মা'আরিফুল হাদীস
কিয়ামতের আলামতসমূহ অধ্যায়
হাদীস নং: ৯৫
কিয়ামতের আলামতসমূহ অধ্যায়
হযরত ঈসা (আ)-এর অবতরণ
৯৫. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমাদের মধ্যে যে কেউ ঈসা (আ) কে পাবে সে যেন তাঁকে আমার সালাম পৌঁছায়। (মুস্তাদ্রাকে হাকিম)
کتاب علاماتِ قیامت
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَدْرَكَ مِنْكُمْ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ فَلْيُقْرِئْهُ مِنِّي السَّلَامَ. (رواه الحاكم فى المستدرك)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ বিষয়ক অন্য এক হাদীস হযরত আবূ হুরাইরা (রা) থেকেও মুসনাদে আহমদে বর্ণিত হয়েছে। আর মুসনাদে আহমদেরই এক বর্ণনায় আছে, হযরত আবূ হুরাইরা (রা) লোকজনকে বলতেন, اِقْرَأُوهُ مِنْ رَّسُولِ الله اَلسَّلَامُ (তোমরা যদি ঈসা (আ) কে পাও তবে তাঁকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সালাম পৌঁছাবে) মুসতাদ্রাকে হাকিমের এক বর্ণনায় আছে, হযরত আবূ হুরাইরা (রা) এক মজলিসে হযরত ঈসা (আ)-এর অবতরণ সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ বাণী বর্ণনার পর উপস্থিত লোকজনকে সম্বোধন করে নিজের পক্ষ থেকে বলেন- أَيْ بَنِيْ أَخِيْ إِنْ رَأَيْتُمُوْهُ فَقُولُوا أَبُوْ هُرَيْرَةَ يَقْرَئُكَ السَّلَام (হে আমার ভাতিজাবৃন্দ! (১) তোমরা যদি হযরত ঈসা (আ) কে দেখতে পাও তবে আমার পক্ষ হতে তাঁকে বলবে, আবু হুরাইয়া (রা) আপনাকে সালাম বলেছেন।) হযরত মাসীহ্ (আ)-এর অবতরণের ব্যাপারে এখানে কেবল সাতটি হাদীস উদ্ধৃত করা হয়েছে।
প্রয়োজন অনুযায়ী এ গুলোর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণও করা হয়েছে। (যেমন মা'আরিফুল হাদীসের এই ধারাবাহিকতায় লিখকের সাধারণ রীতি রয়েছে) প্রাথমিক ভূমিকার লাইনগুলোতে আমার উস্তাদ-যুগের ইমাম হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আন্ওয়ার শাহ্ কাশ্মীরি (রহ)-এর পুস্তক اَلتَّصْرِيحُ بِمَا تَوَاتَرَ فِي نُزُولِ الْمَسِيحِ -এর উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে শ্রদ্ধেয় উস্তাদ কেবল হাদীসের প্রমাণিত কিতাব থেকে হযরত মাসীহ্ (আ)-এর অবতরণ সম্বন্ধে বিভিন্ন সাহাবায়ে কিরাম বর্ণিত পঁচাত্তর হাদীস একত্রিত করেছেন। এগুলো বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মজলিসে বলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীসমূহ। সেগুলোতে তিনি শেষ যুগে কিয়ামতের পূর্বে দাজ্জাল প্রকাশের ও তাঁর উম্মতের জন্য বিরাট ফিতনার কারণ হবে বলে উল্লেখ করেছেন। হযরত ঈসা (আ)-এর অবতরণ এবং তাঁর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ও কার্যাবলি সম্বন্ধে উম্মতকে সংবাদ দিয়েছেন। যার নির্দিষ্ট সম্বন্ধ তাঁর উম্মতের সাথে হবে।
সেই পুস্তকে শ্রদ্ধেয় উস্তাদ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীস ছাড়াও মাসীহ্ (আ)-এর এই অবতরণ সম্বন্ধে সাহাবা কিরাম ও তাবিঈনের ছাব্বিশটি বাণীও হাদীসের কিতাবসমূহ হতে একত্রিত করেছেন। সেই কিতাব পাঠে এ কথা দ্বিপ্রহরের সূর্যালোকের ন্যায় সামনে আসে যে, শেষ যুগে হযরত মাসীহ ইবনে মারয়াম (আ)-এর অবতরণের সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক উম্মতকে প্রদান এরূপ পারস্পরিক প্রমাণিত যে, এতে কোন ব্যাখ্যা কিংবা সন্দেহ বা সংশয়ের সুযোগ নেই। বস্তুত হযরত সাহাবা কিরাম এবং তাঁদের পর হযরত তাবিঈন-এর আকীদা তাই ছিল। আর তাঁরা কুরআন মজীদের আয়াত ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীসমূহ থেকে এটাই বুঝেছিলেন। নিঃসন্দেহে শ্রদ্ধেয় উস্তাদ-এর এই পুস্তক এ বিষয়ে অকাট্য প্রমাণ স্বরূপ। وللَّهِ الْحُجَّةُ الْبَالِغَةُ
টিকা: ১. আরবের লোকজন যখন নিজেদের থেকে বড়দের সাথে কথা বলেন, তখন আদব ও সম্মানস্বরূপ বলেন, ياعم (হে চাচাজান!) আর যখন ছোটদের সাথে কথা বলেন, তখন স্নেহ ও ভালবাসাস্বরূপ বলেন, یا ابن اخی (হে আমার ভাতিজা!)
প্রয়োজন অনুযায়ী এ গুলোর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণও করা হয়েছে। (যেমন মা'আরিফুল হাদীসের এই ধারাবাহিকতায় লিখকের সাধারণ রীতি রয়েছে) প্রাথমিক ভূমিকার লাইনগুলোতে আমার উস্তাদ-যুগের ইমাম হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আন্ওয়ার শাহ্ কাশ্মীরি (রহ)-এর পুস্তক اَلتَّصْرِيحُ بِمَا تَوَاتَرَ فِي نُزُولِ الْمَسِيحِ -এর উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে শ্রদ্ধেয় উস্তাদ কেবল হাদীসের প্রমাণিত কিতাব থেকে হযরত মাসীহ্ (আ)-এর অবতরণ সম্বন্ধে বিভিন্ন সাহাবায়ে কিরাম বর্ণিত পঁচাত্তর হাদীস একত্রিত করেছেন। এগুলো বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মজলিসে বলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীসমূহ। সেগুলোতে তিনি শেষ যুগে কিয়ামতের পূর্বে দাজ্জাল প্রকাশের ও তাঁর উম্মতের জন্য বিরাট ফিতনার কারণ হবে বলে উল্লেখ করেছেন। হযরত ঈসা (আ)-এর অবতরণ এবং তাঁর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ও কার্যাবলি সম্বন্ধে উম্মতকে সংবাদ দিয়েছেন। যার নির্দিষ্ট সম্বন্ধ তাঁর উম্মতের সাথে হবে।
সেই পুস্তকে শ্রদ্ধেয় উস্তাদ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীস ছাড়াও মাসীহ্ (আ)-এর এই অবতরণ সম্বন্ধে সাহাবা কিরাম ও তাবিঈনের ছাব্বিশটি বাণীও হাদীসের কিতাবসমূহ হতে একত্রিত করেছেন। সেই কিতাব পাঠে এ কথা দ্বিপ্রহরের সূর্যালোকের ন্যায় সামনে আসে যে, শেষ যুগে হযরত মাসীহ ইবনে মারয়াম (আ)-এর অবতরণের সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক উম্মতকে প্রদান এরূপ পারস্পরিক প্রমাণিত যে, এতে কোন ব্যাখ্যা কিংবা সন্দেহ বা সংশয়ের সুযোগ নেই। বস্তুত হযরত সাহাবা কিরাম এবং তাঁদের পর হযরত তাবিঈন-এর আকীদা তাই ছিল। আর তাঁরা কুরআন মজীদের আয়াত ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীসমূহ থেকে এটাই বুঝেছিলেন। নিঃসন্দেহে শ্রদ্ধেয় উস্তাদ-এর এই পুস্তক এ বিষয়ে অকাট্য প্রমাণ স্বরূপ। وللَّهِ الْحُجَّةُ الْبَالِغَةُ
টিকা: ১. আরবের লোকজন যখন নিজেদের থেকে বড়দের সাথে কথা বলেন, তখন আদব ও সম্মানস্বরূপ বলেন, ياعم (হে চাচাজান!) আর যখন ছোটদের সাথে কথা বলেন, তখন স্নেহ ও ভালবাসাস্বরূপ বলেন, یا ابن اخی (হে আমার ভাতিজা!)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)