মা'আরিফুল হাদীস
আযকার এবং দোয়া অধ্যায়
হাদীস নং: ১৬৮
আযকার এবং দোয়া অধ্যায়
সফরকালে কোন মঞ্জিলে অবতরণের দু'আ
১৬৮. হযরত খাওলা বিনতে হাকীম (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তার সফরকালে কোন মঞ্জিলে অবতরণ করে এরূপ দু'আ করে:
أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
"আমি আল্লাহর পূর্ণ কালিমাসমূহের পানাহ নিচ্ছি তার অকল্যাণকর সৃষ্টিকূল থেকে।” তাহলে ঐ মঞ্জিল থেকে তার নির্গমন পর্যন্ত কোন কিছু তার অনিষ্ট করতে পারবে না।
-(সহীহ্ মুসলিম)।
أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
"আমি আল্লাহর পূর্ণ কালিমাসমূহের পানাহ নিচ্ছি তার অকল্যাণকর সৃষ্টিকূল থেকে।” তাহলে ঐ মঞ্জিল থেকে তার নির্গমন পর্যন্ত কোন কিছু তার অনিষ্ট করতে পারবে না।
-(সহীহ্ মুসলিম)।
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ خَوْلَةَ بِنْتَ حَكِيمٍ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " مَنْ نَزَلَ مَنْزِلًا ثُمَّ قَالَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ، حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْ مَنْزِلِهِ. (رواه مسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সফরকালে কোনও স্থানে যাত্রাবিরতি দিলে অথবা কোথাও অতিথি হলে কিংবা সফরের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে আলোচ্য হাদীছে বর্ণিত দুআটি পড়া উচিত। কেননা যে-কোনও স্থানেই ক্ষতিকর কোনওকিছু থাকার আশঙ্কা থাকে। ক্ষতির আশঙ্কা থাকে যেমন মানুষের পক্ষ থেকে, তেমনি থাকে সাপ-বিচ্ছু বা অন্য কোনও জীবজন্তুর পক্ষ থেকেও। তাছাড়া জিন ও শয়তানের পক্ষ থেকেও ক্ষতির ভয় থাকে। নতুন জায়গায় নতুন পরিবেশে সে ভয় আরও বেশি থাকে। আবার নতুন পরিবেশে নতুন কোনওকিছু দেখার কারণে নিজ নফসের পক্ষ থেকে কুমন্ত্রণাও দেখা দিতে পারে। মোটকথা যে-কোনও রকমের ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য এ দুআটি কার্যকর। দু'আটিতে বলা হয়েছে-
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ (আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের আশ্রয় গ্রহণ করছি)। কালেমা মানে কথা ও বাণী। কারও কারও মতে আল্লাহর কালেমা দ্বারা কুরআন মাজীদ বোঝানো উদ্দেশ্য। ইমাম নববী সহ অনেকে এরকম ব্যাখ্যাই করেছেন। ইমাম যুরকানী রহ.-এর মতে এর দ্বারা আল্লাহ তা'আলার নামসমূহ ও তাঁর মহান গুণাবলি বোঝানো হয়েছে। التّامَّاتِ (পরিপূর্ণ)-এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, আল্লাহর কালেমা, তা কুরআন মাজীদই হোক বা আল্লাহ তা'আলার নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলি হোক, তা এমনই পরিপূর্ণ যে, তাতে কোনও ত্রুটিবিচ্যুতি নেই এবং কোনওরকম ত্রুটি দেখা দেওয়ারও অবকাশ নেই। কেউ বলেন, পরিপূর্ণ দ্বারা পরিপূর্ণ উপকারী বোঝানো হয়েছে।
مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ (তিনি যা-কিছু সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে)। অর্থাৎ তাঁর যে-কোনও সৃষ্টির ভেতর যে-কোনও রকমেরই অনিষ্ট ও ক্ষতি রয়েছে, তা থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করছি, যাতে আল্লাহ সেই ক্ষতি থেকে আমাকে রক্ষা করেন।
প্রকাশ থাকে যে, কুরআন মাজীদ আল্লাহর কালাম। আর আল্লাহর কালাম তাঁর গুণ। দু'আটিতে কালেমা দ্বারা কুরআন মাজীদ বোঝানো হোক বা আল্লাহ তা'আলার নাম ও তাঁর গুণাবলি বোঝানো হোক, সর্বাবস্থায় এর আশ্রয় গ্রহণ দ্বারা মূলত আল্লাহ তা'আলারই আশ্রয় গ্রহণ করা হয়। কেননা আল্লাহ তা'আলার গুণ তাঁর থেকে আলাদা কিছু নয়। সরাসরি আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণও করা যেতে পারত, যেমন কোনও কোনও দু'আয় সরাসরি আল্লাহরই আশ্রয় গ্রহণ করা হয়েছে। তবে তাঁর কালেমা বা গুণাবলির আশ্রয় গ্রহণ দ্বারা একরকমে তাঁর প্রশংসা করা হয়। প্রশংসার সাথে দুআ করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। সে হিসেবে যে দু'আয় আল্লাহ তা'আলার কালেমাসমূহের উল্লেখ আছে, তা দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করাটা অধিকতর ফলপ্রসূ হবে বলে আশা রাখা যায়। যা হোক, হাদীছটিতে সুসংবাদ শোনানো হয়েছে যে, কোনও মঞ্জিলে পৌঁছে এ দুআ পড়লে সেখানে যতক্ষণ পর্যন্ত অবস্থান করা হবে, ততক্ষণ সবরকম ক্ষতি থেকে হেফাজত হবে।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. বান্দার উচিত সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা'আলার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকা।
খ. যে-কোনও স্থানে মাখলুকের ক্ষতি থেকে আত্মরক্ষার জন্য বাহ্যিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আল্লাহ তা'আলার আশ্রয়ও গ্রহণ করা উচিত।
গ. আল্লাহ তা'আলার বহু মাখলুক এমনও আছে, যাদের ভেতর মানুষের পক্ষে ক্ষতির কোনও দিক আছে। সেগুলো সৃষ্টির রহস্য আল্লাহ তা'আলাই ভালো জানেন।।
ঘ. ক্ষতিকর মাখলুক থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করার দ্বারা একরকম ইবাদতও হয়ে যায়। কেননা দুআ তো ইবাদতই। ক্ষতিকর মাখলুকের ভেতর বান্দার পক্ষে এটা একধরনের উপকার বটে।
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ (আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের আশ্রয় গ্রহণ করছি)। কালেমা মানে কথা ও বাণী। কারও কারও মতে আল্লাহর কালেমা দ্বারা কুরআন মাজীদ বোঝানো উদ্দেশ্য। ইমাম নববী সহ অনেকে এরকম ব্যাখ্যাই করেছেন। ইমাম যুরকানী রহ.-এর মতে এর দ্বারা আল্লাহ তা'আলার নামসমূহ ও তাঁর মহান গুণাবলি বোঝানো হয়েছে। التّامَّاتِ (পরিপূর্ণ)-এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, আল্লাহর কালেমা, তা কুরআন মাজীদই হোক বা আল্লাহ তা'আলার নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলি হোক, তা এমনই পরিপূর্ণ যে, তাতে কোনও ত্রুটিবিচ্যুতি নেই এবং কোনওরকম ত্রুটি দেখা দেওয়ারও অবকাশ নেই। কেউ বলেন, পরিপূর্ণ দ্বারা পরিপূর্ণ উপকারী বোঝানো হয়েছে।
مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ (তিনি যা-কিছু সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে)। অর্থাৎ তাঁর যে-কোনও সৃষ্টির ভেতর যে-কোনও রকমেরই অনিষ্ট ও ক্ষতি রয়েছে, তা থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করছি, যাতে আল্লাহ সেই ক্ষতি থেকে আমাকে রক্ষা করেন।
প্রকাশ থাকে যে, কুরআন মাজীদ আল্লাহর কালাম। আর আল্লাহর কালাম তাঁর গুণ। দু'আটিতে কালেমা দ্বারা কুরআন মাজীদ বোঝানো হোক বা আল্লাহ তা'আলার নাম ও তাঁর গুণাবলি বোঝানো হোক, সর্বাবস্থায় এর আশ্রয় গ্রহণ দ্বারা মূলত আল্লাহ তা'আলারই আশ্রয় গ্রহণ করা হয়। কেননা আল্লাহ তা'আলার গুণ তাঁর থেকে আলাদা কিছু নয়। সরাসরি আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণও করা যেতে পারত, যেমন কোনও কোনও দু'আয় সরাসরি আল্লাহরই আশ্রয় গ্রহণ করা হয়েছে। তবে তাঁর কালেমা বা গুণাবলির আশ্রয় গ্রহণ দ্বারা একরকমে তাঁর প্রশংসা করা হয়। প্রশংসার সাথে দুআ করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। সে হিসেবে যে দু'আয় আল্লাহ তা'আলার কালেমাসমূহের উল্লেখ আছে, তা দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করাটা অধিকতর ফলপ্রসূ হবে বলে আশা রাখা যায়। যা হোক, হাদীছটিতে সুসংবাদ শোনানো হয়েছে যে, কোনও মঞ্জিলে পৌঁছে এ দুআ পড়লে সেখানে যতক্ষণ পর্যন্ত অবস্থান করা হবে, ততক্ষণ সবরকম ক্ষতি থেকে হেফাজত হবে।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. বান্দার উচিত সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা'আলার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকা।
খ. যে-কোনও স্থানে মাখলুকের ক্ষতি থেকে আত্মরক্ষার জন্য বাহ্যিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আল্লাহ তা'আলার আশ্রয়ও গ্রহণ করা উচিত।
গ. আল্লাহ তা'আলার বহু মাখলুক এমনও আছে, যাদের ভেতর মানুষের পক্ষে ক্ষতির কোনও দিক আছে। সেগুলো সৃষ্টির রহস্য আল্লাহ তা'আলাই ভালো জানেন।।
ঘ. ক্ষতিকর মাখলুক থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করার দ্বারা একরকম ইবাদতও হয়ে যায়। কেননা দুআ তো ইবাদতই। ক্ষতিকর মাখলুকের ভেতর বান্দার পক্ষে এটা একধরনের উপকার বটে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)