আল-আদাবুল মুফরাদ- ইমাম বুখারী রহঃ
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
হাদীস নং: ৬৬৫
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
২৮৬- যে লোক আল্লাহর নিকট চায় না, আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট হন।
৬৬৫. হযরত উসমান (রাযিঃ)-এর পুত্র আবান তাঁহার পিতা হযরত উসমান (রাযিঃ)-এর প্রমুখাৎ বলেন যে, তিনি বলিয়াছেনঃ আমি নবী করীম (ﷺ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকাল-বিকালে এ দু'আ তিনবার করিয়া পড়িবে কোন কিছুই তাহার অনিষ্ট করিতে পারিবে না। بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ “সেই আল্লাহর নামে দুনিয়া বা আসমানের কিছুই যাহার অনিষ্ট সাধন করিতে পারে না এবং তিনিই সবকিছু শুনেন ও জানেন।“
হাদীসের রাবী আবান তখন পক্ষাঘাতগ্রস্ত ছিলেন। রাবী আবু যিনাদ তাহার দিকে (বিস্ময়করভাবে ) তাকাইতে লাগিলেন। আবানের তাহা টের পাইতে বিলম্ব হইল না। তিনি বলিলেনঃ হাদীস তো ইহাই যাহা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করিলাম তবে সেই দিক আমি উহা পড়ি নাই। আল্লাহর লিখন যে অখণ্ডনীয় এজন্যই এমনটি হইয়াছে।
হাদীসের রাবী আবান তখন পক্ষাঘাতগ্রস্ত ছিলেন। রাবী আবু যিনাদ তাহার দিকে (বিস্ময়করভাবে ) তাকাইতে লাগিলেন। আবানের তাহা টের পাইতে বিলম্ব হইল না। তিনি বলিলেনঃ হাদীস তো ইহাই যাহা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করিলাম তবে সেই দিক আমি উহা পড়ি নাই। আল্লাহর লিখন যে অখণ্ডনীয় এজন্যই এমনটি হইয়াছে।
أبواب الأدب المفرد للبخاري
دَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ ، قَالَ : سَمِعْتُ عُثْمَانَ ، قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ : " مَنْ قَالَ صَبَاحَ كُلِّ يَوْمٍ ، وَمَسَاءَ كُلِّ لَيْلَةٍ ، ثَلاثًا ثَلاثًا : بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ ، وَكَانَ أَصَابَهُ طَرَفٌ مِنَ الْفَالِجِ ، فَجَعَلَ يَنْظُرُ إِلَيْهِ ، فَفَطِنَ لَهُ ، فَقَالَ : إِنَّ الْحَدِيثَ كَمَا حَدَّثْتُكَ ، وَلَكِنِّي لَمْ أَقُلْهُ ذَلِكَ الْيَوْمَ ، لِيَمْضِيَ قَدَرُ اللَّهِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত উছমান (রা) থেকে এ হাদীসটির বর্ণনাকারী হচ্ছেন তারই পুত্র আবান। তিনি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন, যার প্রভাব তাঁর দেহে দৃশ্যমান ছিল। একবার যখন তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করছিলেন, তখন তার জনৈক শাগরিদ তাঁর দিকে বিশেষ অর্থবহ দৃষ্টিতে তাকালেন। তিনি বুঝতে পারলেন শাগরিদটি মনে মনে বলছে, আপনি যখন স্বয়ং আপনার পিতা উছমান (রা) থেকে এ হাদীসটি শুনেই ছিলেন, তা হলে আপনার নিজের এ দুর্গতির কারণ কি? আপনার নিজের আবার পক্ষাঘাত হলো কি করে? এ হাদীছে তো সকাল-সন্ধ্যায় তা পাঠে সর্বপ্রকার নিরাপত্তার গ্যারান্টি রয়েছে। তখন তিনি বললেন: মিঞা, আমার দিকে কী দেখছো? না আমি ভুল রিওয়ায়াত করছি আর না হযরত উছমান (রা) আমার কাছে ভুল রিওয়ায়াত করেছেন। একদা কী একটা কারণে আমি অত্যন্ত ক্রুদ্ধাবস্থায় ছিলাম, ফলে সে দিন ঐ দু'আটি পড়তে আমি ভুলে যাই আর ঐ দিনটিতেই আমি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হই। যেহেতু ভাগ্যের লিখন ছিল ঐ দিন আমার পক্ষাঘাত হবে, তাই সেদিন আল্লাহর পক্ষ থেকেই আমাকে তা ভুলিয়ে রাখা হয়। হযরত আবানের এ মন্তব্যটুকু হাদীসের সাথে সাথে সুনানে আবু দাউদ ও জামে' তিরমিযী সহ বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। সকাল-সন্ধ্যায় তিন তিন বার এ দু'আটি পাঠ করা হচ্ছে আল্লাহর নেক বান্দাদের নিত্যদিনের অভ্যাস। নিঃসন্দেহে এতে আসমানী ও যমীনী বালা-মুসীবত থেকে নিরাপত্তার গ্যারান্টি রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)