মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২১- শিকার ও জবাইয়ের পশুর বিধান

হাদীস নং: ৪১২৯
- শিকার ও জবাইয়ের পশুর বিধান
২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যেসব প্রাণী খাওয়া হালাল ও হারাম
৪১২৯। হযরত জাবের (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) খায়বার যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাধা, খচ্চরের গোশত, প্রত্যেক ( তীক্ষ্ণ ) দন্তবান হিংস্র জানোয়ার এবং পাঞ্জাবিশিষ্ট (শিকারী) পাখী খাওয়া হারাম করিয়াছেন। – তিরমিযী এবং তিনি বলিয়াছেন, এই হাদীসটি গরীব।
كتاب الصيد والذبائح
وَعنهُ حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْنِي يَوْمَ خَيْبَرَ الْحُمُرَ الْإِنْسِيَّةَ وَلُحُومَ الْبِغَالِ وَكُلَّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ وَكُلَّ ذِي مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيث غَرِيب

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ঐসকল পশু যেগুলো মুখ ও দাঁত দিয়ে শিকার করে- যেমন সিংহ, চিতা, বাঘ এবং অনুরূপভাবে কুকুর ও বিড়াল, এগুলোর এমন ধারালো দাঁত থাকে যাকে আরবীতে ناب বলা হয়। এগুলোই এসব পশুর আঘাত ও আক্রমণের বিশেষ অস্ত্র। অনুরূপভাবে যেসব পাখী শিকার ধরে, যেমন- বাজ, চিল ইত্যাদি তাদের আক্রমণের হাতিয়ার হচ্ছে- ঐ পাঞ্জা, যা দিয়ে ঝাপটা মেরে শিকারকে নিজের আয়ত্বে নিয়ে আসে।

হাদীসটির মর্ম ও সারবস্তু এই যে, চতুষ্পদ হিংস্রপ্রাণী, যেগুলোর মুখে ধারালো দাঁত থাকে এবং শিকার করে, অনুরূপভাবে শিকারী পাখী, যেগুলো পাঞ্জা দ্বারা ঝাপটা মেরে শিকার করে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এগুলো খেতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ, এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, এগুলো খাওয়া যাবে না। বস্তুত এগুলোও হারাম ও অপবিত্র জিনিসের অন্তর্ভুক্ত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান