আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

২. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৭২
আন্তর্জাতিক নং: ৩৭২
রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত নামাযের অধ্যায়
বসে নামায আদায় করার সাওয়াব দাঁড়িয়ে নামায আদায়ের অর্ধেক।
৩৭২. হান্নাদ (রাহঃ) .... ইবরাহীম ইবনে তাহমানের সূত্রে হুসাইন আল-মুআল্লিম থেকে উল্লেখিত সনদে উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ রাসূল (ﷺ)-কে আমি অসুস্থ ব্যাক্তির নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেনঃ সেও দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবে, তা সম্ভব না হলে বসে পড়বে আর তাও সম্ভব না হলে শুয়ে নামায আদায় করবে।
أبواب الصلاة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ أَنَّ صَلاَةَ الْقَاعِدِ عَلَى النِّصْفِ مِنْ صَلاَةِ الْقَائِمِ
وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ إِلاَّ أَنَّهُ يَقُولُ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَلاَةِ الْمَرِيضِ فَقَالَ " صَلِّ قَائِمًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبٍ " .
حَدَّثَنَا بِذَلِكَ هَنَّادٌ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ بِهَذَا الْحَدِيثِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَلاَ نَعْلَمُ أَحَدًا رَوَى عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ نَحْوَ رِوَايَةِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ . وَقَدْ رَوَى أَبُو أُسَامَةَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ نَحْوَ رِوَايَةِ عِيسَى بْنِ يُونُسَ . وَمَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي صَلاَةِ التَّطَوُّعِ . حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ أَشْعَثَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ عَنِ الْحَسَنِ قَالَ إِنْ شَاءَ الرَّجُلُ صَلَّى صَلاَةَ التَّطَوُّعِ قَائِمًا وَجَالِسًا وَمُضْطَجِعًا . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي صَلاَةِ الْمَرِيضِ إِذَا لَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يُصَلِّيَ جَالِسًا فَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ يُصَلِّي عَلَى جَنْبِهِ الأَيْمَنِ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ يُصَلِّي مُسْتَلْقِيًا عَلَى قَفَاهُ وَرِجْلاَهُ إِلَى الْقِبْلَةِ . وَقَالَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ " مَنْ صَلَّى جَالِسًا فَلَهُ نِصْفُ أَجْرِ الْقَائِمِ " . قَالَ هَذَا لِلصَّحِيحِ وَلِمَنْ لَيْسَ لَهُ عُذْرٌ . يَعْنِي فِي النَّوَافِلِ فَأَمَّا مَنْ كَانَ لَهُ عُذْرٌ مِنْ مَرَضٍ أَوْ غَيْرِهِ فَصَلَّى جَالِسًا فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ الْقَائِمِ . وَقَدْ رُوِيَ فِي بَعْضِ هَذَا الْحَدِيثِ مِثْلُ قَوْلِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেন : হুসাইন আল-মুআল্লিম (রাহঃ) থেকে ইবরাহীম ইবনে তাহমানের অনুরূপ কেউ রিওয়ায়াত করেছে বলে আমরা জানি না। আবু উসামা এবং আরো একাধিক রাবী ঈসা ইবনে ইউনূসের অনুরূপ রিওয়ায়াত হুসাইন আল-মুআল্লিম সূত্রে করেছেন।

কতক আলিম এই হাদীসটির র্মম সম্পর্কে বলেছেন যে, এটি নফলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ... হাসান বসরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ কেউ ইচ্ছা করলে দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে নফল নামায আদায় করতে পারে। অসূস্থ ব্যাক্তি যদি বসেও নামায আদায় না করতে পারে তবে সে কিভাবে নামায আদায় করবে, সে বিষয়ে আলিমদের মতবিরোধ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেনঃ ঐ ধরনের ব্যাক্তি ডান পার্শ্বে শুয়ে নামায আদায় করবে। আর কেউ কেউ বলেনঃ কিবলার দিকে পা করে চিত হয়ে শুয়ে নামায আদায় করবে। ‘‘বসে নামায আদায় করা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আদায় করার তুলনায় অর্ধেক সওয়াব হবে’’ এই হাদীসটির ব্যাখ্যায় ইমাম সুফিয়ান সাওরী বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি সুস্থ এবং যার কোন উযর নাই, এমন ধরনের ব্যাক্তির ক্ষেত্রে এই হাদীসটি প্রযোজ্য। কিন্তু যদি কেউ অসুস্থতা বা কোন ওযরের কারণে বসে নামায আদায় করে, তবে সে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করার মতই সওয়াব পাবে। সুফিয়ান সাওরীর এই বক্তব্যের অনুরূপ বক্তব্য কিছু হাদীসেও আছে।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

নামায দাঁড়িয়ে পড়াই জরুরী। তবে কেউ দাঁড়াতে একান্ত অপারগ হলে তাকে বসে বা তা-ও না পারলে শুয়ে অথবা ইশারা করে নামায পড়তে হবে। সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেউ বসে নামায পড়লে তার নামায হবে না। এটাই হানাফী মাযহাবের মত। (শামী: ১/৪৪৪, ৪৪৫)

ফায়দা : বর্তমান সময় সামান্য সামান্য অসুস্থতার কারণে মানুষের মধ্যে চেয়ারে বসে নামায আদায়ের পরিমাণ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ দাঁড়িয়ে নামায আদায় করা ফরয। একান্ত দাঁড়াতে অক্ষম হলে জমিনে বসে নামায আদায় করবে। হাঁটুতে ব্যথার কারণে পা ভাজ করতে না পারলে আসন গেড়ে বা কিবলার দিকে পা লম্বা করে দিয়েও নামায আদায় করতে পারে। অবশ্য দাঁড়িয়ে নামায পড়তে অক্ষম কোন ব্যক্তি যদি মাজা ব্যথার কারণে জমিনে বসতেও না পারে কিংবা মুসলিম অভিজ্ঞ ডাক্তার তাকে এ মর্মে সতর্ক করে যে, জমিনে বসা তার জন্য ক্ষতিকর তাহলে কেবল সে চেয়ারে বসে নামায আদায় করতে পারে। আর বসতে অক্ষম কোন ব্যক্তি যদি দাঁড়াতে সক্ষম হয় তাহলে সে দাঁড়ানোর আমল দাঁড়িয়েই করবে আর সিজদা বা অক্ষমতা বশত রুকু-সিজদা চেয়ারে বসে আদায় করবে। মনে রাখতে হবে, দাঁড়িয়ে নামায আদায় করা ফরয। দাঁড়াতে অক্ষম ব্যক্তির জন্যই কেবল প্রয়োজনীয় ছাড় প্রযোজ্য হবে।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, গ্রামের মহিলাগণ অজ্ঞতার কারণে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সামান্য অজুহাতেই বসে বসে নামায পড়েন। অথচ এতে তাদের নামায হয় না। আবার শহরের অতি আধুনিক মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিগণ সামান্য কোমরে ব্যথা বা হাঁটু ব্যথার অজুহাতে অভিজ্ঞ মুফতি বা ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত চেয়ারে বসে নামায পড়ে থাকেন। অথচ তারা চেষ্টা করলে একটু কষ্ট হলেও দাঁড়িয়ে নামায পড়তে পারতেন। গ্রহণযোগ্য ওযর ব্যতীত ফরয বিধান (দাঁড়ানো) পরিত্যাগের কারণে তাদের নামায হচ্ছে না; কিন্তু এ দিকে তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান