মা'আরিফুল হাদীস
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
হাদীস নং: ২০২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
নতুন চাঁদ দেখা কালীন দু'আ
২০২. হযরত কাতাদা (রহ) বর্ণনা করেন যে, তাঁর কাছে এ রিওয়ায়াত পৌছেছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন নতুন চাঁদ দেখতেন তখন তিনবার বলতেন هِلاَلُ خَيْرٍ وَرُشْدٍ “খায়র ও বরকত এবং হিদায়াতের চাঁদ।”
তারপর তিনি তিনবার বলতেন : آمَنْتُ بِالَّذِي خَلَقَكَ - "আমার ঈমান রয়েছে সেই আল্লাহর প্রতি, যিনি তোকে সৃষ্টি করেছেন।"
তারপর বলতেনঃ
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي ذَهَبَ بِشَهْرِ كَذَا وَجَاءَ بِشَهْرِ كَذَا -
"সমস্ত প্রশংসা ও শুকরিয়া সেই আল্লাহর যাঁর হুকুমে অমুক মাস খতম হলো এবং অমুক মাস শুরু হলো।"
-(সুনানে আবূ দাউদ)
তারপর তিনি তিনবার বলতেন : آمَنْتُ بِالَّذِي خَلَقَكَ - "আমার ঈমান রয়েছে সেই আল্লাহর প্রতি, যিনি তোকে সৃষ্টি করেছেন।"
তারপর বলতেনঃ
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي ذَهَبَ بِشَهْرِ كَذَا وَجَاءَ بِشَهْرِ كَذَا -
"সমস্ত প্রশংসা ও শুকরিয়া সেই আল্লাহর যাঁর হুকুমে অমুক মাস খতম হলো এবং অমুক মাস শুরু হলো।"
-(সুনানে আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ قَتَادَةُ أَنَّ النَّبِيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا رَأَى الْهِلَالَ قَالَ: «هِلَالُ خَيْرٍ وَرُشْدٍ، هِلَالُ خَيْرٍ وَرُشْدٍ، هِلَالُ خَيْرٍ وَرُشْدٍ، آمَنْتُ بِالَّذِي خَلَقَكَ» ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ يَقُولُ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي ذَهَبَ بِشَهْرِ كَذَا، وَجَاءَ بِشَهْرِ كَذَا. (رواه ابوداؤد)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
নতুন চাঁদ দেখা কালীন পড়বার এটি আরেকটি দু'আ। এর দ্বারা বুঝা গেল যে, নতুন চাঁদ দেখলে রাসূলুল্লাহ ﷺ কখনো প্রথমোক্ত দু'আটি করতেন, আবার কখনো এই দ্বিতীয়োক্ত দু'আটি করতেন।
তিনবার هِلاَلُ خَيْرٍ وَرُشْدٍ (খায়র ও বরকত এবং হিদায়তের চাঁদ) বলার তাৎপর্য সম্ভবত এই যে, অনেকে কোন কোন মাসকে অশুভ জ্ঞান করে থাকে। তাদের ধারণা, এ সব মাসে কোন মঙ্গল মিহিত নেই। দু'আর এ বাক্য দ্বারা সে কুসংস্কার ও অলীক ধারণার প্রতিবাদ করে এ কথা বলাই উদ্দিষ্ট ছিল যে, প্রতিটি মাসেই খায়র বরকত বা কল্যাণ নিহিত রয়েছে। আল্লাহর সৃষ্ট কোন মাসই অশুভ বা বরকতশূন্য নয়। (اَمَنْتُ بِالَّذِي خَلَقَكَ) সেই আল্লাহর প্রতি আমি ঈমান এনেছি, যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন বলে তিনি এ বিভ্রান্ত মুশরিকানা ধারণার উপর আঘাত হানতেন যে, চাঁদ নিজেই একটি উপাস্য দেবতা।
এ হাদীসের রাবী কাতাদা সম্ভবত কাতাদা ইবনে দাআমা সাদূসী তাবেয়ী। তিনি এ হাদীসটি কোন সাহাবীর মুখে শুনে থাকবেন। কোন কোন তাবেয়ী এবং তাবে তাবেয়ী এরূপ রাবীর নাম উল্লেখ না করে হাদীস রিওয়ায়াত করতেন এবং এরূপ বলতেন যে আমার নিকট এরূপ হাদীস পৌঁছেছে। মুহাদ্দিসীনদের পরিভাষায় এরূপ হাদীসকে (بلاغات) বালাগাত বলা হয়ে থাকে। ইমাম মালিক (রা) এর মুআত্তায় এরূপ ভুরি ভুরি হাদীস রয়েছে।
তিনবার هِلاَلُ خَيْرٍ وَرُشْدٍ (খায়র ও বরকত এবং হিদায়তের চাঁদ) বলার তাৎপর্য সম্ভবত এই যে, অনেকে কোন কোন মাসকে অশুভ জ্ঞান করে থাকে। তাদের ধারণা, এ সব মাসে কোন মঙ্গল মিহিত নেই। দু'আর এ বাক্য দ্বারা সে কুসংস্কার ও অলীক ধারণার প্রতিবাদ করে এ কথা বলাই উদ্দিষ্ট ছিল যে, প্রতিটি মাসেই খায়র বরকত বা কল্যাণ নিহিত রয়েছে। আল্লাহর সৃষ্ট কোন মাসই অশুভ বা বরকতশূন্য নয়। (اَمَنْتُ بِالَّذِي خَلَقَكَ) সেই আল্লাহর প্রতি আমি ঈমান এনেছি, যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন বলে তিনি এ বিভ্রান্ত মুশরিকানা ধারণার উপর আঘাত হানতেন যে, চাঁদ নিজেই একটি উপাস্য দেবতা।
এ হাদীসের রাবী কাতাদা সম্ভবত কাতাদা ইবনে দাআমা সাদূসী তাবেয়ী। তিনি এ হাদীসটি কোন সাহাবীর মুখে শুনে থাকবেন। কোন কোন তাবেয়ী এবং তাবে তাবেয়ী এরূপ রাবীর নাম উল্লেখ না করে হাদীস রিওয়ায়াত করতেন এবং এরূপ বলতেন যে আমার নিকট এরূপ হাদীস পৌঁছেছে। মুহাদ্দিসীনদের পরিভাষায় এরূপ হাদীসকে (بلاغات) বালাগাত বলা হয়ে থাকে। ইমাম মালিক (রা) এর মুআত্তায় এরূপ ভুরি ভুরি হাদীস রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)