মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৫০২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
খলীফা স্বীয় স্থলবর্তী মনোনয়ন করতে পারেন আর নাগরিকদের নির্বাচনের ওপরও ছেড়ে দিতে পারেন
বর্তমান যুগে পাশ্চাত্য গণতন্ত্রের ধারা প্রভাবান্বিত হওয়ার ফলে কতক লোক বলতে শুরু করে দিয়েছে যে, 'ইসলামী পদ্ধতিতে' ইসতিখলাফ (অর্থাৎ রাষ্ট্র প্রধানের পক্ষ থেকে স্বীয় স্থলবর্তীর মনোনায়ন)-এর সুযোগ নেই। ঘটনা হচ্ছে-এ দৃষ্টিভঙ্গি কেবল প্রভাবান্বিতের ফসল। ইসতিখলাফ ও মনোনয়ন ঠিক ও অঠিক হওয়া, পরিস্থিতি ও ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল। যদি যামানার খলীফা (বর্তমান রাষ্ট্র প্রধান) কোন ব্যক্তির সম্বন্ধে পূর্ণ বিশ্বস্ততার সাথে একশত ভাগ আশ্বস্ত হন যে, এ পদের দায়িত্বসমূহ পালন করার যোগ্যতা তার মধ্যে অধিক রয়েছে এবং জনসাধারণ সন্তুষ্টচিত্তে তাঁর নেতৃত্ব গ্রহণ করবে এমতাবস্থায় রাষ্ট্রের জন্য তাঁকে মনোনয়ন দান কেবল বৈধই নয় বরং উত্তম হবে। সিদ্দীকে আকবর (রা) তাঁর পরবর্তী যুগের জন্য খলীফা হিসাবে হযরত উমর ফারুক (রা)-কে মনোনয়ন দান এরূপ অবস্থায়ই করেছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ স্বীয় ইনতিকালের আগে সিদ্দীকে আকবার আবু বকর-এর নাম ঘোষণার ইচ্ছা করেছিলেন। পুনরায় তাঁর নিকট একথা প্রতিভাত ও একীন হয় যে, তাঁর পরে খলীফা সিদ্দীকে আকবরই হতেন। এটাই আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা এবং এটাই মুসলমানদের সিদ্ধান্ত হবে। তাই তিনি নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাঁকে মনোনয়ন করেননি। যদিও স্বীয় ইস্তিকালের রোগের সময় নিজের স্থলে তাঁকে নামাযের ইমাম বানিয়ে সে দিকে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। বস্তুত যদি বৈধ কোন খলীফা দীন ও উম্মার কল্যাণে কোন ব্যক্তিকে মনোনয়ন করতে ভাল মনে করেন তবে তাঁর এ অধিকার আছে এবং এভাবে সেই মনোনীত ব্যক্তি বৈধ খলীফা হবেন।
আর যদি স্বয়ং মনোনয়নের পরিবর্তে নির্বাচক মন্ডলীর এক দলকে নির্বাচনের অধিকার দেওয়া ভাল মনে করেন এবং তাই করেন তবে এটাও ঠিক হবে, যেমন হযরত উমর (রা) করেছিলেন। আর যদি কখনো নির্বাচনের গন্ডি জনসাধারণের ধার্মিক ও জ্ঞানী জনমন্ডলী পর্যন্ত বিস্তৃত করা উত্তম মনে করা হয় তবে এরূপ করাও বৈধ হবে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং তাঁর খুলাফায়ে রাশিদীনের কর্ম পদ্ধতি থেকে এটাই জানা যায় যে, প্রকৃত লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে উদ্দেশ্য। খলীফা ও শাসক নির্বাচনের কোন বিশেষ পদ্ধতি ও পন্থা নির্দিষ্ট নেই। এবং বিষয়টি দীনী উদ্দেশ্যে শরী'আতের গন্ডি ও নির্দেশের প্রতি লক্ষ্য রেখে অবস্থার প্রেক্ষিতে স্থির করা যেতে পারে।
বর্তমান যুগে পাশ্চাত্য গণতন্ত্রের ধারা প্রভাবান্বিত হওয়ার ফলে কতক লোক বলতে শুরু করে দিয়েছে যে, 'ইসলামী পদ্ধতিতে' ইসতিখলাফ (অর্থাৎ রাষ্ট্র প্রধানের পক্ষ থেকে স্বীয় স্থলবর্তীর মনোনায়ন)-এর সুযোগ নেই। ঘটনা হচ্ছে-এ দৃষ্টিভঙ্গি কেবল প্রভাবান্বিতের ফসল। ইসতিখলাফ ও মনোনয়ন ঠিক ও অঠিক হওয়া, পরিস্থিতি ও ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল। যদি যামানার খলীফা (বর্তমান রাষ্ট্র প্রধান) কোন ব্যক্তির সম্বন্ধে পূর্ণ বিশ্বস্ততার সাথে একশত ভাগ আশ্বস্ত হন যে, এ পদের দায়িত্বসমূহ পালন করার যোগ্যতা তার মধ্যে অধিক রয়েছে এবং জনসাধারণ সন্তুষ্টচিত্তে তাঁর নেতৃত্ব গ্রহণ করবে এমতাবস্থায় রাষ্ট্রের জন্য তাঁকে মনোনয়ন দান কেবল বৈধই নয় বরং উত্তম হবে। সিদ্দীকে আকবর (রা) তাঁর পরবর্তী যুগের জন্য খলীফা হিসাবে হযরত উমর ফারুক (রা)-কে মনোনয়ন দান এরূপ অবস্থায়ই করেছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ স্বীয় ইনতিকালের আগে সিদ্দীকে আকবার আবু বকর-এর নাম ঘোষণার ইচ্ছা করেছিলেন। পুনরায় তাঁর নিকট একথা প্রতিভাত ও একীন হয় যে, তাঁর পরে খলীফা সিদ্দীকে আকবরই হতেন। এটাই আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা এবং এটাই মুসলমানদের সিদ্ধান্ত হবে। তাই তিনি নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাঁকে মনোনয়ন করেননি। যদিও স্বীয় ইস্তিকালের রোগের সময় নিজের স্থলে তাঁকে নামাযের ইমাম বানিয়ে সে দিকে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। বস্তুত যদি বৈধ কোন খলীফা দীন ও উম্মার কল্যাণে কোন ব্যক্তিকে মনোনয়ন করতে ভাল মনে করেন তবে তাঁর এ অধিকার আছে এবং এভাবে সেই মনোনীত ব্যক্তি বৈধ খলীফা হবেন।
আর যদি স্বয়ং মনোনয়নের পরিবর্তে নির্বাচক মন্ডলীর এক দলকে নির্বাচনের অধিকার দেওয়া ভাল মনে করেন এবং তাই করেন তবে এটাও ঠিক হবে, যেমন হযরত উমর (রা) করেছিলেন। আর যদি কখনো নির্বাচনের গন্ডি জনসাধারণের ধার্মিক ও জ্ঞানী জনমন্ডলী পর্যন্ত বিস্তৃত করা উত্তম মনে করা হয় তবে এরূপ করাও বৈধ হবে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং তাঁর খুলাফায়ে রাশিদীনের কর্ম পদ্ধতি থেকে এটাই জানা যায় যে, প্রকৃত লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে উদ্দেশ্য। খলীফা ও শাসক নির্বাচনের কোন বিশেষ পদ্ধতি ও পন্থা নির্দিষ্ট নেই। এবং বিষয়টি দীনী উদ্দেশ্যে শরী'আতের গন্ডি ও নির্দেশের প্রতি লক্ষ্য রেখে অবস্থার প্রেক্ষিতে স্থির করা যেতে পারে।
৫০২. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর ইন্তিকালের রোগের সময় আমাকে বলেছিলেন, (হে আয়েশা) তোমার পিতা-আবূ বকর ও তোমার ভাই (আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর) কে আমার নিকট ডেকে আন যেন আমি (খিলাফত সম্পর্কে) লিখে দেই। আমার আশংকা হচ্ছে (খিলাফতের) কোন আকাঙ্খাকারী আকাঙ্খা করবে এবং কোন কথক বলবে, আমি এর উপযুক্ত, অথচ সে এর উপযুক্ত নয়। আর আল্লাহ ও মু'মিনদের নিকট আবু বকর ছাড়া কেউ মনঃপূত হবে না। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فِي مَرَضِهِ " ادْعِي لِي أَبَا بَكْرٍ، أَبَاكِ، وَأَخَاكِ، حَتَّى أَكْتُبَ كِتَابًا، فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يَتَمَنَّى مُتَمَنٍّ وَيَقُولُ قَائِلٌ: أَنَا أَوْلَى، وَيَأْبَى اللهُ وَالْمُؤْمِنُونَ إِلَّا أَبَا بَكْرٍ " (رواه مسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীস থেকে জানা গেল যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর ইনতিকালের রোগে এরূপ ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন যে, তাঁরপর খলীফা হিসাবে আবু বকর-এর নাম ঘোষণা করবেন এবং খিলাফতনামা লিপিবদ্ধ করাবেন। আর একে পূর্ণতার স্তরে পৌঁছানোর জন্য হযরত আবু বকর ও তাঁর পুত্র আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকরকে ডাকাতেও ইচ্ছা করেছিলেন। তবে এরপর তাঁর হৃদয়ে একথা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং দৃঢ় প্রতিতী জন্মে যে, আল্লাহর নিকট এটাই স্থির হয়ে আছে। আমার পর মু'মিনগণ আবু বকর ছাড়া কাউকে খলীফা নির্বাচন করবে না। তাই তিনি তাঁর এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রয়োজনিয়তা মনে করেন নি। তিনি এটাই সংগত মনে করে যে, আমার ঘোষণা ছাড়াই মু'মিনদের নির্বাচনে তিনি খলীফা হবেন। সুতরাং তাই হয়েছিল।
বস্তুত আলোচ্য হাদীস থেকে এটা জানা গেল যে, স্থলবর্তী মনোনয়নও এক পদ্ধতি, যে বিষয়ে তিনি চিন্তা করেছিলেন এবং তা প্রকাশও করেছিলেন। সিদ্দীকে আকবর (রা) যখন তাঁর পরবর্তী যুগের জন্য হযরত উমর (রা) কে খলীফা হিসাবে মনোনয়ন দান করেন তখন সম্ভবত তাঁর সামনে দলীল হিসাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এ ইচ্ছাই ছিল। এরপর হযরত উমর (রা) তাঁর পরবর্তী খলীফা মনোনয়নের পরিবর্তে বিষয়টিকে একটি পরামর্শ সভার ওপর ছেড়ে দেন। এতে তিনি হুজুর ﷺ-এর কর্মপদ্ধতি থেকে আলো গ্রহণ করেছিলেন।
বস্তুত এই এক হাদীস থেকে জানা গেল যে, খলীফা মনোনয়ন করা এবং নির্বাচন করাও সঠিক।
বস্তুত আলোচ্য হাদীস থেকে এটা জানা গেল যে, স্থলবর্তী মনোনয়নও এক পদ্ধতি, যে বিষয়ে তিনি চিন্তা করেছিলেন এবং তা প্রকাশও করেছিলেন। সিদ্দীকে আকবর (রা) যখন তাঁর পরবর্তী যুগের জন্য হযরত উমর (রা) কে খলীফা হিসাবে মনোনয়ন দান করেন তখন সম্ভবত তাঁর সামনে দলীল হিসাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এ ইচ্ছাই ছিল। এরপর হযরত উমর (রা) তাঁর পরবর্তী খলীফা মনোনয়নের পরিবর্তে বিষয়টিকে একটি পরামর্শ সভার ওপর ছেড়ে দেন। এতে তিনি হুজুর ﷺ-এর কর্মপদ্ধতি থেকে আলো গ্রহণ করেছিলেন।
বস্তুত এই এক হাদীস থেকে জানা গেল যে, খলীফা মনোনয়ন করা এবং নির্বাচন করাও সঠিক।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)