মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২৬- আদাব - শিষ্টাচার অধ্যায়

হাদীস নং: ৫০৬২
- আদাব - শিষ্টাচার অধ্যায়
১৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আত্মসংযম ও কাজে ধীরস্থিরতা
৫০৬২। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) আবুল হাইসাম ইবনে, তাইয়োহানকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার কোন খাদেম আছে কি? তিনি বলিলেন; না। তখন হুযূর (ﷺ) বলিলেনঃ যখন আমাদের কাছে কয়েদী আসিবে তখন তুমি আমাদের নিকট আসিও। অতঃপর নবী (ﷺ)-এর নিকট দুই জন কয়েদী আনা হইল এবং এই সময় আবুল হাইসামও আসিয়া উপস্থিত হইলেন। তখন নবী করীম (ﷺ) আবুল হাইসামকে বলিলেনঃ ইহাদের মধ্য হইতে যে কোন একটিকে পছন্দ করিয়া লও। তিনি বলিলেন, ইয়া নবী আল্লাহ্! আপনিই আমার জন্য পছন্দ করিয়া দিন। তখন নবী (ﷺ) বলিলেনঃ যাহার নিকট পরামর্শ চাওয়া হয়, সে হইল আমানতদার। অতঃপর বলিলেনঃ এটিই লইয়া যাও। কেননা, আমি তাহাকে নামায পড়িতে দেখিয়াছি। তবে আমি ইহার সম্পর্কে এই উপদেশ দিতেছি যে, তাহার সহিত সদাচরণ করিবে। —তিরমিযী
كتاب الآداب
وَعَنْ أَبِي

هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لأبي الهيثمِ بن التَّيِّهان: «هَلْ لَكَ خَادِمٌ؟» فَقَالَ: لَا. قَالَ: فَإِذَا أَتَانَا سَبْيٌ فَأْتِنَا فَأُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِرَأْسَيْنِ فَأَتَاهُ أَبُو الْهَيْثَمِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اخْتَرْ مِنْهُمَا» . فَقَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ اخْتَرْ لِي فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْمُسْتَشَارَ مُؤْتَمَنٌ. خُذْ هَذَا فَإِنِّي رَأَيْتُهُ يُصَلِّي وَاسْتَوْصِ بِهِ مَعْرُوفًا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. পরামর্শপ্রার্থীকে সঠিক ও কল্যাণমূলক পরামর্শ দেওয়া একটি বিশেষ আমানত। নিজ স্বার্থে অথবা কাহারও মন রক্ষার্থে যথাযথ পরামর্শ গোপন করা জঘন্যতম খেয়ানত।

২. আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে মানুষকে পরামর্শদাতার সম্মানিত আসন দান করা হয়। যে ব্যক্তিকে পরামর্শদাতা হিসেবে নির্বাচিত বা গ্রহণ করা হয়, তার যিম্মাদারী অত্যাধিক। খুব সুচিন্তিতভাবে রায় দিতে হবে। রায়দানকালে নিজের লাভ-লোকসানের দিকে মোটেই খেয়াল করা উচিত হবে না। নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি বা মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও সত্য ও সঠিক পরামর্শ দিতে হবে। কোনরূপ বাহানা বা অজুহাতের দোহাই দিয়ে সঠিক রায় গোপন রাখা যাবে না। পরামর্শ গ্রহণকারীর বিষয়ের সম্পূর্ণ গোপনীয়তা রক্ষা করা পরামর্শদাতার কর্তব্য। বিষয়ের গোপনীয়তা অন্যের কাছে প্রকাশ করা অনুচিত। পরামর্শ গ্রহণকারী কর্তৃক প্রদত্ত তথ্য নিজের ফায়দার জন্য ব্যবহার করা অনুচিত। পরামর্শের নিয়ম-নীতি লংঘন করা এক ধরনের খিয়ানত। আল্লাহ খিয়ানতকারীকে অপসন্দ করেন এবং প্রত্যেক খিয়ানতকারী কিয়ামতের দিন কঠোর অবস্থার সম্মুখীন হবে। যে সব উকিল, ব্যারিস্টার এবং আইনজীবি নিজেদের মক্কেলের তথ্য অন্যের কাছে ফাঁস করেন বা তাদের উপর ভিত্তি করে নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য স্থাপন করেন, তারা খুব অনুচিত কাজ করেন। এ ধরনের কাজ আমানতের খিয়ানত। অনুরূপভাবে জনগণের ব্যবসা-বাণিজ্যের গোপন সূত্র সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মচারীর পক্ষে ব্যবহার করা উচিত নয়। রাষ্ট্রের গোপন তথ্যকে নিজেদের স্বার্থের জন্য ব্যবহার করা কর্মচারীর জন্য সম্পূর্ণ অনুচিত।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান