মা'আরিফুল হাদীস

কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৩
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়

আল্লাহর কিতাব ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষাবলির পাবন্দী এবং বিদ'আত থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ ও তাকীদ

এ জগত থেকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিদায় হওয়ার পর তাঁর আনীত আল্লাহর কিতাব কুরআন মজীদ ও সুন্নাত নামে পরিচিত তাঁর শিক্ষাবলি ইহজগতে হিদায়াতের কেন্দ্র ও উৎস। এগুলো যেন তাঁর পবিত্র সত্তার স্থলবর্তী। আর উম্মতের কল্যাণ ও সফলতা কুরআন ও সুন্নাতের সঠিক অনুসরণের সাথে সম্পৃক্ত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে উম্মতকে বিভিন্ন শিরোনামে দিক নির্দেশ দিয়েছেন ও অবগত করেছেন এবং বিদ'আত থেকে বেঁচে থাকার তাকীদ করেছেন। পূর্ববর্তী উম্মতগণ বিদ'আতকে নিজেদের দীন বানানোর কারণে গোমরাহ হয়েছিল। এ ধারাবাহিকতায় তাঁর কতক গুরুত্বপূর্ণ বাণী নিম্নে লিপিবদ্ধ হচ্ছে-
১৩. হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ওয়াজের মধ্যে) বললেন, আম্মাবা'আদ! সর্বাধিক উত্তম বিষয় ও সর্বাধিক উত্তম কথা আল্লাহর কিতাব। আর সর্বাধিক উত্তম পথ আল্লাহর রাসূল (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথ। আর নিকৃষ্টতম কাজ হচ্ছে, যা দীনে (নব) উদ্ভাবন করা হয় এবং প্রত্যেকটি বিদ'আত গোমরাহী।
(সহীহ্ মুসলিম)
کتاب الاعتصام بالکتاب والسنۃ
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ وَخَيْرُ الْهُدَى هُدَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَشَرُّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ. (رواه مسلم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত জাবির (রা)-এর হাদীস সহীহ মুসলিমে জুমু'আর পরিচ্ছেদে বিভিন্ন সনদে বণর্না করা হয়েছে। বর্ণনার শব্দাবলি থেকে জানা যায়, হাদীসের বর্ণনাকারী হযরত জাবির রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র মুখ থেকে জুমু'আর খুতবায় এ কথা বার বার শুনেছিলেন।

তাঁর এ বাণী জাওয়ামিউল কালিম (অল্প শব্দ বেশী অর্থবোধক)-এর অন্তর্ভুক্ত। অতি সংক্ষিপ্ত শব্দাবলিতে উম্মতকে সেই দিকনির্দেশনাবলি দেওয়া হয়েছে, যা কিয়ামত পর্যন্ত সরল পথে প্রতিষ্ঠিত রাখতে ও সর্বপ্রকার গোমরাহী থেকে বাঁচাবার জন্যে যথেষ্ট। ই'তিকাদ, আমল, আখলাক ও আবেগ ইত্যাদির ব্যাপারে মানুষের ইতিবাচক ও নেতিবাচক হিদায়াত (উত্তম কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ) এর প্রয়োজন পড়ে। নিঃসন্দেহে আল্লাহর কিতাব, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাত এর পূর্ণ প্রতিভূ। এরপর গোমরাহীর এক দ্বার থেকে যায় যে, আল্লাহ তা'আলা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সব বিষয়কে দীন স্থির করেননি সে গুলোকে দীনের রংগে রঙ্গীন করে দীনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আর আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি এবং আখিরাতের সফলতার অবলম্বন মনে করে তা আপন করে নেওয়া হয়।

দীনের দস্যু-শয়তানের সর্বাধিক বিপদসঙ্কুল ফাঁদ এটাই। পূর্ববর্তী উম্মতদেরকে সে অধিক হারে এপথেই গোমরাহ করে ছিল। বিভিন্ন জাতির মুশরিকদের মধ্যে দেবতা পূজা, খ্রিস্টানদের মধ্যে ত্রিত্ববাদ ও হযরত ঈসা (আ)-এর পিতৃত্ব-পুত্রত্ব এবং কাফিরদের আকীদা আর আহবার ও রুহবানকে أَرْبَابًا مِنْ دُونِ الله (আল্লাহ ছেড়ে প্রভু) গ্রহণ করার গোমরাহী, সব এ পথেই এসেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি উদ্ভাসিত করা হয়েছিল যে, পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে যে সব গোমরাহী এসেছিল তা সবই তাঁর উম্মতের মধ্যে আসবে। আর এ পথেই আসবে, যে পথে পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে এসেছিল। এজন্য তিনি স্বীয় ওয়াজ ও ভাষণসমূহে বার বার এ সংবাদ দিতেন যে, কেবল আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাতের অনুসরণ করা হবে। আর বিদ'আত থেকে নিজের ও দীনের হিফাযত করা হবে। বিদ'আত বাহ্য দৃষ্টিতে যতই উত্তম ও সুন্দর মনে করা হোক প্রকৃতপক্ষে তা কেবল গোমরাহী ও ধ্বংস। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণী যা হযরত জাবির (রা)-এর কথায়, তিনি জুমু'আর খুতবায় বার বার বলতেন তার বার্তা এটাই। আর এতে এ সংবাদ দেওয়া হয়েছে।

বিদ'আত কি?

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শেষ বাক্য كُلّ بِدْعَةٍ ضلَالَة (প্রত্যেক বিদ'আত গোমরাহী) প্রথম সারির কতক আলিম ও হাদীসের ভাষ্যকার বিদ'আতের মূল অভিধানিক অর্থ সামনে রেখে এটা বুঝেছেন ও লিখেছেন যে, প্রত্যেক সেই কাজ বিদ'আত, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে ছিল না। আর কুরআন হাদীসেও এর উল্লেখ নেই। কিন্তু দীনের প্রেক্ষিতে তা অত্যাবশ্যক ও অপরিহার্য এবং উম্মতের আলিম ও ফকীহগণের মধ্যে কেউই তা বিদ'আত ও নাজায়িয স্থির করেন নি। বরং দীনের আবশ্যকীয় খিদমত আর পুরস্কার ও পারিশ্রমিকের কারণ মনে করেছেন। যেমন, কুরআন মজীদে স্বরচিহ্ন দেওয়া, ফসল, ওসল ও বিরাম চিহ্ন দেওয়া, যেন সাধারণও কুরআন মজীদের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত করতে সক্ষম হয়। এভাবে হাদীস ও ফিকহের সংকলন এবং কিতাবসমূহ রচনা, প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন ভাষায় দীনী বিষয়াবলির ওপর পুস্তক রচনা, সেগুলো প্রকাশ ও প্রচারের ব্যবস্থা এবং দীনী শিক্ষার জন্য মক্তব-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি ইত্যাদি এসব বিষয় স্পষ্টত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র যুগে ছিল না। আর কুরআন ও হাদীসেও এসবের উল্লেখ নেই। তাই বিদ্‌'আতের উল্লেখিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী বিদ'আত হওয়া চাই। এভাবে যাবতীয় নতুন উদ্ভাবন-রেল, বাস, উড়োজাহাজ, টেলিগ্রাম ও টেলিফোন, মোবাইল ইত্যাদির ব্যবহারও এ ব্যাখ্যা অনুযায়ী বিদ'আত ও নাজায়িয হওয়া চাই। অথচ এ কথা সম্পূর্ণ ভুল।

এই জটিলতা নিরসনের জন্য উলামা ও হাদীসের ভাষ্যকারগণ বলেন, বিদ'আত দুই প্রকার- সেই বিদ'আত যা কুরআন-সুন্নাহ্ ও শরী'আতের নীতিমালার পরিপন্থী। সেটা বিদ'আতে 'সায়্যিয়া'। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এ সম্বন্ধেই বলেছেন, كل بدْعَةٍ ضَلَالَةٌ অর্থাৎ প্রত্যেক বিদ'আতে সায়্যিয়াই গোমরাহী। আর অন্য প্রকার বিদ'আত এই, যা কুরআন সুন্নাত ও শরীআতের নীতিমালার পরিপন্থী নয়, বরং অনুকূলে। তা বিদ'আতে 'হাসানা'। আর নিজের প্রকার হিসাবে বিদ'আতে হাসানা কখনো ওয়াজিব, কখনো মুস্তাহাব, আর কখনো মুবাহ্ ও জায়িয। সুতরাং কুরআন মজীদে স্বরচিহ্ন, ফসল ও ওসল ইত্যাদি আলামত প্রদান, এবং হাদীস ও ফিকহের সংকলন, এবং প্রয়োজনের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ভাষায় দীনী বিষয়াবলির ওপর গ্রন্থাবলি রচনা ও প্রচার, মাদ্রাসা স্থাপন ইত্যাদি সব বিদ'আতে হাসানার অন্তর্গত। এভাবে নতুন আবিষ্কৃত জিনিসের ব্যবহারও বিদ'আতে হাসানার অন্তর্গত। নাজায়িয নয় বরং জায়িয ও মুবাহ।

কিন্তু তত্ত্ববিদ আলিমগণ বিদ'আতের উপরোক্ত ব্যাখ্যা এবং উত্তম ও মন্দ হিসাবে এর বিভক্তি মতবাদের সাথে ঐকমত্য নন। তাঁরা বলেন, ঈমান, কুফর এবং সালাত ও যাকাত ইত্যাদির ন্যায় বিদ'আত এক বিশেষ দীনী পরিভাষা। আর এ দ্বারা উদ্দেশ্য সেই কাজ যা দীনী রং দিয়ে দীনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আর যদি তা কোন কাজজাতীয় হয় তবে দীনী আমল হিসাবে তা করা হয়। আর ইবাদত ইত্যাদি দীনী বিষয়ের ন্যায় এটাকে আখিরাতের সাওয়াব ও আল্লাহর সন্তুষ্টির ওসীলা মনে করা হয়। শরী'আতে এর কোন দলীল নেই। না কিতাব ও সুন্নাতের দলীল, না কিয়াস এবং ইজতিহাদ ও ইসতিহসান, যা শরী'আতে গ্রহণযোগ্য।

এ কথা সুস্পষ্ট যে, বিদ'আতের এই ব্যাখ্যার ভিত্তিতে এই আবিষ্কৃত জিনিসের ব্যবহার এবং সেই নতুন বিষয় যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে ছিল না এবং যাকে দীনী কাজ মনে করা হত না তা বিদ'আতের গণ্ডির মধ্যেই পড়বে না। যেমন- রেল, বাস, উড়োজাহাজ ইত্যাদিতে ভ্রমণ করা। এ জাতীয় অন্যান্য নতুন জিনিসের ব্যবহার। এভাবে এ যুগে দীনী উদ্দেশ্য অর্জন ও পূর্ণতা এবং দীনী আহ্কাম পালনের জন্য যে সব নতুন অবলম্বনের ব্যবহার প্রয়োজন তাও এই ব্যাখ্যার ভিত্তিতে বিদ'আতের গণ্ডিতে পড়বে না। যেমন-কুরআন মজীদে স্বরচিহ্ন ইত্যাদি লাগানো, যাতে সর্ব সাধারণও বিশুদ্ধ তিলাওয়াত করতে পারে। আর হাদীসের কিতাবসমূহ লিখা ও এর ভাষ্য লিখা, ফিকহের সংকলন এবং বিভিন্ন ভাষায় প্রয়োজনানুসারে দীনী বিষয়াবলির ওপর কিতাব প্রণয়ন ও প্রচারের ব্যবস্থাপনা, দীনী মাদ্রাসা ও কুতুবখানা প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি সব বিষয়ও বিদ'আতের এই ব্যাখ্যার ভিত্তিতে এর গণ্ডির মধ্যে আসবে না। কেননা, যদিও এগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে ছিল না কিন্তু যখন গুরুত্বপূর্ণ দীনী উদ্দেশ্য অর্জন ও পূর্ণতায় এবং দীনী আহকাম পালনের জন্য এটা অপরিহার্য প্রয়োজন হয়ে পড়েছে, তখন এটা শরী'আতের উদ্দেশ্য ও আদিষ্ট হয়ে গেছে। যে ভাবে, অজু করা শরী'আতের নির্দেশ। কিন্তু যখন এজন্যে পানি অন্বেষণ করা কিংবা কুয়া থেকে বের করা প্রয়োজন পড়ে, তখন তাও শরী'আতের দৃষ্টিতে ওয়াজিব হবে।

দীনী ও শরী'আতের স্বীকৃত নীতি হচ্ছে, কোন ফরয, ওয়াজিব পূর্ণ করার জন্য যা কিছু আবশ্যক ও অপরিহার্য তাও ওয়াজিব। সুতরাং উপরে বর্ণিত এ জাতীয় সব বিষয় বিদ'আতের এই ব্যাখ্যার ভিত্তিতে এর গণ্ডির মধ্যেই আসে না বরং এসব শরী'আতী উদ্দেশ্য ওয়াজিব।

বিদ'আতের এ ব্যাখ্যা ও সংজ্ঞাই সঠিক। আর এ ভিত্তিতে প্রত্যেক বিদ'আত গোমরাহী। যে ভাবে ব্যাখ্যাধীন হাদীসে বলা হয়েছে, كل بدعة ضلالة প্রত্যেক বিদ'আত গোমরাহী। এই বিষয়ের ওপর হিজরী নবম শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আলিম তত্ত্ববিদ ইমাম আবূ ইস্হাক ইব্রাহীম শাতিবী (রহ) স্বীয় কিতাব আল ই'তিসামে খুবই ইলমী ও তাত্ত্বিক আলোচনা করেছেন। বিদ'আতের প্রথমোক্ত ব্যাখ্যা ভাল ও মন্দ হিসাবে বিভক্তি মতবাদকে বলিষ্ঠ দলীল দ্বারা বাতিল করেছেন। তাঁর বিরাট কিতাবের আলোচ্য বিষয় এটাই।

আমাদের এদেশীয় সর্বাধিক বড় ওলী ও সংস্কারক ইমাম রব্বাণী হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী (রহ) ও স্বীয় বহু পত্রাবলিতে এ বিষয়ে আলোচনা রেখেছেন। আর বলিষ্ঠভাবে এ অভিমতও ব্যক্ত করেছেন যে, যে সব আলিম বিদ'আতকে দু'ভাগে- হাসানা ও সায়্যিয়া বিভক্ত করেছেন, তাদের থেকে বিরাট ইলমী ভুল হয়েছে। বিদ'আতে হাসানা বলে কোন জিনিস নেই। বিদ'আত সর্বদা মন্দ ও গোমরাহীই হয়ে থাকে। যদি কারো কোন বিদ'আত নূরাণী অনুভূত হয়, তবে এটা তার অনুভূতি ও উপলব্ধিগত ভুল। বিদ'আত কেবল অন্ধকার হয়ে থাকে। সহীহ মুসলিমের শরাহ্ ফাতহুল মুলহিমে হযরত মাওলানা শিব্বির আহমদ উসমানী (রহ) ও এ বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণমূলক আলোচনা করেছেন। তাঁর এ ভাষ্যগ্রন্থ আলিমদের জন্য পাঠকরা কল্যাণকর।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মা'আরিফুল হাদীস - হাদীস নং ১৩ | মুসলিম বাংলা