মা'আরিফুল হাদীস
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
হাদীস নং: ২১৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
ব্যাপক অর্থবোধক বিভিন্নমুখী দু'আসমূহ
২১৪. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে এ দু'আটি শিক্ষা দিয়াছেন:
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْئَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ كُلِّه عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّرِّ كُلِّه عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا سَأَلَكَ مِنْهُ عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا اسْتَعَاذَ مِنْهُ عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْئَلُكَ الْجَنَّةَ وَمَا قَرَّبَ مِنْهَا مِنْ قَوْلٍ وَعَمَلٍ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ وَعَمَلٍ وَاَسْئَلُكَ أَنْ تَجَعَلَ كُلَّ قَضَاءٍ تَقْضِيْهِ لِي خَيْرًا .
-"হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে সর্বপ্রকার মঙ্গলের প্রার্থনা করছি, ইহলৌকিক মঙ্গলও প্রার্থনা করছি আবার পারলৌকিক মঙ্গলও প্রার্থনা করছি। সে সমস্ত মঙ্গলও প্রার্থনা করছি, যা আমার জ্ঞাত এবং সে সব মঙ্গলও যা আমার অজ্ঞাত রয়েছে। এবং তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি সর্বপ্রকার অনিষ্ট থেকে, ইহলৌকিক অনিষ্ট থেকেও আর পারলৌকিক অনিষ্ট থেকেও। সে সব অনিষ্ট থেকেও, যা আমার জানা আছে এবং সে সব অনিষ্ট থেকেও, যা আমার জানা নেই। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি সে সব কল্যাণ, যা তোমার কাছে প্রার্থনা করেছেন তোমার বান্দা ও তোমার নবী এবং তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি সে সব অকল্যাণ থেকে, যা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন তোমার বান্দা ও তোমার নবী। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি জান্নাত এবং যে সমস্ত কথা ও আমল আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে সে সব কথা ও আমল। এবং তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি জাহান্নাম থেকে এবং যে কথাবার্তা ও আমল তার নিকটবর্তী করে সে সব কথাবার্তা ও আমল থেকে। এবং হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এ প্রার্থনা করছি যে, আমার ব্যাপারে দেওয়া তোমার সকল ফয়সালা যেন মঙ্গলময় হয়।"
-(মুসনাদে ইব্ন আবূ শায়বা ও সুনানে ইবনে মাজা)
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْئَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ كُلِّه عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّرِّ كُلِّه عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا سَأَلَكَ مِنْهُ عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا اسْتَعَاذَ مِنْهُ عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْئَلُكَ الْجَنَّةَ وَمَا قَرَّبَ مِنْهَا مِنْ قَوْلٍ وَعَمَلٍ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ وَعَمَلٍ وَاَسْئَلُكَ أَنْ تَجَعَلَ كُلَّ قَضَاءٍ تَقْضِيْهِ لِي خَيْرًا .
-"হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে সর্বপ্রকার মঙ্গলের প্রার্থনা করছি, ইহলৌকিক মঙ্গলও প্রার্থনা করছি আবার পারলৌকিক মঙ্গলও প্রার্থনা করছি। সে সমস্ত মঙ্গলও প্রার্থনা করছি, যা আমার জ্ঞাত এবং সে সব মঙ্গলও যা আমার অজ্ঞাত রয়েছে। এবং তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি সর্বপ্রকার অনিষ্ট থেকে, ইহলৌকিক অনিষ্ট থেকেও আর পারলৌকিক অনিষ্ট থেকেও। সে সব অনিষ্ট থেকেও, যা আমার জানা আছে এবং সে সব অনিষ্ট থেকেও, যা আমার জানা নেই। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি সে সব কল্যাণ, যা তোমার কাছে প্রার্থনা করেছেন তোমার বান্দা ও তোমার নবী এবং তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি সে সব অকল্যাণ থেকে, যা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন তোমার বান্দা ও তোমার নবী। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি জান্নাত এবং যে সমস্ত কথা ও আমল আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে সে সব কথা ও আমল। এবং তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি জাহান্নাম থেকে এবং যে কথাবার্তা ও আমল তার নিকটবর্তী করে সে সব কথাবার্তা ও আমল থেকে। এবং হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এ প্রার্থনা করছি যে, আমার ব্যাপারে দেওয়া তোমার সকল ফয়সালা যেন মঙ্গলময় হয়।"
-(মুসনাদে ইব্ন আবূ শায়বা ও সুনানে ইবনে মাজা)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَّمَهَا هَذَا الدُّعَاءَ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ، مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّرِّ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ، مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا سَأَلَكَ عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَاذَ بِهِ عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ، وَأَسْأَلُكَ أَنْ تَجْعَلَ كُلَّ قَضَاءٍ تِقْضِيْهِ لِي خَيْرًا» (رواه ابن ابى شيبة وابن ماجه)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ দু'আটির এক একটি অংশের প্রতি লক্ষ্য করুন, একজন মানুষের ইহলোক-পরলোকের যাবতীয় প্রয়োজনীয় ব্যাপার এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ হাদীসের একটি রিওয়ায়াতে এর বিশদ বর্ণনা এভাবে রয়েছে যে, একদা হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে তাঁর ঘরে হাযির হলেন। তিনি একান্তই গোপনে তাঁকে কিছু বলতে চাচ্ছিলেন। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) তখন সেখানে সালাতরত ছিলেন এবং তিনি অনেক দীর্ঘ দু'আয় লিপ্ত ছিলেন। হযূর ﷺ তখন তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন যে, তিনি যেন ব্যাপক অর্থবোধক দু'আ করে তাড়াতাড়ি তাঁদেরকে একান্তে কথা বলার সুযোগ করে দেন। তখন তিনি বলেন, তা হলে আমাকে সেরূপ ব্যাপক অর্থবোধক দু'আ শিখিয়ে দিন। তখনই তিনি তাঁকে এ দু'আটি শিক্ষা দিয়েছিলেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)