মা'আরিফুল হাদীস

কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৪
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
আল্লাহর কিতাব ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষাবলির পাবন্দী এবং বিদ'আত থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ ও তাকীদ
১৪. হযরত 'আইশা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আমাদের এ দীনে এরূপ বিষয় প্রবর্তন করে যা তাতে নেই তবে তা বাতিল। (সহীহ্ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
کتاب الاعتصام بالکتاب والسنۃ
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ. (رواه البخارى ومسلم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

বিদ'আত ও নব আবিষ্কৃত বিষয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ বাণী মৌলিক গুরুত্ব রাখে। এতে দীনের নামে নব আবিষ্কৃত ও নব উদ্ভাবিত বিষয়গুলোকে, আমলের দিক থেকে হোক কিংবা আকাইদের দিক থেকে হোক, বাতিল ও পরিত্যাগযোগ্য সাব্যস্ত করা হয়েছে, যেগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতের সাওয়াবের ওসীলা মনে করে পালন করা হয়। অথচ বাস্তবে তা এরূপ নয়। না আল্লাহ্ ও রাসূলের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে, কিংবা ইঙ্গিতে এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, না শরী'আতী ইজতিহাদ ও ইসতিহসান এবং শরী'আতের নীতিমালার ওপর এর ভিত্তি। হাদীসের শব্দ فِي أَمْرِنَا هَذَا এবং مَا لَيْسَ مِنْهُ এর ফায়দা ও উদ্দেশ্য এটাই।

সুতরাং জগতের সেই সব আবিষ্কার ও সেই সব নতুন জিনিস, যেগুলোকে দীনী কাজ ও আল্লাহর সন্তুষ্টির ওসীলা এবং আখিরাতের সাওয়াব মনে করা হয় না, সেগুলোর সাথে আলোচ্য হাদীসের কোন সম্পর্ক নেই। আর শরী'আতের পরিভাষায় সেগুলোকে বিদ'আত বলা হয় না। যেমন নতুন নতুন খাবার, নতুন কাটিং-এর পোশাক, নতুন ডিজাইনের ঘরবাড়ি এবং ভ্রমণের উন্নত নতুন বাহন ব্যবহার করা। এভাবে বিয়ে ইত্যাদি সংযোগ ধারাবাহিকতার সেই সব মন্দ প্রথা এবং ক্রীড়া-কৌতুক ও ভ্রমণের সেই প্রোগ্রাম যাকে কেউই দীনী কাজ মনে করে না, এগুলোর সাথেও আলোচ্য হাদীসের কোন সম্পর্ক নেই। তবে যে সব প্রথাকে দীনী বিষয় মনে করা হয়, আর তা দ্বারা আখিরাতে সাওয়াবের আশা করা হয়, তাই আলোচ্য হাদীসের প্রয়োগস্থল। তা বাতিলযোগ্য ও বিদ্‌'আত। মৃত্যু ও শোক বিষয়ক অধিকাংশ রসূম এর অন্তর্গত। যেমন, তিজাহ্ (মৃত্যুর তৃতীয় দিনে কুরআন খানী) দশা, বিশা, চল্লিশা, বাষির্কী, প্রত্যেক বৃহস্পতিবারে মৃতদের ফাতিহা, বড়পীর সাহেবের এগার শরীফ, বার শরীফ, বুযুর্গদের কবরসমূহে চাদর, ফুল ইত্যাদি দেওয়া আর উরুসের মেলা এসবকে দীনী কাজ মনে করা হয় এবং আখিরাতে সাওয়াবের আশা পোষণ করা হয়। এ জন্য এ গুলো হযরত 'আইশা সিদ্দীকা (রা)-এর হাদীস مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَالَيْسَ مِنْهُ فَهُوْ رَد এর প্রয়োগস্থল। বিদ'আত হিসাবে পরিত্যক্ত।

এরপর এই কর্মগত বিদ'আত থেকে আকীদাগত বিদ'আত অধিক ধ্বংসকারক। যেমন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আল্লাহর ওলীগণকে আলিমুল গায়ব ও হাযির নাযির মনে করা। এই আকীদা রাখা যে, তাঁরা দূর-দূরান্ত হতে আহ্বানকারীদের আহ্বান ও অভিযোগ শুনেন। তাঁরা তাদের সাহায্য ও প্রয়োজন পূর্ণ করেন, এই আকীদা বিদ'আত হওয়ার সাথে শিরকও। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলার ফায়সালা ও তাঁর পবিত্র কিতাবের ঘোষণা হচ্ছে, এই অপরাধের অপরাধী আল্লাহ্ ক্ষমা ও পুরস্কার হতে নিশ্চিত বঞ্চিত। চিরস্থায়ী জাহান্নামে থাকবে-{ إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ } [النساء: 116]
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান