিক থেকে আসে, তাহলে তারাও জুহফা থেকেই ইহরাম বাঁধবে। কোন কোন হাদীস ব্যাখ্যাতা অন্য পথে আগমনকারী দ্বারা শামবাসীদেরকেই উদ্দেশ্য করেছেন। এ অর্থ গ্রহণ করলে উভয় রেওয়ায়াতের মধ্যে কেবল ভাষা ও শব্দের পার্থক্য থাকবে। যাহোক, এ পাঁচটি স্থান হচ্ছে নির্ধারিত ও সর্বসম্মত মীকাত। যেসব এলাকার জন্য এগুলোকে মীকাত নির্ধারণ করা হয়েছিল, এগুলো মক্কা আগমনকারীদের পথে পড়ত। এসব স্থানের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এই:

যুল হুলায়ফা: এটা মদীনাবাসীদের মীকাত। মদীনা শরীফ থেকে মক্কা মুকাররামা যাওয়ার পথে মাত্র ৫/৬ মাইলের মাথায় পড়ে। এটা মক্কা শরীফ থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী মীকাত। এখান থেকে মক্কা শরীফ প্রায় ২০০ মাইল; বরং আজকালকার পথে প্রায় ২৫০ মাইল।

যেহেতু মদীনাবাসীর দ্বীনের সাথে বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে, এজন্য তাদের মীকাতও এত দূরত্বে নির্ধারণ করা হয়েছে। কেননা, দ্বীনের ক্ষেত্রে যার মর্যাদা যত বেশী তাকে কষ্টও তত বেশী করতে হয়।

জুহফা: এটা শাম ইত্যাদি পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা থেকে আগত লোকদের মীকাত। এটা বর্তমানে 'রাবেগ'-এর নিকটবর্তী একটি জনপদ ছিল। বর্তমানে এ নামের কোন জনপদ নেই। তবে এতটুকু জানা যায় যে, এর অবস্থান বাবেগের কাছেই ছিল, যা মক্কা শরীফ থেকে প্রায় ১০০ মাইল দূরে পশ্চিম দিকে সমুদ্র তীরের কাছে অবস্থিত।

কারনুল মানাযিল: এটা নজদ অঞ্চলের দিক থেকে আগমনকারীদের মীকাত। মক্কা শরীফ থেকে প্রায় ৩০/৩৫ মাইল পূর্ব দিকে নজদগামী রাস্তার উপর এটি একটি ছোট পাহাড়।

যাতে ইরক: এটা ইরাক থেকে আগমনকারীদের মীকাত। মক্কা শরীফ থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে ইরাকগামী রাস্তার উপর অবস্থিত। এর দূরত্ব মক্কা শরীফ থেকে প্রায় ৫০ মাইলের মত।

ইয়ালামলাম: এটা ইয়ামানের দিক থেকে আগমনকারী লোকদের মীকাত। এটা তিহামার পাহাড়সমূহের মধ্যে একটি প্রসিদ্ধ পাহাড়- যা মক্কা শরীফ থেকে প্রায় ৪০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে ইয়ামান থেকে মক্কাগামী রাস্তায় পড়ে।

উপরের দু'টি হাদীস মারফত আগেই জানা গিয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ পাঁচটি স্থানকে এগুলোর অধিবাসীদের জন্য এবং অন্যান্য এলাকার ঐসব লোকদের জন্য- যারা হজ্ব অথবা উমরার উদ্দেশ্যে এসব স্থান অতিক্রম করে আসবে, তাদের জন্য মীকাত নির্ধারণ করেছেন। উম্মতের ফকীহদের এ কথার উপর এজমা ও ঐকমত্য রয়েছে যে, যে ব্যক্তি হজ্ব অথবা উমরার জন্য এসব স্থানের যে কোন একটি দিয়ে আসবে, তার জন্য এটা জরুরী যে, সে ইহরাম বেঁধে এ স্থান থেকে সামনে অগ্রসর হবে। ইহরাম বাঁধার অর্থ ও এর নিয়ম-পদ্ধতি এইমাত্র উল্লেখ করে আসা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান