মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৩১৬
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
প্রথম অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা
৫৩১৬। হযরত জুনদুব (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি সুনাম অর্জনের উদ্দেশ্যে কোন কাজ করে, আল্লাহ্ তা'আলা তাহার দোষ ত্রুটিকে লোক সমাজে প্রকাশ করিয়া দিবেন। আর যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য কোন আমল করে, আল্লাহ্ তা'আলাও তাহার সহিত লোক দেখানোর ব্যবহার করিবেন। (আমলের প্রকৃত সওয়াব হইতে সে বঞ্চিত থাকিবে।) — মোত্তাঃ
كتاب الرقاق
وَعَنْ جُنْدُبٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ سَمَّعَ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ وَمَنْ يُرَائِي يُرَائِي اللَّهُ بِهِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
অন্যকে শোনানোর জন্য বা অন্যকে দেখানোর জন্য যে কাজ করা হয়, তাকে রিয়া বলা হয় এবং যে নেক আমলের মধ্যে সামান্যতম রিয়া হয়েছে, আল্লাহ তা কবুল করবেন না। তিনি রিয়াকারীদের লজ্জিত ও অপমানিত করার জন্য তাদের তথাকথিত নেক আমলের গোপন রহস্য ও উদ্দেশ্য হাশরের ময়দানের মানুষের কাছে প্রকাশ করে দিবেন। তাদের রিয়ার জন্য তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করা হবে এবং আখিরাতবাসিগণ তাদের জঘন্য অপরাধ জানতে পারবে। দুনিয়ার যিন্দেগীতেও আল্লাহ রিয়াকারীদেরকে অপমানিত করেন। মানুষ রিয়াকারীদেরকে ঘৃণা করে। রিয়াকারিগণ মানুষকে সন্তুষ্ট করার জন্য নেক আমল করে কিন্তু মানুষ তাদের উপর অসন্তুষ্ট থাকে। তাই রিয়াকারিগণ দুনিয়া ও আখিরাতে ঘৃণিত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)