মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
হাদীস নং: ৫২০০
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৫২০০। হযরত আবু যার (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ নিশ্চয় সে সফলকাম হইয়াছে আল্লাহ্ তা'আলা যাহার অন্তরকে ঈমানের জন্য খালেছ করিয়া দিয়াছেন। এবং আল্লাহ্ তাআলা তাহার হৃদয়কে (হিংসা ও মুনাফেকী হইতে) নিবৃত্ত, রসনাকে সত্যভাষী, নফসকে স্থিতিশীল ও স্বভাবকে সঠিক করিয়াছেন। এবং তাহার কানকে বানাইয়াছেন (সত্য কথা) শ্রবণকারী ও চক্ষুকে করিয়াছেন (সত্য প্রমাণাদির প্রতি) দৃষ্টিকারী। বস্তুতঃ অন্তর যাহা সংরক্ষণ করে তাহার জন্য কান হইল চুঙ্গির ন্যায় এবং চক্ষু হইল স্থাপনকারী। আর নিশ্চয় ঐ ব্যক্তি সাফল্যমণ্ডিত হইয়াছে, যে তাহার অন্তরকে সত্য কথা সংরক্ষণকারী বানায়। – আহমদ ও বায়হাকী শো আবুল ঈমানে
كتاب الرقاق
وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «قَدْ أَفْلَحَ مَنْ أَخْلَصَ اللَّهُ قلبَه للإِيمان وجعلَ قلبَه سليما ولسانَه صَادِقا وَنَفْسَهُ مُطْمَئِنَّةً وَخَلِيقَتَهُ مُسْتَقِيمَةً وَجَعَلَ أُذُنَهُ مُسْتَمِعَةً وَعَيْنَهُ نَاظِرَةً فَأَمَّا الْأُذُنُ فَقَمِعٌ وَأَمَّا الْعَيْنُ فَمُقِرَّةٌ لِمَا يُوعَى الْقَلْبُ وَقَدْ أَفْلَحَ مَنْ جَعَلَ قَلْبَهُ وَاعِيًا» رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي «شعب الْإِيمَان»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
তার উপর আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী যার অন্তরকে তিনি ইসলামের জন্য খুলে দিয়েছেন এবং দিলকে মন্দ ওসওয়াসা ও কল্পনা থেকে সহীহ-সালামত রেখেছেন, যার জিহ্বাকে গীবত, অপবাদ, অশ্লীল, অন্যায়-অসত্য এবং বেহুদা কথাবার্তা থেকে হিফাযত করেছেন, যার কানকে ভাল কথা শোনার ও মন্দ কথা না শোনার ক্ষমতা দিয়েছেন এবং যার চোখকে এমন এক দূরদৃষ্টি দিয়েছেন, সে যা দেখে তা তার নিজের এবং সকলের জন্য কল্যাণকর। এটা এক কামিল মু'মিনের জীবন। এ ধরনের যিন্দেগী যিনি লাভ করেছেন তিনি সৌভাগ্যবান। দুনিয়ার কোন শক্তি তাকে হেয় ও পরাজিত করতে পারবে না। আল্লাহ তাকে যে নিয়ামত দিয়েছেন তা দুনিয়ার তামাম সম্পদের চেয়ে উত্তম। তাই তিনি মহান ঐশ্বর্যের অধিকারী। বস্তুত এ ধরনের মানুষের কাছে থেকে ধনী-গরীব নির্বিশেষে দুনিয়ার সব মানুষ উপকৃত হয়।
আখিরাতের ময়দানে এ ধরনের মানুষ অপমান ও আযাব থেকে মাহফূয থাকবেন। যারা দুনিয়ার যিন্দেগীতে আল্লাহকে ভয় করে চলেছেন এবং নিজের জিহ্বা, চোখ, কান এবং দিলকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের হুকুমের পরিপন্থি কোন কাজে ব্যবহার করেননি, তারা আখিরাতের যিন্দেগীতে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করবেন। হিসাব তাদের জন্য সহজ হবে। হিসাবের ঝামেলা তাদের অস্থির ও পেরেশান করবে না। তাই তাদের আখিরাতের যিন্দেগী দুনিয়ার যিন্দেগীর চেয়ে বেশি কামিয়াব হবে।
আখিরাতের ময়দানে এ ধরনের মানুষ অপমান ও আযাব থেকে মাহফূয থাকবেন। যারা দুনিয়ার যিন্দেগীতে আল্লাহকে ভয় করে চলেছেন এবং নিজের জিহ্বা, চোখ, কান এবং দিলকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের হুকুমের পরিপন্থি কোন কাজে ব্যবহার করেননি, তারা আখিরাতের যিন্দেগীতে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করবেন। হিসাব তাদের জন্য সহজ হবে। হিসাবের ঝামেলা তাদের অস্থির ও পেরেশান করবে না। তাই তাদের আখিরাতের যিন্দেগী দুনিয়ার যিন্দেগীর চেয়ে বেশি কামিয়াব হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)