আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
১৪. ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যাবসা-বাণিজ্যের অধ্যায়
হাদীস নং: ১২১২
আন্তর্জাতিক নং: ১২১২
ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যাবসা-বাণিজ্যের অধ্যায়
ব্যবসার উদ্দেশ্যে ভোরে বের হওয়া।
১২১৫. ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম দাওরাকী (রাহঃ) ...... সাখর গামিদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, হে আল্লাহ্ তুমি আমার উম্মুতের জন্য ভোরের মধ্যে বরকত দান করো। বর্ণনাকারী বলেন, নবী (ﷺ) যখন কোথাও ক্ষুদ্র সেনাদল বা বৃহৎ সৈন্যবাহিনী পাঠাতেন তখন তাদেরকে দিনের প্রথমাংশে পাঠাতেন। সাখর ছিলেন ব্যবসায়ী। তিনি তার ব্যবসায়ীদলকে দিনের শুরুতেই পাঠিয়ে দিতেন। ফলে তিনি ধনবান হন এবং তার সম্পদ প্রচুর বৃদ্ধি পায়।
এই বিষয়ে আলী, ইবনে মাসউদ, বুরায়দা, আনাস, ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস ও জাবির (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, সাখর গামিদী (রাযিঃ) বর্ণিত হাধীসটি হাসান। নবী (ﷺ) থেকে এই হাদীসটি ছাড়া আর কোন হাদীস সাখর গামিদী (রাযিঃ) এর বরাতে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নাই। সুফিয়ান ছাওরী (রাহঃ) এই হাদীসটিকে শু’বা- ইয়া’লা ইবনে আতা (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
এই বিষয়ে আলী, ইবনে মাসউদ, বুরায়দা, আনাস, ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস ও জাবির (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, সাখর গামিদী (রাযিঃ) বর্ণিত হাধীসটি হাসান। নবী (ﷺ) থেকে এই হাদীসটি ছাড়া আর কোন হাদীস সাখর গামিদী (রাযিঃ) এর বরাতে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নাই। সুফিয়ান ছাওরী (রাহঃ) এই হাদীসটিকে শু’বা- ইয়া’লা ইবনে আতা (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
أبواب البيوع عن رسول الله ﷺ
باب مَا جَاءَ فِي التَّبْكِيرِ بِالتِّجَارَةِ .
حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ حَدِيدٍ، عَنْ صَخْرٍ الْغَامِدِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ بَارِكْ لأُمَّتِي فِي بُكُورِهَا " . قَالَ وَكَانَ إِذَا بَعَثَ سَرِيَّةً أَوْ جَيْشًا بَعَثَهُمْ أَوَّلَ النَّهَارِ وَكَانَ صَخْرٌ رَجُلاً تَاجِرًا وَكَانَ إِذَا بَعَثَ تِجَارَةً بَعَثَهُمْ أَوَّلَ النَّهَارِ فَأَثْرَى وَكَثُرَ مَالُهُ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَبُرَيْدَةَ وَأَنَسٍ وَابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَجَابِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ صَخْرٍ الْغَامِدِيِّ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَلاَ نَعْرِفُ لِصَخْرٍ الْغَامِدِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ . وَقَدْ رَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ هَذَا الْحَدِيثَ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীছটিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি দুআ উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আল্লাহ তা'আলার কাছে দুআ করেন, যেন তাঁর উম্মতের জন্য ভোরবেলায় বরকত রাখা হয়। ভোরবেলায় বরকত রাখার অর্থ এ সময় যে কাজ করা হবে তা যেন বরকতপূর্ণ ও কল্যাণময়। সে কাজটি যেন তার কর্তার পক্ষে উপকারী হয় এবং কোনওরূপ ক্ষতির কারণ না হয়। হযরত সাখ্র ইবন ওয়াদা'আ রাযি. একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। অন্যসব সাহাবীর মতো তিনিও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা অনুসরণে যত্নবান ছিলেন। ফলে তিনি এ হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ অনুযায়ী তার ব্যবসায়িক কাজকর্ম ভোরবেলায় শুরু করতেন। কোথাও পণ্য পাঠাতে হলে সকালবেলা পাঠাতেন। এতে করে তাঁর ব্যবসায় খুব লাভ হতো। একপর্যায়ে তিনি বেশ সম্পদশালী হয়ে ওঠেন।
সাহাবায়ে কেরাম তো খুব গুরুত্বের সঙ্গে হাদীছটির উপর আমল করতেন। কিন্তু আমরা বড় গাফেল। আলোচ্য এ হাদীছটির অনুসরণ আমাদের মধ্যে খুবই কম। মানুষ অনেক রাত করে ঘুমায়। ফলে ভোরেও তার ঘুম ধরে। তাই দেখা যায় নামাযী মানুষও ফজরের নামায পড়ার পর লম্বা সময় ঘুমিয়ে থাকে। ফলে তারা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুআর বরকত থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। যে সময়ে কাজ করলে বরকত পাওয়া যেত, সে সময়টা তাদের ঘুমের মধ্যেই চলে যায়।
এ হাদীছটিতে বিশেষ কোনও কাজের বিষয়ে বরকতের দুআ করা হয়নি। বরং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণভাবে দুআ করেছেন যে, হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য ভোরবেলায় বরকত রাখুন। বোঝা গেল যে-কোনও কাজই ভোরবেলায় করলে বরকত লাভ হবে, যদি সে কাজ এ সময়ে করা সম্ভব হয়। যেমন পড়াশোনা করা, যিকির ও তিলাওয়াত করা, অজিফা আদায় করা, কৃষিকার্য করা, সফর করা, ব্যবসা-বাণিজ্য করা, কোনও নির্মাণকার্য শুরু করা, বিবাহের আকদ করা, পারস্পরিক যে-কোনও চুক্তি সম্পাদন করা ইত্যাদি।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. ভোরবেলায় কোনও কাজ করলে সে কাজে বরকত পাওয়া যায়।
খ. বরকত একটি অনস্বীকার্য বাস্তবতা। কোনও ঈমানদার ব্যক্তির তা অস্বীকার করা উচিত নয়।
গ. উম্মতের জন্য নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মায়া-মমতা ছিল অপরিসীম, যে কারণে তিনি তাদের কল্যাণের জন্য আল্লাহ তা'আলার কাছে দুআও করেছেন এবং সে দুআর ভেতর দিয়ে তাদেরকে কল্যাণলাভের উপায়ও বাতলে দিয়েছেন।
সাহাবায়ে কেরাম তো খুব গুরুত্বের সঙ্গে হাদীছটির উপর আমল করতেন। কিন্তু আমরা বড় গাফেল। আলোচ্য এ হাদীছটির অনুসরণ আমাদের মধ্যে খুবই কম। মানুষ অনেক রাত করে ঘুমায়। ফলে ভোরেও তার ঘুম ধরে। তাই দেখা যায় নামাযী মানুষও ফজরের নামায পড়ার পর লম্বা সময় ঘুমিয়ে থাকে। ফলে তারা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুআর বরকত থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। যে সময়ে কাজ করলে বরকত পাওয়া যেত, সে সময়টা তাদের ঘুমের মধ্যেই চলে যায়।
এ হাদীছটিতে বিশেষ কোনও কাজের বিষয়ে বরকতের দুআ করা হয়নি। বরং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণভাবে দুআ করেছেন যে, হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য ভোরবেলায় বরকত রাখুন। বোঝা গেল যে-কোনও কাজই ভোরবেলায় করলে বরকত লাভ হবে, যদি সে কাজ এ সময়ে করা সম্ভব হয়। যেমন পড়াশোনা করা, যিকির ও তিলাওয়াত করা, অজিফা আদায় করা, কৃষিকার্য করা, সফর করা, ব্যবসা-বাণিজ্য করা, কোনও নির্মাণকার্য শুরু করা, বিবাহের আকদ করা, পারস্পরিক যে-কোনও চুক্তি সম্পাদন করা ইত্যাদি।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. ভোরবেলায় কোনও কাজ করলে সে কাজে বরকত পাওয়া যায়।
খ. বরকত একটি অনস্বীকার্য বাস্তবতা। কোনও ঈমানদার ব্যক্তির তা অস্বীকার করা উচিত নয়।
গ. উম্মতের জন্য নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মায়া-মমতা ছিল অপরিসীম, যে কারণে তিনি তাদের কল্যাণের জন্য আল্লাহ তা'আলার কাছে দুআও করেছেন এবং সে দুআর ভেতর দিয়ে তাদেরকে কল্যাণলাভের উপায়ও বাতলে দিয়েছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
বর্ণনাকারী: