কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
১১. জবাইয়ের বিধান
হাদীস নং: ২৮৩৩
আন্তর্জাতিক নং: ২৮৪২
জবাইয়ের বিধান
৯৮. আকিকা সম্পর্কে।
২৮৩৩. কা‘নবী (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে আকীকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ উকূক (মাতাপিতার নাফরমানী করা)-কে পছন্দ করেন না। কেননা তিনি উকুক শব্দটিকে পছন্দ করেননি।
রাবী বলেন, যার কোন শিশু সন্তান জন্ম নেয়, আর সে তার পক্ষ হতে কুরবানী করতে চায়, তবে তার উচিত হবে পুত্র সন্তানের জন্য দু’টি একই ধরনের বকরী এবং কন্যা সন্তানের পক্ষে একটি বকরী কুরবানী করা।
অতঃপর তাঁকে ফারাআ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি বলেনঃ ফারাআ তো জায়েয এবং বৈধ (যদি তা আল্লাহর নামের উপর করা হয়)। কিন্তু ঐ শিশু সন্তানকে এতদিন ছেড়ে রাখা, যাতে ঐ উটটি এক বা দু‘বছরের হয়ে যায়। অতঃপর তোমরা সেটিকে নিঃস্ব, সম্বলহীন ব্যক্তিদের দিয়ে দেবে অথবা মুজাহিদদের বাহনের উদ্দেশ্যে আল্লাহর ওয়াস্তে দিয়ে দেবে। এটা তা থেকে উত্তম যে, তোমরা সেটিকে এমন অবস্থায় কুরবানী করবে যে, এর পশমগুলি তার চামড়ার সাথে লেপ্টে থাকবে। এভাবে তোমাদের পাত্রগুলি উপুড় করে দেবে এবং নিজেদের উটদের পাগল বানিয়ে দেবে; (কেননা, ছোট্ট বাচ্চা যবেহের ফলে মায়ের কষ্ট হয় এবং সে পাগলপারা হয়ে ওঠে।)
রাবী বলেন, যার কোন শিশু সন্তান জন্ম নেয়, আর সে তার পক্ষ হতে কুরবানী করতে চায়, তবে তার উচিত হবে পুত্র সন্তানের জন্য দু’টি একই ধরনের বকরী এবং কন্যা সন্তানের পক্ষে একটি বকরী কুরবানী করা।
অতঃপর তাঁকে ফারাআ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি বলেনঃ ফারাআ তো জায়েয এবং বৈধ (যদি তা আল্লাহর নামের উপর করা হয়)। কিন্তু ঐ শিশু সন্তানকে এতদিন ছেড়ে রাখা, যাতে ঐ উটটি এক বা দু‘বছরের হয়ে যায়। অতঃপর তোমরা সেটিকে নিঃস্ব, সম্বলহীন ব্যক্তিদের দিয়ে দেবে অথবা মুজাহিদদের বাহনের উদ্দেশ্যে আল্লাহর ওয়াস্তে দিয়ে দেবে। এটা তা থেকে উত্তম যে, তোমরা সেটিকে এমন অবস্থায় কুরবানী করবে যে, এর পশমগুলি তার চামড়ার সাথে লেপ্টে থাকবে। এভাবে তোমাদের পাত্রগুলি উপুড় করে দেবে এবং নিজেদের উটদের পাগল বানিয়ে দেবে; (কেননা, ছোট্ট বাচ্চা যবেহের ফলে মায়ের কষ্ট হয় এবং সে পাগলপারা হয়ে ওঠে।)
أول كتاب الذبائح
باب فِي الْعَقِيقَةِ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ - يَعْنِي ابْنَ عَمْرٍو - عَنْ دَاوُدَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ أُرَاهُ عَنْ جَدِّهِ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْعَقِيقَةِ فَقَالَ " لاَ يُحِبُّ اللَّهُ الْعُقُوقَ " . كَأَنَّهُ كَرِهَ الاِسْمَ وَقَالَ " مَنْ وُلِدَ لَهُ وَلَدٌ فَأَحَبَّ أَنْ يَنْسُكَ عَنْهُ فَلْيَنْسُكْ عَنِ الْغُلاَمِ شَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ " . وَسُئِلَ عَنِ الْفَرَعِ قَالَ " وَالْفَرَعُ حَقٌّ وَأَنْ تَتْرُكُوهُ حَتَّى يَكُونَ بَكْرًا شُغْزُبًّا ابْنَ مَخَاضٍ أَوِ ابْنَ لَبُونٍ فَتُعْطِيَهُ أَرْمَلَةً أَوْ تَحْمِلَ عَلَيْهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَذْبَحَهُ فَيَلْزَقَ لَحْمُهُ بِوَبَرِهِ وَتُكْفِئَ إِنَاءَكَ وَتُوَلِّهَ نَاقَتَكَ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, আকীকা ফরয-ওয়াজিবের মত কোন অপরিহার্য কাজ নয়; বরং এটা মুস্তাহাব পর্যায়ের আমল। যেমন, হাদীসের এই শব্দমালায় বুঝা যায়: فأَحَبَّ أنْ ينسُكَ عنه، فلْيَنسُكْ অনুরূপভাবে পুত্র সন্তানের আকীকায় দু'টি ছাগল দেওয়াও জরুরী নয়। হ্যাঁ, যদি সামর্থ্য থাকে, তাহলে দু'টি যবেহ করাই উত্তম, অন্যথায় একটিও যথেষ্ট হয়ে যায়। এক হাদীস থেকে জানা যায় যে, স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত হাসান ও হযরত হুসাইন রাযি.-এর পক্ষ থেকে একটি একটি ছাগলই যবেহ করে ছিলেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)