মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

৩১- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল

হাদীস নং: ৬০৮৪
- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
প্রথম অনুচ্ছেদ - (আবু বাকর সিদ্দীক, উমার ফারূক এবং উসমান গনী রাযিয়াল্লাহু আনহুম) তিনজনের একত্রে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য
৬০৮৪। হযরত আবু মুসা আশআরী (রাঃ) বলেন, একবার আমি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহিত মদীনার কোন একটি বাগানে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি আসিয়া (বাগানের) ফটক খুলিয়া দিতে অনুরোধ করিল। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তাহার জন্য ফটক খুলিয়া দাও এবং তাহাকে বেহেশতের সুসংবাদ প্রদান কর। অতঃপর আমি ফটক খুলিয়া দিতেই দেখিলাম, তিনি হযরত আবু বকর (রাঃ)। তখন আমি তাহাকে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথানুযায়ী (বেহেশতের সুসংবাদ দিলাম। তিনি "আল্‌হামদু লিল্লাহ" বলিয়া আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করিলেন। অতঃপর আরেক ব্যক্তি আসিয়া ফটক খুলিয়া দিতে অনুরোধ করিল। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আগন্তুক ব্যক্তির জন্য দরজা খুলিয়া দাও এবং তাহাকে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান কর। আমি গিয়া দরজা খুলিতেই দেখিলাম, আগন্তুক হইলেন ওমর (রাঃ)। তখন আমি তাহাকে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেওয়া সুসংবাদটি জানাইয়া দিলাম। তিনিও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করিলেন। অতঃপর আরেক ব্যক্তি আসিয়া দরজা খুলিতে অনুরোধ করিল। তখন নবী (ছাঃ) আমাকে বলিলেন, তাহার জন্য দরজা খুলিয়া দাও এবং তাহার উপর কঠিন বিপদের আগমনসহ তাহাকে বেহেশতের সুসংবাদ প্রদান কর। আমি দরজা খুলিয়া দিতেই দেখিলাম, তিনি হইলেন ওসমান (রাঃ)। আমি তাহাকে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাহা বলিয়াছেন তাহা জানাইয়া দিলাম। তখন তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করিলেন। অতঃপর বলিলেন, আল্লাহ্ই (আমার) সাহায্যকারী। মোত্তাঃ
كتاب المناقب
وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ قَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَائِطٍ مِنْ حِيطَانِ الْمَدِينَةِ فَجَاءَ رَجُلٌ فَاسْتَفْتَحَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «افْتَحْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ» فَفَتَحْتُ لَهُ فَإِذَا أَبُو بَكْرٍ فَبَشَّرْتُهُ بِمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَمِدَ اللَّهَ ثُمَّ جَاءَ رَجُلٌ فَاسْتَفْتَحَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «افْتَحْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ» . فَفَتَحْتُ لَهُ فَإِذا هُوَ عُمَرُ فَأَخْبَرْتُهُ بِمَا قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَمِدَ اللَّهَ ثُمَّ اسْتَفْتَحَ رَجُلٌ فَقَالَ لِي: «افْتَحْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ عَلَى بَلْوَى تُصِيبُهُ» فَإِذَا عُثْمَانُ فَأَخْبَرْتُهُ بِمَا قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَمِدَ اللَّهَ ثمَّ قَالَ: الله الْمُسْتَعَان. مُتَّفق عَلَيْهِ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীসে 'বাগান' এর জন্য حائط শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। حائط ঐ বাগানকে বলা হয়, যার চতুর্দিকে বেষ্টনী দেওয়া থাকে। এতে প্রবেশের জন্য দরজা থাকে। এ হাদীসে এ ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনার এ জাতীয় কোন বাগানেই অবস্থান করছিলেন এবং তখন কেবল আবূ মূসা আশআরীই তাঁর কাছে ছিলেন। (এ হাদীসেরই অন্য এক বর্ণনায় একথাও রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তিনি যেন দরজায় পাহারা দেন এবং কাউকে বিনা অনুমতিতে ভিতরে আসতে না দেন।) এমন সময় এক ব্যক্তি দরজা খুলে ভিতরে আসতে চাইল। হুযূর (ﷺ) আবু মূসা আশআরীকে বললেন যে, তাঁর জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে দাও। আবূ মূসা আশআরীর জানা ছিল না যে, এ আগন্তুক কে। যখন দরজা খুললেন তখন দেখলেন যে, তিনি হযরত আবু বকর রাযি.। আবূ মূসা তখন তাঁকে ঐ কথা শুনিয়ে দিলেন, যা হুযুর (ﷺ) বলেছিলেন এবং জান্নাতের সুসংবাদ দিলেন। হযরত আবূ বকর রাযি. জান্নাতের সুসংবাদ শুনে আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করলেন। তারপর হযরত উমর রাযি. দরজা খুলে ভিতরে আসতে চাইলেন। হুযুর (ﷺ) আবু মুসাকে তাই বললেন, যা এর পূর্বে হযরত আবু বকরের জন্য বলেছিলেন। আবু মুসা রাযি.-এর জানা ছিল না যে, এবার যিনি এসেছেন তিনি কে? যখন দরজা খুললেন, তখন দেখলেন যে, ইনি হযরত উমর রাযি.। তিনি তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলেন। হযরত উমর রাযি.-ও সুসংবাদ শুনে আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করলেন। এরপর তৃতীয় এক ব্যক্তি এসে দরজা খোলার অনুরোধ করলেন এবং ভিতরে আসতে চাইলেন। হুযুর (ﷺ) হযরত আবু মুসা আশআরীকে বললেন যে, তাঁর জন্যও দরজা খুলে দাও এবং তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও- তাঁর উপর আগত একটি বিপদের সাথে। আবু মুসা আশআরীর জানা ছিল না যে, এবারের আগন্তুক কে? তিনি যখন হুযুর (ﷺ)-এর নির্দেশ অনুযায়ী দরজা খুললেন, তখন দেখলেন যে, তিনি হযরত উসমান ইবনে আফফান রাযি.। তিনি তাঁকে ঐ কথা শুনিয়ে দিলেন, যা হুযুর (ﷺ) বলেছিলেন এবং জান্নাতের সুসংবাদ দিলেন। এর সাথে এ কথাও বলে দিলেন যে, তিনি একটি বিরাট পরীক্ষা ও বিপদের সম্মুখীন হবেন। হযরত উসমান রাযি. জান্নাতের সুসংবাদ লাভে আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করলেন এবং বিপদের কথা শুনে বললেনঃ الله المستعان (আল্লাহই আমার সাহায্যকারী।)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান