আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

১১. নবীজী ﷺ থেকে বিবাহ শাদী সম্পর্কিত বর্ণনা

হাদীস নং: ১০৮৭
আন্তর্জাতিক নং: ১০৮৭
নবীজী ﷺ থেকে বিবাহ শাদী সম্পর্কিত বর্ণনা
প্রস্তাবিত পাত্রী দেখা।
১০৮৭. আহমাদ ইবনে মানী (রাহঃ) ..... মৃগীরা ইবনে শু’বা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি জনৈকা স্ত্রীলোককে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, তুমি তাকে দেখে নাও। তা তোমাদের উভয়ের প্রণয়ে সহায়ক হবে। - ইবনে মাজাহ

এই বিষয়ে মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা, জাবির, আনাস, আবু হুমাইদ ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন এই হাদীসটি হাসান। কোন কোন আলিম হাদীস অনুযায়ী অভিমত গ্রহণ করেছেন। তাঁরা বলেন, যা দেখা নিষিদ্ধ তার প্রতি না তাকিয়ে তাকে দেখা দেখে নেয়ায় কোন দোষ নেই। এ হলো ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এর অভিমত। أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا এ অর্থ হলো তা তোমাদের পরস্পরে ভালবাসা স্থায়ী হওয়ার অধিকতর অনুকুল হবে।
أبواب النكاح عن رسول الله ﷺ
باب مَا جَاءَ فِي النَّظَرِ إِلَى الْمَخْطُوبَةِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي عَاصِمُ بْنُ سُلَيْمَانَ، هُوَ الأَحْوَلُ عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَنَّهُ خَطَبَ امْرَأَةً فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " انْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا " . وَفِي الْبَابِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مَسْلَمَةَ وَجَابِرٍ وَأَنَسٍ وَأَبِي حُمَيْدٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ وَقَالُوا لاَ بَأْسَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَيْهَا مَا لَمْ يَرَ مِنْهَا مُحَرَّمًا . وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَمَعْنَى قَوْلِهِ " أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا " قَالَ أَحْرَى أَنْ تَدُومَ الْمَوَدَّةُ بَيْنَكُمَا .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর এসব নির্দেশাবলীর উদ্দেশ্য এটাই যে, বিয়ে-শাদীর বিষয় অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ, যা সারা জীবনের জন্য এক সিদ্ধান্ত ও চুক্তিস্বরূপ। এটা সংগত নয় যে, চুক্তি অজ্ঞাতসারে অন্ধকারে হবে, বরং জ্ঞাতসারে এবং দেখেশুনে হওয়া চাই। নির্ভরযোগ্য লোক, বিশেষ করে মহিলাদের মাধ্যমেও সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে। যে মাধ্যমই অবলম্বন করা হোক না কেন, সর্বাবস্থায় এ কথার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে যে, পাত্রী বা তার পারিবারিক লোকদের জন্য কঠিন এবং অনভিপ্রেত যেন না হয়। বরং এটা উত্তম যে, তারা বুঝতে পারবে না। সুনানে আবু দাউদে হযরত জারির (রা)-এর এ বর্ণনা এসেছে যে, আমি এক মহিলার জন্য বিয়ের প্রস্তাব নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এ নির্দেশ অনুযায়ী আমি তাকে গোপনে দেখার চেষ্টা চালিয়ে গেলাম। অবশেষে এ বিষয়ে আমি সফলকাম হলাম এবং আমি তাকে বিয়ে করলাম।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান