মা'আরিফুল হাদীস

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়

হাদীস নং: ২৮৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
হযরত খিযির (আ)-এর ইস্তিগফার
২৮৭. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে প্রায়ই বলতেন; হে আমার সাহাবীবৃন্দ! সামান্য কটি কালিমার সাহায্যে তোমাদের গুনাহগুলোর প্রতিবিধান করতে তোমাদেরকে কিসে মানা করলো? তাঁরা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! কী সে কালিমাগুলো? জবাবে তিনি বললেন: তোমরা তাই বলবে যা আমার ভাই খিযির বলতেন। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: তিনি কী বলতেন? জবাবে তিনি বললেন, তিনি বলতেন:

اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْتَغْفِرُكَ لِمَا تُبْتُ إِلَيْكَ مِنْهُ ثُمَّ عُدْتُ فِيهِ وَاَسْتَغْفِرُكَ لِمَا أَعْطَيْتُكَ مِنْ نَفْسِي ثُمَّ لَمْ أُوْفِ لَكَ بِهِ وَاَسْتَغْفِرُكَ لِلنِّعَمِ الَّتِي أَنْعَمْتَ بِهَا عَلَى مَعَاصِيكَ وَاَسْتَغْفِرُكَ لَكَ فِي خَيْرٍ أَرَدْتُ بِهِ وَجْهَكَ فَخَالَطَنِي فِيْهِ مَا لَيْسَ لَكَ اَللّٰهُمَّ لَا تُخْزِنِي فَإِنَّكَ بِي عَالِمٌ وَلَا تُعِذِّبْنِي فَإِنَّكَ عَلَيَّ قَادِرٌ

"হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করছি সে সব গুনাহ থেকে, যা থেকে আমি তাওবা করেছি, তারপর আবার তা করেছি এবং আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি তোমার দরবারে সে সব ওয়াদা-অঙ্গীকারের ব্যাপারে, যা আমি আমার নিজ সত্তার ব্যাপারে তোমার সাথে করেছি অথচ তারপর তা পূরণ করিনি। এবং আমি ইস্তিগফার করছি ঐ সব নিয়ামতের ব্যাপারে, যা তুমি আমাকে দান করেছো এবঙ আমি তোমার অবাধ্যতার জন্যে তা দিয়ে শক্তি লাভ করেছি (অর্থাৎ তোমার প্রদত্ত নিয়ামতের বলে বলীয়ান হয়ে তোমার অবাধ্যতায়ই লিপ্ত হয়েছি।) এবং আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি তোমার দরবারে ঐ সব পুণ্য কাজের ব্যাপারে, যেগুলো আমি তোমার সন্তুষ্টিরই উদ্দেশ্যে করেছি অথচ তারপর তোমার সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য গরজের তাতে মিশ্রণ ঘটেছে। হে আল্লাহ! (অন্যদের সম্মুখে) তুমি আমাকে অপদস্থ করো না, কেননা, তুমি নিঃসন্দেহে আমার ব্যাপারে সম্যক অবগত রয়েছো, (আমার কোন কিছু তোমার কাছে গোপন নেই।) আর তুমি আমাকে (আমার গুনাহর জন্যে) শাস্তি দিও না, কেননা, তুমি আমার উপর সর্বব্যাপারে শক্তিমান (আর আমি বিলকুল অক্ষম এবং তোমার সম্পূর্ণ ইখতিয়ার ও কজার মধ্যে।) - (মুসনদে ফিরদাউস: দায়লামী সঙ্কলিত)
کتاب الاذکار والدعوات
عن ابن عمر قال: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم كثيرا ما يقول لنا: معاشر أصحابي ما يمنعكم أن تكفروا ذنوبكم بكلمات يسيرة؟ قالوا يا رسول الله: وما هي؟ قال تقولون مقالة أخي الخضر، قلنا يا رسول الله: ما كان يقول؟ قال كان يقول: اللهم إني أستغفرك لما تبت إليك منه، ثم عدت فيه، وأستغفرك لما أعطيتك من نفسي ثم لم أوف لك به، وأستغفرك للنعم التي أنعمت بها علي فتقويت بها على معاصيك وأستغفرك لكل خير أردت به وجهك فخالطني فيه ما ليس لك، اللهم لا تخزني فإنك بي عالم، ولا تعذبني فإنك علي قادر ". (رواه الديلمي)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

অনেক সময়ই এমন হয়ে থাকে যে, আল্লাহর কোন বান্দা পূর্ণ সদিচ্ছা নিয়েই আন্তরিকতা সহকারে কোন গুনাহ থেকে তাওবা করে থাকে; কিন্তু পরে আবার সে সে গুনাহতে জড়িয়ে পড়ে। অনুরূপ ভাবে অনেক সময় বান্দা আল্লাহর সাথে ওয়াদা-অঙ্গীকার করে; তারপর একসময় তা ভঙ্গও করে বসে। আবার অনেক সময় আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামতের বলে বলীয়ান হয়ে তদ্বারা আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদত বন্দেগী না করে গুনাহ ও অবাধ্যতার কাজে তা ব্যায় করে।

অনুরূপভাবে অনেক সময় এমনও হয় যে, কেউ কোন পুণ্য কাজ পূর্ণ সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা সহকারেই শুরু করে যে, এর দ্বারা আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টি হাসিল করবে, কিন্তু পরবর্তী কালে তাতে নানা অবাঞ্ছিত গরজ এবং ভুল অনুভূতির সংমিশ্রণ ঘটে যায়। এগুলো হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা যা অনেক ভাল ভাল লোকের ক্ষেত্রেও ঘটে থাকে।

এ সমস্ত অবস্থায় আল্লাহর সাথে যাদের সম্পর্ক রয়েছে এবঙ যাদের আখিরাতের চিন্তা রয়েছে তাঁদের মুখে কী দু'আ থাকা উচিত? উপরোক্ত ইস্তিগফার সূচক কালিমা সমূহে সেদিকেই পূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই কালিমাগুলো বক্তব্য ও ব্যাপকতার দিকে থেকে মু'জিযাধর্মী। এজন্যেই এ হাদীসখানা এথানে উদ্ধৃত করা হয়েছে। যদিও কানযুল উম্মালে কেবল দায়লামীর বরাত দেওয়া হয়েছে- যা মুহাদ্দিসগণের নিকট সনদের দিক থেকে দুর্বলতার লক্ষণ। 'ইস্তিগফারের কালিমাসমূহ' শিরোনামে এখানে কেবল এ চারখানা হাদীসই বর্ণনা করা হলো।

সালাত সংক্রান্ত দু'আ সমূহে অনুরূপ খাস খাস সময়ের ও অবস্থার দু'আ সমূহে এবং ব্যাপক অর্থপূর্ণ দু'আ সমূহে এগুলো ছাড়াও প্রচুর কালিমা বর্ণনা করা হয়েছে-যেগুলোর সংখ্যা পঞ্চাশের কম হবে না। এ হিসাবে ইস্তিগফারের কালিমাসমূহের মোট সংখ্যা অনেক যা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বরাতে হাদীসের কিতাবসমূহে মাছুরা দু'আ রূপে বর্ণিত হয়েছে। নিঃসন্দেহে এগুলোর প্রত্যেকটিই বরকতপূর্ণ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান