মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

৯- কুরআনের ফাযাঈল অধ্যায়

হাদীস নং: ২১৬০
- কুরআনের ফাযাঈল অধ্যায়
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২১৬০। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, নবী করীম (ﷺ) এক ব্যক্তিকে 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' পড়িতে শুনিয়া বলিলেনঃ অবধারিত হইয়া গিয়াছে। আমি বলিলাম, হুযুর! কি অবধারিত হইয়া গিয়াছে ? তিনি বলিলেন, বেহেশত। ——মালেক, তিরমিযী ও নাসায়ী
كتاب فضائل القرآن
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمِعَ رَجُلًا يَقْرَأُ (قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ)

فَقَالَ: «وَجَبَتْ» قُلْتُ: وَمَا وَجَبَتْ؟ قَالَ: «الْجنَّة» . رَوَاهُ مَالك وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

সাহাবায়ে কিরাম, যাঁদের তা'লীম-তরবিয়ত সরাসরি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর হাতেই হয়েছিল আর যারা প্রত্যেকটি আমলে তাঁর অনুসরণ-অনুকরণের ব্যাপারে পরম লালায়িত ছিলেন, তাঁদের কুরআন তিলাওয়াত কালে, বিশেষত সে সব খাস সূরা ও আয়াতের তিলাওয়াত কালে, যেগুলোতে আল্লাহর একত্ব ও তাঁর মহৎ গুণাবলীর অত্যন্ত কার্যকর ও মর্মস্পর্শী বর্ণনা রয়েছে, তখন নিশ্চয়ই দর্শক মাত্রই অনুভব করতেন যে, এটা তাঁদের অন্তরের অবস্থারই অভিব্যক্তি, তাঁদের রসনায় স্বয়ং আল্লাহর কথা বলেছেন! এ হাদীসে যে সাহাবীর 'কুলহুয়াল্লাহু' পাঠের উল্লেখ রয়েছে, তাঁর অবস্থাও নিশ্চয়ই এরূপই ছিল। হুযুর ﷺ সুস্পষ্ট ভাবে অনুভব করছিলেন যে, এ ব্যক্তি তাঁর পূর্ণ ঈমানী অবস্থা ও প্রত্যয়ী মন নিয়ে সেরূপ উৎসাহ-উদ্দীপনা সহকারে 'কুল হুয়াল্লাহু আহাদ' পাঠ করেছে। এহেন ব্যক্তির জন্যে জান্নাত যে অপরিহার্য, তা বলাই বাহুল্য। আল্লাহ তা'আলা সে নিয়ামতের কিছু অংশ আমাদের মত অভাগাদেরকেও দান করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মিশকাতুল মাসাবীহ - হাদীস নং ২১৬০ | মুসলিম বাংলা