মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৫০৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
বাদশাহ্ ও শাসকদেরকে উপদেশ প্রদানের সঠিক পদ্ধতি
৫০৪. হযরত আয়ায ইবনে গুনম (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে বাড়ি কোন রাষ্ট্রীয় শাসককে কোন বিষয়ে উপদেশ প্রদান করতে চায় তবে সে প্রকাশ্যে (অন্যদের সামনে) উপদেশ দিবে না। বরং তার হাত নিজের হাতে নিয়ে নির্জনে নিজের কথা তাকে বলবে। এরপর যদি সে গ্রহণ করে তবে উত্তম (অর্থাৎ উদ্দেশ্য অর্জিত হয়ে গেল) আর যদি গ্রহণ না করে ভবে উপদেশদাতা তার দায়িত্ব পূর্ণ করলো। (আহমদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عِيَاضِ بْنُ غَنْمٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَرَادَ أَنْ يَنْصَحَ لِذِىْ سُلْطَانٍ بِأَمْرٍ، فَلَا يُبْدِ لَهُ عَلَانِيَةً، وَلَكِنْ لِيَأْخُذْ بِيَدِهِ، فَيَخْلُوَ بِهِ، فَإِنْ قَبِلَ مِنْهُ فَذَالِكَ، وَإِلَّا كَانَ قَدْ أَدَّى الَّذِي عَلَيْهِ» (رواه احمد)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
নিঃসন্দেহে উপদেশ প্রদানের কৌশলের দাবি এটাই, বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় কর্ণধার ও প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তিকে উপদেশ প্রদান, নির্জনে তাদের সাথে সাক্ষাত করে হতে হবে। এ কর্মপদ্ধতি সম্বোধিত ব্যক্তির হৃদয়ে আস্থা জন্মায় যে, উপদেশদাতা অকপট ও আমায় হিতাকাঙ্খী। যদি ভাল কথা গ্রহণের অযোগ্য তার অন্তর না হয়, তবে গ্রহণ করার পূর্ণ আশা থাকে। এর বিপরীত অন্যদের সামনে প্রকাশ্যে উপদেশ প্রদানে সেই ব্যক্তি নিজেকে অপমানিত মনে করবে, তার প্রতিক্রিয়া খুব মন্দ হতে পারে। গোপনীয় পত্রের মাধ্যমে উপদেশ প্রদানও নির্জনে সাক্ষাতের হুকুমের অন্তর্গত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)