মা'আরিফুল হাদীস

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়

হাদীস নং: ১০১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
দু'আ কবুলের বিশেষ বিশেষ হাল ও ক্ষণ-কাল
১০১. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট থেকে শুনেছি, রাত্রের মধ্যে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, ঐ সময় বান্দা আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের যে মঙ্গলই প্রার্থনা করুক না কেন আল্লাহ তাকে তা দিয়ে দেন। আর এটা কোন বিশেষ রাতের জন্যে নির্দিষ্ট নয়; বরং প্রতি রাতেই আল্লাহর এ দান অবারিত থাকে। -(মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «إِنَّ فِي اللَّيْلِ لَسَاعَةً لَا يُوَافِقُهَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ، يَسْأَلُ اللهَ خَيْرًا مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ، وَذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ» (رواه مسلم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বর্ণিত ঐ হাদীসটি (মাআরিফুল হাদীস-এর তৃতীয় খণ্ডে) তাহাজ্জুদ প্রসঙ্গে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের বরাতে উদ্ধৃত হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে:
যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকী থাকে তখন আল্লাহ তা'আলা দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ হন এবং স্বয়ং তাঁর পক্ষ থেকে ধ্বনিত হয়ঃ আছো কোন যাচ্ঞাকারী যাকে আমি দান করবো? আছো কোন মার্জনা প্রার্থী, যাকে আমি দান করবো? আছো কেউ প্রার্থনাকারী - যার প্রার্থনা আমি বঞ্জুর করবো?

এ হাদীসের আলোকে সুনির্ধারিত ভাবে চিহ্নিত হয়ে যায় যে, হযরত জাবির (রা) বর্ণিত হাদীসে প্রতিটি রাতের যে বিশেষ সময়টিকে কবুলিয়তের সময় বলে অভিহিত করা হয়েছে, তা ঐ রাতের শেষ তৃতীয়াংশের মধ্যেই রয়েছে। আল্লাহই সমধিক জ্ঞাত।

উপরোক্ত হাদীস সমূহে দু'আ কবুলের যে বিশেষ বিশেষ অবস্থা ও দিন-ক্ষণের কথা বলা হয়েছে সেগুলো হলো:
১. ফরয সালাত সমূহের পর।
২. কুরআন শরীফ খতমের পর।
৩. আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে।
৪. জিহাদের ময়দানে যুদ্ধের সময়টিতে।
৫. রহমতের বৃষ্টিধারা বর্ষণের সময়।
৬. কা'বা শরীফ দর্শনের সময়।
৭. বিরাণ প্রান্তরে, যেখানে আল্লাহ ছাড়া দেখার মত কেউ নেই, এমন স্থানে নামায় পড়ে দু'আ করলে।
৮. জিহাদের ময়দানে যখন দুর্বল সাথীরা পর্যন্ত রণভঙ্গ দিয়ে পালায়।
৯. রাতের শেষ প্রহরে।

ঐ সমস্ত হাদীস ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে, যেগুলোতে দু'আ কবুলের দিন- ক্ষণ হিসাবে আরো কয়েকটি বিশেষ বিশেষ দিনকালের কথা উল্লেখিত হয়েছে।
সেগুলো হচ্ছে:
* শবে কদরে
* আরাফাত দিবসে আরাফাত প্রান্তরে
* জুমার দিন বিশেষ সময়ে
* রোযার ইফতারের সময়ে
* হজের সফর কালে
* জিহাদের সফর কালে
* রুগ্নাবস্থায়
* মুসাফির থাকা অবস্থায়
দু'আ সমূহ কবুল হওয়ার বিশেষ আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তবে এ কথাটি স্মর্তব্য যে, দু'আ মানে কেবল দু'আর শব্দ সমূহ এবং কেবল তার সূরত সমূহই নয়, বরং তার হাকীকত বা মর্মকথা হচ্ছে তাই যা পূর্বে উক্ত হয়েছে। চারাগাছ কেবল সেই বীজ থেকেই অঙ্কুরিত হয়, যাতে মগজ বা সারবস্তু থাকে। অনুরূপ পরবর্তী হাদীস সমূহ থেকেও দু'আসমূহ কবুল হওয়ার অর্থ বুঝে নিতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান