মা'আরিফুল হাদীস

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়

হাদীস নং: ২১৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
ব্যাপক অর্থবোধক বিভিন্নমুখী দু'আসমূহ
২১৩. হযরত আবদুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ দু'আতে এরূপ বলতেন:

رَبِّ أَعِنِّي وَلَا تُعِنْ عَلَيَّ وَانْصُرْنِي وَلَا تَنْصُرْ عَلَيَّ وَاهْدِنِي وَيَسِّرِ الْهُدَى لِي وَانْصُرْنِي عَلَى مَنْ بَغَى عَلَيَّ رَبِّ اجْعَلْنِي لَكَ شَكَّارًا لَكَ ذَكَّارًا لَكَ وَهَّابًا لَكَ مِطْوَاعًا لَكَ مُخْبِتًا إِلَيْكَ أَوَّاهًا مُنِيبًا. رَبِّ تَقَبَّلْ تَوْبَتِي وَاغْسِلْ حَوْبَتِي وَأَجِبْ دَعْوَتِي وَثَبِّتْ حُجَّتِي وَسَدِّدْ لِسَانِي وَاسْلُلْ سَخِيْمَةَ صَدْرِي

-"হে আল্লাহ্! আমাকে সাহায্য কর, আমার বিরুদ্ধে (আমার শত্রুদেরকে) সাহায্য করো না, আমার মদদ ও সহযোগিতা কর, আমার বিরুদ্ধে আমার শত্রুদের সহায়ক হয়ো না, তোমার সূক্ষ্ম চাল আমার স্বপক্ষে চালো, আমার বিপক্ষে চালো না।
আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত কর এবং হিদায়াতের পথে চলা আমার জন্যে সহজসাধ্য করে দাও, যে কেউ আমার উপর যুলুম বা বাড়াবাড়ি করে, তার বিরুদ্ধে আমাকে মদদ কর! হে আল্লাহ! আমাকে তোমার অতি কৃতজ্ঞ বান্দা বানাও! তোমার বহুল পরিমাণে যিকিরকারী বান্দা বানাও! তোমার প্রতি অন্তরে ভীতি পোষণকারী বান্দা বানাও। তোমার একান্ত অনুগত বান্দা বানাও! তোমার প্রতি কাকুতি-মিনতিকারী বান্দা বানাও তোমারই দিকে রুজুকারী ও প্রত্যাবর্তনকারী বান্দা বানাও! হে আমার প্রতিপালক আমার তাওবা কবুল কর আমার পাপতাপ ধুয়ে মুছে দাও! আমার দু'আ কবুল কর! আমার ঈমান (যা আখিরাতে আমার দলীল হবে) মযবূত করে দাও! আমার রসনাকে সংযত করে দাও! আমার হৃদয়কে হিফাযত কর। আমার অন্তরের ক্লেদসমূহ দূর করে দাও!"
-(তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو يَقُولُ: «رَبِّ أَعِنِّي وَلَا تُعِنْ عَلَيَّ، وَانْصُرْنِي وَلَا تَنْصُرْ عَلَيَّ، وَامْكُرْ لِي وَلَا تَمْكُرْ عَلَيَّ، وَاهْدِنِي وَيَسِّرِ الهُدَى لِي، وَانْصُرْنِي عَلَى مَنْ بَغَى عَلَيَّ، رَبِّ اجْعَلْنِي لَكَ شَكَّارًا، لَكَ ذَكَّارًا، لَكَ رَهَّابًا، لَكَ مِطْوَاعًا، لَكَ مُخْبِتًا، إِلَيْكَ أَوَّاهًا مُنِيبًا، رَبِّ تَقَبَّلْ تَوْبَتِي، وَاغْسِلْ حَوْبَتِي، وَأَجِبْ دَعْوَتِي، وَثَبِّتْ حُجَّتِي، وَسَدِّدْ لِسَانِي، وَاهْدِ قَلْبِي، وَاسْلُلْ سَخِيمَةَ صَدْرِي» (رواه الترمذى وابوداؤد)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ দু'আটির ব্যাপকতা ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখেনা। উপরোক্ত দু'আ সমূহের লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হলো এই যে, এ প্রত্যেকটি দু'আয় রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজেকে আল্লাহ তা'আলার দরবারে একান্তই বাধ্য, অনুগত-বিনয়ী এবং জীবনের সর্ব ব্যাপারে একান্তই তাঁর মুখাপেক্ষীরূপে পেশ করেছেন। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, হে আল্লাহ! আমি একান্তই নিঃস্ব, এমন কি আমার যাহির-বাতিন, আমার হৃদয়-মন রসনা সবই একান্তই তোমারই নিয়ন্ত্রণাধীন। আমার আমল-আখলাক, আমার চিন্তা ভাবনা অনুভূতি এবং আমার সমুদয় অবস্থার সংশোধনও একান্তই তোমার ফযল ও করম, দয়া-দাক্ষিণ্যের উপর নির্ভরশীল। আমার সুস্থতা-অসুস্থতাও তোমারই হাতে। দুশমন ও অনিষ্টকারীদের অনিষ্ট থেকে রক্ষাও একান্তই তুমিই আমাকে করতে পার। এ ব্যাপারেও আমি একান্তই অসহায়, দুর্বল। তুমি বদান্যশীল, দয়ালু, দাতা আর আমি তোমার দুয়ারের কাঙাল ভিখারী। এটা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আবদিয়াতের কামাল-পূর্ণতা। নিঃসন্দেহে এ কামালিয়তের ঊর্ধ্বতম শিখরে তিনি অধিষ্ঠিত। তাঁর এ কামালিয়ত বা পূর্ণতা অন্য সব পূর্ণতাকে ছাড়িয়ে গেছে।
صَلَّى اللّٰهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ
-"তাঁর প্রতি ও তাঁর পরিবার-পরিজন সঙ্গী-সাথীদের প্রতি আল্লাহ তা'আলার অফুরন্ত রহমত বর্ষিত হোক।”
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মা'আরিফুল হাদীস - হাদীস নং ২১৩ | মুসলিম বাংলা