কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ
৩১. বিশেষ প্রকারের দান
হাদীস নং: ৩৬৮০
আন্তর্জাতিক নং: ৩৬৮০
বিশেষ প্রকারের দান
’নাহল’ সম্পর্কিত নুমান ইবনে বশীর (রাযিঃ)-এর হাদীসের বর্ণনায় বিরোধ
৩৬৮১. মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... নুমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে নবী (ﷺ)-এর নিকট আসেন, তাকে যে দান করেন তার ব্যাপারে তাঁকে সাক্ষী করার জন্য। তখন তিনি বললেনঃ তোমার প্রত্যেক ছেলেকেই কি তার দানের মত দান করেছ? তিনি বললেনঃ না। তিনি এও বললেনঃ তাহলে এ ধরনের ব্যাপারে আমি সাক্ষী থাকছি না। বশীরকে বললেনঃ তোমাকে আনন্দিত করে না যে, তারা (পুত্ররা) সকলেই তোমার সাথে ভাল ব্যবহার করুক। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ-অবশ্যই। তখন তিনি বললেনঃ তবে এমন (কাজ) করো না (সাক্ষী বানিয়ো না)।
كتاب النّحل
ذِكْرُ اخْتِلَافِ أَلْفَاظِ النَّاقِلِينَ لِخَبَرِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ فِي النُّحْلِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى عَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ قَالَ حَدَّثَنَا دَاوُدُ عَنْ عَامِرٍ عَنْ النُّعْمَانِ أَنَّ أَبَاهُ أَتَى بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُشْهِدُ عَلَى نُحْلٍ نَحَلَهُ إِيَّاهُ فَقَالَ أَكُلَّ وَلَدِكَ نَحَلْتَ مِثْلَ مَا نَحَلْتَهُ قَالَ لَا قَالَ فَلَا أَشْهَدُ عَلَى شَيْءٍ أَلَيْسَ يَسُرُّكَ أَنْ يَكُونُوا إِلَيْكَ فِي الْبِرِّ سَوَاءً قَالَ بَلَى قَالَ فَلَا إِذًا
হাদীসের ব্যাখ্যা:
একথা স্পষ্ট যে, এ হাদীসে সন্তানদের সাথে অসম আচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং এটাকে বেইনসাফী সাব্যস্ত করা হয়েছে। কোন কোন ফকীহ এটাকে হারাম পর্যন্ত বলেছেন। তবে অধিকাংশ ফকীহ এবং ইমাম চতুষ্টয়ের মধ্যে ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেয়ী (রহ) কিছু কিছু দলীল ও ইঙ্গিতের ভিত্তিতে এটাকে হারাম তো বলেননি; কিন্তু মাকরূহ ও অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ সাব্যস্ত করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে যে, এ বিধানটি কেবল ঐ অবস্থায়, যখন কাউকে প্রাধান্য দান শরী‘আতসম্মত কোন কারণ ছাড়াই হয়। কিন্তু যদি কোন কারণ থাকে, তাহলে এ কারণ অনুসারে কাউকে প্রাধান্য দেওয়া বৈধ হবে। যেমন, সন্তানদের মধ্যে কেউ যদি চিররোগী হয় এবং সে অন্য ভাইদের মত জীবিকা উপার্জনের চেষ্টা-সাধনা করতে না পারে, তাহলে তার সাথে বিশেষ আচরণ ন্যায়-নীতির পরিপন্থী হবে না; বরং এক পর্যায়ে জরুরী ও সওয়াবের কাজ বিবেচিত হবে। অনুরূপভাবে সন্তানদের মধ্য থেকে কেউ যদি নিজেকে দ্বীন ও জাতির খেদমতে এভাবে নিয়োজিত করে দেয় যে, জীবিকার চেষ্টায় বেশী অংশগ্রহণ করতে পারে না, তাহলে তার সাথেও উপযোগী পর্যায় পর্যন্ত বিশেষ আচরণ কেবল জায়েযই নয়; বরং সওয়াবের কাজ হবে। অনুরূপভাবে এক ভাইয়ের প্রতি বিশেষ ও প্রাধান্যমূলক আচরণ করাতে অন্য ভাইয়েরা যদি সন্তুষ্ট থাকে, তাহলেও এটা জায়েয হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)