মা'আরিফুল হাদীস
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৩
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধের তাকীদ আর এ কাজে ত্রুটির ওপর শক্ত হুঁশিয়ারী
৩৩. হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কুরআন মজীদের এ আয়াত তিলাওয়াত یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا عَلَیۡکُمۡ اَنۡفُسَکُمۡ ۚ لَا یَضُرُّکُمۡ مَّنۡ ضَلَّ اِذَا اہۡتَدَیۡتُمۡ হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের চিন্তা কর। তোমরা সঠিক পথে থাকলে যারা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে, তারা তোমাদের কোনও ক্ষতি করতে পারবে না।
(হযরত সিদ্দিকে আকবর (রা) এ আয়াতের বরাত দিয়ে বলেন, আয়াত থেকে কেউ যেন ভুল না বুঝে) আমি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি তিনি বলতেন, যখন মানুষের এ অবস্থা দাঁড়ায় যে, সে শরী'আতের পরিপন্থী কাজ হতে দেখে আর এর সংশোধন ও পরিবর্তনের কোন চেষ্টা করে না, তবে আসন্ন ভয় রয়েছে যে, আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে তাদের সবার ওপর আযাব এসে যাবে। (সুনানে ইবনে ্ মাজাহ্, জামি' তিরমিযী)
(হযরত সিদ্দিকে আকবর (রা) এ আয়াতের বরাত দিয়ে বলেন, আয়াত থেকে কেউ যেন ভুল না বুঝে) আমি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি তিনি বলতেন, যখন মানুষের এ অবস্থা দাঁড়ায় যে, সে শরী'আতের পরিপন্থী কাজ হতে দেখে আর এর সংশোধন ও পরিবর্তনের কোন চেষ্টা করে না, তবে আসন্ন ভয় রয়েছে যে, আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে তাদের সবার ওপর আযাব এসে যাবে। (সুনানে ইবনে ্ মাজাহ্, জামি' তিরমিযী)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيْقِ إِنَّكُمْ تَقْرَءُونَ هَذِهِ الآيَةَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ} فَإِنِّيْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوُا الْمُنْكَرَ فَلَمْ يُغَيِّرُوا يُوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابِهِ. (رواه ابن ماجه والترمذى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এটা সূরা মায়িদায় ১০৫ নং আয়াত যার বরাত হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) দিয়েছেন। এ আয়াতের প্রকাশ্য শব্দাবলি থেকে কারো এ ভুল উপলব্ধি হতে পারে যে, ঈমানদারদের দায়িত্ব কেবল এই- সে এই চিন্তা করবে, সে স্বয়ং আল্লাহ্ ও রাসূলের প্রদর্শিত পথে থাকবে। অন্যদের সংশোধন ও হিদায়াতের যেন দায়িত্ব নেই। যদি অন্যান্য লোক আল্লাহ ও রাসূলের আহকামের পরিপন্থী চলে তবে চলতে থাকবে। তাদের গোমরাহী ও ভ্রান্ত কাজের দ্বারা আমার কোন ক্ষতি হবে না।
সিদ্দীকে আকবর (রা) এই ভ্রান্তি অপনোদনের জন্য বলেন, আয়াত থেকে এটা বুঝা ভুল হবে। আমি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি, তিনি বলতেন, যখন লোকদের রীতি এরূপ হবে যে, তারা অন্য লোকদেরকে শরী'আতের পরিপন্থী কাজ করতে দেখে, আর তাদের সংশোধনের চেষ্টা করে না বরং তাদেরকে তাদের অবস্থার ওপর ছেড়ে দেয় তবে এ কথার আসন্ন ভয় রয়েছে যে, আল্লাহর নিকট হতে এমন আযাব আসবে যা সবাইকে তার আওতায় আবদ্ধ করবে।
আবূ বকর (রা)-এর আলোচ্য হাদীস এবং কুরআন ও হাদীসের অন্যান্য দলীলের আলোকে সূরা মায়িদার উক্ত আয়াতের ফায়দা ও দাবি এই হবে, হে মু'মিনগণ! যখন তোমরা হিদায়াতের পথে থাকবে, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আহকাম পালন করে চলবে (যার মধ্যে 'আমর বিল মারূফ ওয়া নাহী আনিল মুনকার এবং যথা সাধ্য আল্লাহর বান্দাদের সংশোধন ও হিদায়াতের চেষ্টাও অন্তর্ভুক্ত) সুতরাং এরপর আল্লাহ্ থেকে নির্ভীক যে সব লোক হিদায়াত গ্রহণ করে না বরং গোমরাহীর অবস্থায় থাকে তখন তোমাদের ওপর তাদের এই গোমরাহী ও নাফরমানীর ব্যাপারে কোন দায়িত্ব নেই। তোমরা আল্লাহর নিকট মুক্ত। হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা) -এর হাদীস مَن رأى مِنكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرَهُ بِيَدِه ........ الحدي এই মা'আরিফুল হাদীসের ধারাবাহিকতায় ঈমান অধ্যায়ে লিপিবন্ধ হয়েছে। যার মুদ্দা কথা এই, যে ব্যক্তি শরী'আতের পরিপন্থী কোন কাজ হতে দেখে, তখন যদি সে শক্তি ব্যবহার ও বাধা দিতে সক্ষম হয় তবে তা প্রয়োগ করে উক্ত মন্দ কাজে বাধা দেবে। আর যদি এ সামর্থ না থাকে তবে শক্তিও না থাকে তবে মুখ দ্বারাই উপদেশ দেবে ও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করবে। যদি এ শক্তিও না থাকে তবে অন্তর দ্বারা তা মন্দ জানবে ও অন্তরে এর বিপরীত অনুভূতি রাখবে।
সিদ্দীকে আকবর (রা) এই ভ্রান্তি অপনোদনের জন্য বলেন, আয়াত থেকে এটা বুঝা ভুল হবে। আমি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি, তিনি বলতেন, যখন লোকদের রীতি এরূপ হবে যে, তারা অন্য লোকদেরকে শরী'আতের পরিপন্থী কাজ করতে দেখে, আর তাদের সংশোধনের চেষ্টা করে না বরং তাদেরকে তাদের অবস্থার ওপর ছেড়ে দেয় তবে এ কথার আসন্ন ভয় রয়েছে যে, আল্লাহর নিকট হতে এমন আযাব আসবে যা সবাইকে তার আওতায় আবদ্ধ করবে।
আবূ বকর (রা)-এর আলোচ্য হাদীস এবং কুরআন ও হাদীসের অন্যান্য দলীলের আলোকে সূরা মায়িদার উক্ত আয়াতের ফায়দা ও দাবি এই হবে, হে মু'মিনগণ! যখন তোমরা হিদায়াতের পথে থাকবে, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আহকাম পালন করে চলবে (যার মধ্যে 'আমর বিল মারূফ ওয়া নাহী আনিল মুনকার এবং যথা সাধ্য আল্লাহর বান্দাদের সংশোধন ও হিদায়াতের চেষ্টাও অন্তর্ভুক্ত) সুতরাং এরপর আল্লাহ্ থেকে নির্ভীক যে সব লোক হিদায়াত গ্রহণ করে না বরং গোমরাহীর অবস্থায় থাকে তখন তোমাদের ওপর তাদের এই গোমরাহী ও নাফরমানীর ব্যাপারে কোন দায়িত্ব নেই। তোমরা আল্লাহর নিকট মুক্ত। হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা) -এর হাদীস مَن رأى مِنكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرَهُ بِيَدِه ........ الحدي এই মা'আরিফুল হাদীসের ধারাবাহিকতায় ঈমান অধ্যায়ে লিপিবন্ধ হয়েছে। যার মুদ্দা কথা এই, যে ব্যক্তি শরী'আতের পরিপন্থী কোন কাজ হতে দেখে, তখন যদি সে শক্তি ব্যবহার ও বাধা দিতে সক্ষম হয় তবে তা প্রয়োগ করে উক্ত মন্দ কাজে বাধা দেবে। আর যদি এ সামর্থ না থাকে তবে শক্তিও না থাকে তবে মুখ দ্বারাই উপদেশ দেবে ও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করবে। যদি এ শক্তিও না থাকে তবে অন্তর দ্বারা তা মন্দ জানবে ও অন্তরে এর বিপরীত অনুভূতি রাখবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)