মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৩১৭
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
প্রথম অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা
৫৩১৭। হযরত আবু যার (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হইল, ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কি, যে কোন নেক কাজ করে আর লোকেরা তাহার সেই কাজের দরুন তাহার প্রশংসা করে। অপর বর্ণনায় রহিয়াছে, “এই কাজের কারণে লোকে তাহাকে ভালবাসে।” (ইহাতে কি তাহার সওয়াব বাতিল হইয়া যাইবে ?) তিনি বলিলেন (এইরূপ প্রশংসিত হওয়া) ইহা মু'মিনদের নগদ সুসংবাদ। — মুসলিম
كتاب الرقاق
وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَرَأَيْتَ الرَّجُلَ يَعْمَلُ الْخَيْرِ وَيَحْمَدُهُ النَّاسُ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ: يُحِبُّهُ النَّاسُ عَلَيْهِ قَالَ: «تِلْكَ عَاجِلُ بُشْرَى الْمُؤْمِنِ» . رَوَاهُ مُسلم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. অর্থাৎ, নিজের অন্তরে লোক দেখানোর নিয়ত না থাকিলে লোকদের প্রশংসা অথবা ভালবাসার কারণে আমল নষ্ট হইবে না; বরং সে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানে লাভবান হইবে। দুনিয়ার লাভ নগদ হাসিল করিল এবং আখেরাতের লাভ আল্লাহর নিকট পাওনা রহিল।
২. সাহাবায়ে কিরাম নবী করীম ﷺ-এর অমূল্য উপদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন। তাঁরা রিয়ার ব্যাপারে খুব সতর্ক ও শঙ্কিত ছিলেন। নেক ব্যক্তির নেক আমলের প্রশংসা সম্পর্কে কোন কোন সাহাবার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছিল। হয়ত তারা ধারণা করেছিলেন, এরূপ প্রশংসা করাও আল্লাহর নিকট অপসন্দনীয় এবং রিয়ার সমতুল্য।
যেরূপ আল্লাহ রিয়াকারীকে দুনিয়া ও আখিরাতে অপমানিত করেন, সেরূপ তিনি বিশুদ্ধ নিয়্যতসহকারে সৎকর্ম সম্পাদনকারীকেও দুনিয়া ও আখিরাতে অজস্র কল্যাণ দান করেন। যে বান্দা একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য নেক আমল করেন, আল্লাহ তার নেক আমলকে পসন্দ করেন, তাকে মহব্বত করেন। আসমানবাসী ও দুনিয়াবাসীর কাছে তাঁর মাহবুব বান্দার নাম প্রচার করার জন্য জিবরাঈল (আ)-কে আদেশ করেন এবং জিবরাঈল (আ) তা করেন। এভাবে আল্লাহর নেক বান্দার কাজ আসমান ও দুনিয়ায় প্রচারিত ও প্রশংসিত হয়। আল্লাহর নেক বান্দা মানুষের প্রশংসার আকাঙ্ক্ষী নন, তিনি মানুষের প্রশংসা অপসন্দ করেন এবং তিনি একমাত্র আল্লাহর মহব্বত, ভালবাসা ও সন্তুষ্টি চান, কিন্তু আল্লাহ মানুষের মনে তাঁর মাহবুব বান্দার মহব্বত সৃষ্টি করে দেন। এটা মু'মিন বান্দার খালেস সৎকর্মের নগদ প্রতিফল। আখিরাতের যিন্দেগীতে তাকে যা দান করা হবে, তা আরো বিরাট ও মহান।
২. সাহাবায়ে কিরাম নবী করীম ﷺ-এর অমূল্য উপদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন। তাঁরা রিয়ার ব্যাপারে খুব সতর্ক ও শঙ্কিত ছিলেন। নেক ব্যক্তির নেক আমলের প্রশংসা সম্পর্কে কোন কোন সাহাবার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছিল। হয়ত তারা ধারণা করেছিলেন, এরূপ প্রশংসা করাও আল্লাহর নিকট অপসন্দনীয় এবং রিয়ার সমতুল্য।
যেরূপ আল্লাহ রিয়াকারীকে দুনিয়া ও আখিরাতে অপমানিত করেন, সেরূপ তিনি বিশুদ্ধ নিয়্যতসহকারে সৎকর্ম সম্পাদনকারীকেও দুনিয়া ও আখিরাতে অজস্র কল্যাণ দান করেন। যে বান্দা একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য নেক আমল করেন, আল্লাহ তার নেক আমলকে পসন্দ করেন, তাকে মহব্বত করেন। আসমানবাসী ও দুনিয়াবাসীর কাছে তাঁর মাহবুব বান্দার নাম প্রচার করার জন্য জিবরাঈল (আ)-কে আদেশ করেন এবং জিবরাঈল (আ) তা করেন। এভাবে আল্লাহর নেক বান্দার কাজ আসমান ও দুনিয়ায় প্রচারিত ও প্রশংসিত হয়। আল্লাহর নেক বান্দা মানুষের প্রশংসার আকাঙ্ক্ষী নন, তিনি মানুষের প্রশংসা অপসন্দ করেন এবং তিনি একমাত্র আল্লাহর মহব্বত, ভালবাসা ও সন্তুষ্টি চান, কিন্তু আল্লাহ মানুষের মনে তাঁর মাহবুব বান্দার মহব্বত সৃষ্টি করে দেন। এটা মু'মিন বান্দার খালেস সৎকর্মের নগদ প্রতিফল। আখিরাতের যিন্দেগীতে তাকে যা দান করা হবে, তা আরো বিরাট ও মহান।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)