শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
২. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৬৯৭
নামাযের অধ্যায়
বিতর প্রসঙ্গ
১৬৯৭। বাহর ইব্ন নসর (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইব্ন আবু কায়স সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি আয়েশা (রাযিঃ) থেকে জিজ্ঞাসা করেছি যে, কত রাক'আত দ্বারা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বিতর আদায় করতেনঃ তিনি বলেন, তিনি (ﷺ) বিতর চার রাক'আত এবং তিন রাক'আত দ্বারা, আট রাক'আত এবং তিন রাক'আত দ্বারা, দশ রাক'আত এবং তিন রাক'আত দ্বারা আদায় করতেন। তিনি বিতর সাত রাক'আতের কম এবং তের রাক*আতের বেশী আদায় করতেন না।
বস্তুত এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর রাতে নফল সালাত আদায় করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং একে (পূর্বের সাথে অত্যন্ত সম্পর্কশীল হওয়ার কারণে) বিতর রূপে আখ্যারিত করা হয়েছে। কিন্তু তিন এর মধ্যে এবং এর সাথে উল্লিখিত' সালাতের মধ্যে পার্থক্য থাকত বলে উল্লেখ রয়েছে।
বুঝা যাচ্ছে যে এ হাদীসের মর্ম আসওয়াদ (রাহঃ), মাসরূক (রাহঃ) ও ইয়াহইয়া ইব্ন আল জাযযার (রাহঃ) সূত্রে আয়িশা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসের মর্মের অনুরূপ। আর এর স্বপক্ষে অতিরিক্ত দলীল হচ্ছে যা আয়েশা (রাযিঃ)-এর উক্তি থেকে বর্ণিত হয়েছেঃ
বস্তুত এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর রাতে নফল সালাত আদায় করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং একে (পূর্বের সাথে অত্যন্ত সম্পর্কশীল হওয়ার কারণে) বিতর রূপে আখ্যারিত করা হয়েছে। কিন্তু তিন এর মধ্যে এবং এর সাথে উল্লিখিত' সালাতের মধ্যে পার্থক্য থাকত বলে উল্লেখ রয়েছে।
বুঝা যাচ্ছে যে এ হাদীসের মর্ম আসওয়াদ (রাহঃ), মাসরূক (রাহঃ) ও ইয়াহইয়া ইব্ন আল জাযযার (রাহঃ) সূত্রে আয়িশা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসের মর্মের অনুরূপ। আর এর স্বপক্ষে অতিরিক্ত দলীল হচ্ছে যা আয়েশা (রাযিঃ)-এর উক্তি থেকে বর্ণিত হয়েছেঃ
كتاب الصلاة
1697 - وَحَدَّثَنَا بَحْرُ بْنُ نَصْرٍ , قَالَ: ثنا ابْنُ وَهْبٍ , قَالَ: حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ , عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي قَيْسٍ قَالَ: " قُلْتُ لِعَائِشَةَ بِكَمْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوتِرُ؟ قَالَتْ: كَانَ يُوتِرُ بِأَرْبَعٍ وَثَلَاثٍ , وَثَمَانٍ وَثَلَاثٍ , وَعَشْرٍ وَثَلَاثٍ وَلَمْ يَكُنْ يُوتِرُ بِأَنْقَصَ مِنْ سَبْعٍ وَلَا بِأَكْثَرَ مِنْ ثَلَاثَ عَشْرَةَ " فَفِي هَذَا الْحَدِيثِ ذِكْرُهَا لَمَّا كَانَ يُصَلِّيهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي اللَّيْلِ مِنَ التَّطَوُّعِ وَتَسْمِيَتُهَا إِيَّاهُ وِتْرًا إِلَّا أَنَّهَا قَدْ فَصَلَتْ بَيْنَ الثَّلَاثِ وَبَيْنَ مَا ذَكَرَتْ مَعَهَا وَلَيْسَ فِي ذَلِكَ إِلَّا لِأَنَّ الثَّلَاثَ كَانَ لَهَا مَعْنًى بَائِنٌ مِنْ مَعْنَى مَا قَبْلِهَا فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى مَعْنَى حَدِيثِ الْأَسْوَدِ وَمَسْرُوقٍ وَيَحْيَى بْنِ الْجَزَّارِ , عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهُ كَذَلِكَ. وَالدَّلِيلُ عَلَى ذَلِكَ أَيْضًا مَا رُوِيَ عَنْهَا مِنْ قَوْلِهَا
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কোন কোন সাহাবী তাহাজ্জুদ ও সালাতুল বিতরকে একত্রে বিতর বলতেন। হযরত আয়েশা (রা) এ পদ্ধতির অনুসারী ছিলেন। তিনি এ হাদীসের আবদুল্লাহ্ ইবনে আবূ কুবায়সের জিজ্ঞাসার জবাবে উক্ত মূলনীতির উপর ভিত্তি করে উপস্থাপন করেন। তাঁর বাণীর মর্ম হচ্ছে এই যে, রাসূসুল্লাহ ﷺ সালাতুল বিতরের প্রথমে কখনো চার রাক'আত তাহাজ্জুদ আদায় করতেন, আমার কখনও ছয় রাক'আত, আবার কখনও আট রাক'আত, আবার কখনও দশ রাক'আত আদায় করতেন। কিন্তু সাধারণত চার রাক'আতের কম এবং দশ রাক'আতের বেশী তিনি তাহাজ্জুদ আদায় করতেন না এবং তাহাজ্জুদ সালাত শেষে তিনি তিন রাক'আত সালাতুল বিতর আদায় করতেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)