মা'আরিফুল হাদীস
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
হাদীস নং: ১৫
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
আল্লাহর কিতাব ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষাবলির পাবন্দী এবং বিদ'আত থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ ও তাকীদ
১৫. হযরত ইরবায ইবনে সারীয়া (রা) বলেন, একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে (ভোরের নামায) পড়ালেন। এরপর আমাদের প্রতি ফিরে ওয়াজ করলেন, যা এত বলিষ্ঠ ছিল যে, শ্রোতাদের চোখ থেকে অশ্রু নির্গত হতে লাগল। ভয়ে অন্তর কেঁপে উঠলো। জনৈক সাহাবী বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এটা এমন ওয়াজ যেন বিদায়ী (আখিরী ওয়াজ)। (সুতরাং যদি বিষয় তাই হয়) তবে এরপর আপনি আমাদেরকে আবশ্যকীয় বিষয়ের উপদেশ প্রদান করুন। তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি, আল্লাহকে ভয় করতে থাক আর তাঁর নাফরমানী থেকে বেঁচে থাক, নির্দেশদাতা (খলীফা কিংবা শাসক)-এর নির্দেশ শুন এবং পালন কর যদিও সে কোন হাবশী দাসই হোক। এজন্য যে, আমার পর তোমাদের মধ্যে যে জীবিত থাকবে সে বিরাট মতভেদ দেখতে পাবে, তখন (এরূপ অবস্থায়) তোমরা নিজেদের জন্য আমার তরীকার অনুসরণ আবশ্যক করে নেবে। এবং আমার সঠিক পথের পথ প্রদর্শনকারী খলীফাগণের তরীকার অনুসরণ ও পাবন্দীকে শক্তভাবে ধরা ও দাঁত দ্বারা আঁকড়ে থাকা। আর (দীনে) নতুন উদ্ভাবিত বিষয় থেকে নিজেকে পৃথক রাখা। কেননা, দীনে উদ্ভাবিত প্রতিটি বিষয় বিদ'আত। আর প্রতিটি বিদ'আত গোমরাহী।
(মুসনাদে আহমদ, সুনানে আবূ দাউদ, জামি' তিরমিযী, সুনানে ইবনে মাজাহ্)
(মুসনাদে আহমদ, সুনানে আবূ দাউদ, জামি' তিরমিযী, সুনানে ইবনে মাজাহ্)
کتاب الاعتصام بالکتاب والسنۃ
عَنْ عِرْبَاضَ بْنَ سَارِيَةَ قَالَ: صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا فَوَعَظَنَا مَوْعِظَةً بَلِيغَةً ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَأَنَّ هَذِهِ مَوْعِظَةُ مُوَدِّعٍ فَمَاذَا تَعْهَدُ إِلَيْنَا فَقَالَ: أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ عَبْدًا حَبَشِيًّا فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلاَفًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّينَ الرَّاشِدِينَ تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ. (رواه احمد وابوداؤد والترمذى وابن ماجة الا انهما لم يذكر الصلوة)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ কথা সুস্পষ্ট যে, আলোচ্য হাদীস কোন প্রকার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মুখাপেক্ষী নয়। বিষয় বস্তু থেকে অনুমিত হয় যে, এ ঘটনা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শেষ জীবনের। নামাযের পর তিনি ওয়ায করলেন, ওয়াযের অস্বাভাবিক ধরণ থেকে এবং এতে তিনি যে সব দিকদর্শন ও সংবাদ দিয়েছেন, তা থেকে সাহাবা কিরাম অনুমান করলেন যে, সম্ভবত তাঁর ওপর উন্মুক্ত হয়েছে যে, এ দুনিয়া থেকে তাঁর বিদায়ের সময় নিকটবর্তী। এ হিসাবে তাঁকে নিবেদন করলেন, আপনি আমাদেরকে পরবর্তীকালের জন্য উপদেশ প্রদান করুন। তিনি এ আবেদন মঞ্জুর করে সর্ব প্রথম তাকওয়ার উপদেশ প্রদান করেন। অর্থাৎ আল্লাহকে ভয় করার ও নাফরমানী থেকে বেঁচে থাকার উপদেশ প্রদান করেন।
সর্বাবস্থায় খলীফা ও শাসকদের নির্দেশ পালন ও আনুগত্য করা হবে। যদিও সে কোন নিম্ন শ্রেণীর লোক হোক। দীনে তাকওয়ার গুরুত্ব তো সুস্পষ্ট। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতের সফলতা এর উপর সীমাবদ্ধ। আর এটাও সুস্পষ্ট যে, জগতে জাতির সামষ্টিক পদ্ধতি সঠিক ও মজবুত হিসাবে প্রতিষ্ঠিত থাকার জন্য প্রয়োজন খলীফা ও শাসকের আনুগত্য করা। যদি এরূপ করা না হয় তবে বিচ্ছিন্নতা ও বিভক্তি সৃষ্টি হবে, নৈরাজ্য বিস্তার লাভ করবে। শেষ পর্যন্ত গৃহযুদ্ধের উপক্রম হবে। তবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন স্থানে বারবার বিশদভাবে এটা বলেছেন যে, যদি শাসক ও খলীফা এবং উচু পর্যায়ের লোক এমন কোন কাজের নির্দেশ দেন, যা আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশের পরিপন্থী তখন তার আনুগত্য করা যাবে না। لا طَاعَة لِمَخْلُوق فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ - তাকওয়া ও নির্দেশদাতার আনুগত্যের দিকনির্দেশ ও উপদেশের পর তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে যে কেউ আমার পর জীবিত থাকবে সে উম্মতের মধ্যে বিরাট মতভেদ দেখতে পাবে। তখন মুক্তির পথ এটাই যে, আমার তরীকা ও আমার সঠিক পথের দিশারী খলীফাগণের তরীকাকে শক্তভাবে আঁকড়ে থাকা, কেবল তারই অনুসরণ করা হবে। আর দীনে সৃষ্ট নতুন নতুন বিষয় ও বিদ'আতসমূহ থেকে বেঁচে থাকা। কেননা, প্রত্যেক বিদ'আত গোমরাহী এবং কেবলই গোমরাহী।
আলোচ্য হাদীস শরীফ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মু'জিযা সমূহের মধ্যে গণ্য। যখন তাঁর জীবিতকালে উম্মতের মধ্যে কেউই মতভেদ ও বিভক্তির কল্পনা করতে পারতেন না, তখন তিনি বলেছিলেন, তোমাদের মধ্যে যে সব লোক আমার পর জীবিত থাকবে তারা বিরাট বিরাট মতভেদ দেখতে পাবে, তা-ই বাস্তবরূপ লাভ করেছে। তাঁর সেই সব সাথী ও প্রিয়জন তাঁর ইন্তিকালের পর পঁচিশ-ত্রিশ বছরও জীবিত রয়েছেন তাঁরা উম্মতের এসব মতভেদ দর্শন করেছিলেন। এরপর মতভেদসমূহ বৃদ্ধিই পেতে থাকে। আজ যখন চৌদ্দ'শ হিজরী শেষ ও পনের'শ সাল শুরু হয়ে চলছে। (বর্তমানে ১৪২৬ হিজরী- অনুবাদক) উম্মতের মতভেদ সমূহের যে অবস্থা আমরা প্রত্যক্ষ করছি আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে হক ও হিদায়াতে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাতের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার তাওফীক দিন।
সর্বাবস্থায় খলীফা ও শাসকদের নির্দেশ পালন ও আনুগত্য করা হবে। যদিও সে কোন নিম্ন শ্রেণীর লোক হোক। দীনে তাকওয়ার গুরুত্ব তো সুস্পষ্ট। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতের সফলতা এর উপর সীমাবদ্ধ। আর এটাও সুস্পষ্ট যে, জগতে জাতির সামষ্টিক পদ্ধতি সঠিক ও মজবুত হিসাবে প্রতিষ্ঠিত থাকার জন্য প্রয়োজন খলীফা ও শাসকের আনুগত্য করা। যদি এরূপ করা না হয় তবে বিচ্ছিন্নতা ও বিভক্তি সৃষ্টি হবে, নৈরাজ্য বিস্তার লাভ করবে। শেষ পর্যন্ত গৃহযুদ্ধের উপক্রম হবে। তবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন স্থানে বারবার বিশদভাবে এটা বলেছেন যে, যদি শাসক ও খলীফা এবং উচু পর্যায়ের লোক এমন কোন কাজের নির্দেশ দেন, যা আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশের পরিপন্থী তখন তার আনুগত্য করা যাবে না। لا طَاعَة لِمَخْلُوق فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ - তাকওয়া ও নির্দেশদাতার আনুগত্যের দিকনির্দেশ ও উপদেশের পর তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে যে কেউ আমার পর জীবিত থাকবে সে উম্মতের মধ্যে বিরাট মতভেদ দেখতে পাবে। তখন মুক্তির পথ এটাই যে, আমার তরীকা ও আমার সঠিক পথের দিশারী খলীফাগণের তরীকাকে শক্তভাবে আঁকড়ে থাকা, কেবল তারই অনুসরণ করা হবে। আর দীনে সৃষ্ট নতুন নতুন বিষয় ও বিদ'আতসমূহ থেকে বেঁচে থাকা। কেননা, প্রত্যেক বিদ'আত গোমরাহী এবং কেবলই গোমরাহী।
আলোচ্য হাদীস শরীফ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মু'জিযা সমূহের মধ্যে গণ্য। যখন তাঁর জীবিতকালে উম্মতের মধ্যে কেউই মতভেদ ও বিভক্তির কল্পনা করতে পারতেন না, তখন তিনি বলেছিলেন, তোমাদের মধ্যে যে সব লোক আমার পর জীবিত থাকবে তারা বিরাট বিরাট মতভেদ দেখতে পাবে, তা-ই বাস্তবরূপ লাভ করেছে। তাঁর সেই সব সাথী ও প্রিয়জন তাঁর ইন্তিকালের পর পঁচিশ-ত্রিশ বছরও জীবিত রয়েছেন তাঁরা উম্মতের এসব মতভেদ দর্শন করেছিলেন। এরপর মতভেদসমূহ বৃদ্ধিই পেতে থাকে। আজ যখন চৌদ্দ'শ হিজরী শেষ ও পনের'শ সাল শুরু হয়ে চলছে। (বর্তমানে ১৪২৬ হিজরী- অনুবাদক) উম্মতের মতভেদ সমূহের যে অবস্থা আমরা প্রত্যক্ষ করছি আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে হক ও হিদায়াতে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাতের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার তাওফীক দিন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)