কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ

১. পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়

হাদীস নং: ৩১২
আন্তর্জাতিক নং: ৩১২
পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়
মুকীমের তায়াম্মুম
৩১৩। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে আবযা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি উমর (রাযিঃ) এর নিকট এসে বলল আমি জানাবাতের অবস্থায় আছি কিন্তু পানি পাইনি। উমর (রাযিঃ) বললেনঃ তুমি নামায আদায় করো না। একথা শুনে আম্মার ইবনে ইয়াসির বললেন, হে আমিরুল মু'মিনীন! আপনার কি স্মরণ নেই, যে এক সময় আমি আর আপনি এক যুদ্ধে ছিলাম, আমরা উভয়ে জুনুবী হয়ে পড়লাম, আর আমরা পানি পেলাম না। এতে আপনি নামায আদায় করলেন না কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম, তারপর নামায আদায় করলাম।

তারপর আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তার নিকট ঘটনা বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এ ই যথেষ্ট ছিল। এ বলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার হস্তদ্বয় মাটিতে মারলেন এরপর তাতে ফুঁ দিলেন এবং তা দ্বারা তার চেহারা এবং উভয় হাত মাসাহ্‌ করলেন। বর্ণনাকারী সালাম সন্দেহ করলেন এ ব্যাপারে তার মনে নেই কনুই পর্যন্ত বলেছেন নাকি কব্জি পর্যন্ত। এ কথা শুনে উমর (রাযিঃ) বললেনঃ তুমি যা বর্ণনা করলে তার দায়দায়িত্ব তোমার উপরেই অর্পণ করলাম।
كتاب الطهارة
باب التيمم في الحضر
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَلَمَةَ، عَنْ ذَرٍّ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى عُمَرَ فَقَالَ إِنِّي أَجْنَبْتُ فَلَمْ أَجِدِ الْمَاءَ . قَالَ عُمَرُ لاَ تُصَلِّ . فَقَالَ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَمَا تَذْكُرُ إِذْ أَنَا وَأَنْتَ فِي سَرِيَّةٍ فَأَجْنَبْنَا فَلَمْ نَجِدِ الْمَاءَ فَأَمَّا أَنْتَ فَلَمْ تُصَلِّ وَأَمَّا أَنَا فَتَمَعَّكْتُ فِي التُّرَابِ فَصَلَّيْتُ فَأَتَيْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْنَا ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ " . فَضَرَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدَيْهِ إِلَى الأَرْضِ ثُمَّ نَفَخَ فِيهِمَا ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ - وَسَلَمَةُ شَكَّ لاَ يَدْرِي فِيهِ الْمِرْفَقَيْنِ أَوْ إِلَى الْكَفَّيْنِ - فَقَالَ عُمَرُ نُوَلِّيكَ مَا تَوَلَّيْتَ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উপরে বর্ণিত হাদীসে যে ঘটনা বিবৃত হয়েছে তাতে হযরত উমর (রা)-এর সালাত আদায় না করার ব্যাপারে ভাষ্যকারগণ বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তম্মধ্যে সবচেয়ে সহজ ব্যাখ্যা হচ্ছে এই যে, সম্ভবত তিনি পানি প্রাপ্তির লক্ষ্যে প্রতীক্ষা করছিলেন এবং এ ব্যাপারে খানিকটা আশাবাদীও ছিলেন। এ জন্যই তিনি ঐ সময় তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করা সমীচীন মনে করেননি। আর হযরত আম্মার (রা) তখনও জানতেন না যে, নাপাকীর গোসলের জন্য যে তায়াম্মুম করতে হয় তাও উযূর মত। এজন্য তিনি নিজ ইজতিহাদের নিরিখে মাটিতে গড়াগড়ি করেন। তারপর যখন তিনি তাঁর অবস্থা রাসূলুল্লাহ ﷺ কে অবহিত করেন, তখন তিনি তার ভুল সংশোধন করে দেন এবং বলেন, উযূর বিপরীতে তায়াম্মুমে যে সকল অঙ্গ মাসেহ করতে হয়, নাপাকীর গোসলের বিপরীতেও ঠিক একইভাবে যে সব মাসেহ করে নিতে হয়। হযরত আম্মার (রা) উযূর বিপরীতে তায়াম্মুম সম্পর্কীয় বিষয় অবহিত ছিলেন। এজন্যই রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে সে ব্যাপারে শুধু ইঙ্গিত করলেন।
হযরত আম্মার (রা) বর্ণিত এ হাদীস থেকে এও জানা যায় যে, তায়াম্মুমে ধূলা বিযুক্ত হাত দ্বারা চেহারা মাসেহ করা করা জরুরী নয়। বরং মাটিতে হাত রাখার পর উক্ত ধূলা ফুঁক দিয়ে মাসেহ করাই উত্তম।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)