মা'আরিফুল হাদীস
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
হাদীস নং: ১৫১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
মজলিস থেকে উঠাকালীন দু'আ
১৫১. হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন আমর ইবনুল 'আস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, এমন কয়েকটি কালিমা আছে, কোন বান্দা যদি মজলিস থেকে প্রস্থানকালে ঐগুলি ইখলাসের সাথে তিনবার পাঠ করে নেয়, তাহলে সেগুলি তার ঐ মজলিসের কাফফারা স্বরূপ হয়ে যায়। আর ঐ কালিমাগুলি যদি কোন উত্তম মজলিস বা যিকিরের মজলিসের শেষে পাঠ করা হয়, তা হলে ঐগুলির দ্বারা ঐ মজলিসের আমলনামায় মোহর অঙ্কিত করে দেয়া হয়- যেমনটি মোহরাঙ্কিত করা হয় গুরুত্বপূর্ণ দলীল-দস্তাবেজের উপর। সে কালিমাগুলো হচ্ছেঃ
سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ لَا اِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ اَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ.
"হে আল্লাহ! তোমার পবিত্রতা ও তোমার স্তব-স্তুতি বর্ণনা করছি, তুমি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তোমারই দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমারই সমীপে তাওবা করছি।"
-(আবূ দাউদ)
سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ لَا اِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ اَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ.
"হে আল্লাহ! তোমার পবিত্রতা ও তোমার স্তব-স্তুতি বর্ণনা করছি, তুমি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তোমারই দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমারই সমীপে তাওবা করছি।"
-(আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " كَلِمَاتٌ لَا يَتَكَلَّمُ بِهِنَّ أَحَدٌ فِي مَجْلِسِهِ عِنْدَ قِيَامِهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ إِلَّا كُفِّرَ بِهِنَّ عَنْهُ، وَلَا يَقُولُهُنَّ فِي مَجْلِسِ خَيْرٍ وَمَجْلِسِ ذِكْرٍ إِلَّا خُتِمَ لَهُ بِهِنَّ عَلَيْهِ كَمَا يُخْتَمُ بِالْخَاتَمِ عَلَى الصَّحِيفَةِ: سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ " (رواه ابوداؤد)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কত মুখতাসার অথচ ব্যাপক অর্থবোধক এ দু'আটি। এতে আল্লাহ তা'আলার পবিত্রতা ও স্তব-স্তুতির বর্ণনা যেমন রয়েছে, তেমনি আছে তাঁর একত্বের সাক্ষ্য এবং গুনাহসমূহ থেকে তাওবা ও ইস্তিগফার। আল্লাহর কোন কোন মকবুল বান্দাকে দেখার সুযোগ হয়েছে, তাঁরা কিছুক্ষণ পর পরই বিশেষত কোন প্রসঙ্গে কথাবার্তা শেষেই অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে-যা তাঁদের সে সময়ের চেহারার অভিব্যক্তি এবং আওয়ায থেকেই সুস্পষ্ট অনুভূত হতো- এ কালিমাগুলো এমনভাবে উচ্চারণ করতেন যে, শ্রোতাদের অন্তরে পর্যন্ত তা রেখাপাত করতো।
নিঃসন্দেহে এ কালিমাগুলো অর্থ ও বিন্যাসের দিক থেকে এমনি তাৎপর্যপূর্ণ যে, বান্দা যদি ইখলাসের সাথে তা আল্লাহর দরবারে নিবেদন করে তাহলে তাঁর রহমত ও করুণার দৃষ্টি তার দিকে পতিত না হয়ে যায় না। এ কালিমাগুলোও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বিশেষ উপঢৌকন। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে এগুলোর মূল্য অনুধাবনের এবং এথেকে উপকৃত হওয়ার তাওফীক দান করুন!
নিঃসন্দেহে এ কালিমাগুলো অর্থ ও বিন্যাসের দিক থেকে এমনি তাৎপর্যপূর্ণ যে, বান্দা যদি ইখলাসের সাথে তা আল্লাহর দরবারে নিবেদন করে তাহলে তাঁর রহমত ও করুণার দৃষ্টি তার দিকে পতিত না হয়ে যায় না। এ কালিমাগুলোও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বিশেষ উপঢৌকন। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে এগুলোর মূল্য অনুধাবনের এবং এথেকে উপকৃত হওয়ার তাওফীক দান করুন!
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)