মা'আরিফুল হাদীস
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
হাদীস নং: ৬৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
সূরা বাকারার শেষের আয়াতসমূহ
৬৭. আয়ফা' ইব্ন আব্দ কালাঈ থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে আরয করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কুরআনের সবচাইতে বেশি মাহাত্ম্যপূর্ণ সূরা কোনটি? জবাবে তিনি বললেন, কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। তারপর ঐ ব্যক্তি আবার প্রশ্ন করলো কুরআন শরীফের সর্বাধিক মাহাত্ম্যপূর্ণ আয়াত কোনটি? জবাবে তিনি বললেনঃ আয়াতুল কুরসী اللّٰهُ لا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ ঐ ব্যক্তি পুনরায় প্রশ্ন করলোঃ কুরআনের কোন্ আয়াতটির ব্যাপারে আপনি আশা করেন যে, তার উপকার আপনার এবং আপনার উম্মতের কাছে পৌছবে? জবাবে তিনি বললেন, সূরা বাকারার শেষ আয়াতসমূহ آمَنَ الرَّسُوْلُ থেকে শেষ পর্যন্ত। তারপর তিনি বললেন, এ আয়াতগুলো আল্লাহ তা'আলার রহমত ও তাঁর বিশেষ ভাণ্ডারের সম্পদরাশি, যা তাঁর আরশের তলদেশে রক্ষিত। আল্লাহ তা'আলা এ রহমতের আয়াতগুলি এ উম্মতকে দান করেছেন। ইহলোক ও পরলোকের তাবৎ মঙ্গল এর মধ্যে নিহিত রয়েছে।
(দারেমী)
(দারেমী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَيْفَعَ بْنِ عَبْدِ الْكَلَاعِي، قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَأَيُّ سُورَةِ الْقُرْآنِ أَعْظَمُ؟ قَالَ: «قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ». قَالَ: فَأَيُّ آيَةٍ فِي الْقُرْآنِ أَعْظَمُ؟ قَالَ: " آيَةُ الْكُرْسِيِّ {اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ} ". قَالَ: فَأَيُّ آيَةٍ يَا نَبِيَّ اللَّهِ تُحِبُّ أَنْ تُصِيبَكَ وَأُمَّتَكَ؟ قَالَ: «خَاتِمَةُ سُورَةِ الْبَقَرَةِ، فَإِنَّهَا مِنْ خَزَائِنِ رَحْمَةِ اللَّهِ تَعَالَى، مِنْ تَحْتِ عَرْشِهِ، أَعْطَاهَا هَذِهِ الْأُمَّةَ، لَمْ تَتْرُكْ خَيْرًا مِنْ خَيْرِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ إِلَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ» (رواه الدارمى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কুল হুয়াল্লাহু আহাদ ও আয়াতুল কুরসীর মাহাত্ম্য ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে উপরে আলোচিত হয়েছে। সূরা বাকারার শেষ আয়াতসমূহ সম্পর্কে হাদীসে যে বলা হয়েছে, এটা আল্লাহ তা'আলার বিশেষ রহমতের ভাণ্ডারের সম্পদ, তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। শুরুতে آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ থেকে لا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْ رُّسُلِهِ পর্যন্ত ঈমানের শিক্ষা বিবৃত হয়েছে। তারপর سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا এর মধ্যেও আনুগত্যের অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। তারপর رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيْرُ অংশে সে সব ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অপরাধের ক্ষমা ও মার্জনার প্রার্থনা রয়েছে যা ঈমান ও আনুগত্যের অঙ্গীকারের পরও বান্দা দ্বারা সংঘটিত হয়ে যায় তারপর لا يُكَلِّفُ اللّٰهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا তে দুর্বল বান্দাদেরকে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে এবং তাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার উপর এমন কোন বোঝা চাপানো হয় না, যা তার সাধ্যাতীত। তারপর رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا থেকে শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত ব্যাপক অর্থবোধক দুয়া বান্দাকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে এ আয়াতগুলো এমনিতেই আল্লাহর রহমতের ভাণ্ডার স্বরূপ। আল্লাহ তা'আলা এগুলোর মূল্যায়ন করার এবং তা থেকে উপকৃত হওয়ার তাওফীক দান করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)