শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

২. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৮৫৮
নামাযের অধ্যায়
সালাতুল খাওফ-এর বিবরণ
১৮৫৮। আবু খাযিম আব্দুল হামিদ ইবন আব্দুল আযীয (রাহঃ) ….. সাহল ইবন আবী হাছমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) স্বীয় সাহাবাদের নিয়ে সালাতুল খাওফ আদায় করেছেন। এরপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
তাদেরকে উত্তরে বলা হবে যে, এটি মুজাহিদ (রাহঃ) বর্ণিত রিওয়ায়াতের অনুকূলে নয় বরং তা ইন আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত উবায়দুল্লাহ্ (রাহঃ)-এর রিওয়ায়াতের অনুকূলে। আর অবশ্যই এ অনুচ্ছেদের প্রথমে আমাদের দলীল উল্লিখিত হয়েছে, যেহেতু রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর জন্য এটি অসম্ভব ব্যাপার সে সালাতে তাঁর উপর এক রাক'আত ফরয হবে তারপর তিনি দ্বিতীয় রাক'আত (নফল) উভয়ের মাঝখানে সালাম ব্যতীত পড়বেন।
অতএব আমাদের বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, সালাতুল খাওফ ইমামের উপর দু'রাক'আত ফরয। হ্যাঁ এ হাদীসগুলোতে মুক্তাদীগণ (দ্বিতীয় রাক'আত) পূর্ণ করা বা না করার ব্যাপারে কোন উল্লেখ নেই । এতে সম্ভাবনা রয়েছে যে তারা পূর্ণ করেছেন। আর যুক্তির আলোকে এটি অপরিহার্য যে, তারা অবশ্যই এক রাক'আত এক রাক'আত করে পূর্ণ করে নিয়েছেন। যেহেতু আমরা লক্ষ্য করে দেখেছি যে, নিরাপদ এবং বাড়ীতে অবস্থানকালীন সালাতে ইমাম ও মুক্তাদীর ফরয অভিন্ন। অনুরূপভাবে সফরেও নিরাপদ অবস্থায় উভয়ের সালাত অভিন্ন। আর এটি অসম্ভব ব্যাপার যে, মুকতাদীর সালাত এক রাক'আত ফরয হবে এবং সে অন্য এরূপ ব্যক্তির সাথে তা আদায় করবে যার ফরয সালাত হবে দু'রাক'আত। বরং তার উপর তা-ই ওয়াজিব হবে যা তার ইমামের উপর ওয়াজিব হবে। তুমি কি দেখতে পাচ্ছ না যে, যদি মুসাফির মুকীম ইমামের সালাতে শরীক হয় তাহলে সে চার রাক'আত আদায় করে। মুকতাদীর উপর তা-ই ওয়াজিব হবে যা তার ইমামের উপর ওয়াজিব হবে এবং মুকতাদীর ফরয তার ইমামের ফরযের বৃদ্ধির দ্বারা বৃদ্ধি পাবে। কখনো মুকতাদীর উপর এমন বস্তু ওয়াজিব হয় যা তার ইমামের উপর ওয়াজিব হয় না। যেমন আমরা লক্ষ্য করেছি যে, মুকীম (বাড়ীতে অবস্থানরত ব্যক্তি) যদি মুসাফিরের পিছনে সালাত আদায় করে তাহলে সে তার সালাতের সাথে সালাত আদায় করে পরবর্তীতে উঠে মুকীমের (অবশিষ্ট) সালাত পূর্ণ করে। অতএব প্রমাণিত হলো যে, কখনো মুকতাদীর উপর এমন বস্তু ওয়াজিব হয় যা তার ইমামের উপর ওয়াজিব হয় না এবং তার ইমামের উপর এমন বস্তু ওয়াজিব হয় না যা মুকতাদীর উপর ওয়াজিব হয় না।
বস্তুত যখন আমাদের উল্লিখিত বর্ণনার দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, ইমামের উপর (সালাতুল খাওফ) দু'রাক'আত ওয়াজিব, অনুরূপভাবে মুকতাদীর উপর ও দু'রাক'আত ওয়াজিব।
হুযায়ফা (রাযিঃ) থেকে তাঁর উক্তি বর্ণিত রয়েছে, যা তা-ই বুঝায় যা আমরা তাঁর হাদীসে এবং যায়দ ইবন সাবিত (রাযিঃ), জাবির (রাযিঃ) ও ইবন আব্বাস (রাযিঃ)-এর হাদীসে ব্যাখ্যা করেছি যে, তাঁরা এক রাক'আত এক রাক'আত করে পূর্ণ করেছেন।
كتاب الصلاة
1858 - حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ , قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو حَفْصٍ الْفَلَّاسُ , قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى بِأَصْحَابِهِ صَلَاةَ الْخَوْفِ " فَذَكَرَ مِثْلَهُ قِيلَ لَهُمْ: هَذَا غَيْرُ مُوَافِقٍ لِمَا رَوَى مُجَاهِدٌ وَلَكِنَّهُ مُوَافِقٌ لِمَا رَوَى عُبَيْدِ اللهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ. وَقَدْ تَقَدَّمَتْ حُجَّتُنَا فِي أَوَّلِ هَذَا الْبَابِ لِأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُحَالٌ أَنْ يَكُونَ الْفَرْضُ عَلَيْهِ فِي تِلْكَ الصَّلَاةِ رَكْعَةً وَاحِدَةً ثُمَّ يَصِلُهَا بِأُخْرَى لَا يُسَلِّمُ بَيْنَهُمَا. فَثَبَتَ بِمَا ذَكَرْنَا أَنَّ فَرْضَ صَلَاةِ الْخَوْفِ رَكْعَتَانِ عَلَىالْإِمَامِ ثُمَّ لَمْ يُذَكِّرِ الْمَأْمُومِينَ بِقَضَاءٍ وَلَا غَيْرِهِ فِي هَذِهِ الْآثَارِ. فَاحْتَمَلَ أَنْ يَكُونُوا قَضَوْا وَلَا بُدَّ فِيمَا يُوجِبُهُ النَّظَرُ مِنْ أَنْ يَكُونُوا قَدْ قَضَوْا رَكْعَةً رَكْعَةً لِأَنَّا رَأَيْنَا الْفَرْضَ عَلَىالْإِمَامِ [ص:311] فِي صَلَاةِ الْأَمْنِ , وَالْإِقَامَةِ مِثْلَ الْفَرْضِ عَلَى الْمَأْمُومِ سَوَاءً , وَكَذَلِكَ الْفَرْضُ عَلَيْهِمَا فِي صَلَاةِ الْأَمْنِ فِي السَّفَرِ سَوَاءٌ , وَمُحَالٌ أَنْ يَكُونَ الْمَأْمُومُ فَرْضُهُ رَكْعَةً فَيَدْخُلُ مَعَ غَيْرِهِ مِمَّنْ فَرْضُهُ رَكْعَتَانِ إِلَّا وَجَبَ عَلَيْهِ مَا وَجَبَ عَلَى إِمَامِهِ. أَلَا تَرَى أَنَّ مُسَافِرًا لَوْ دَخَلَ فِي صَلَاةِ مُقِيمٍ صَلَّى أَرْبَعًا فَكَانَ الْمَأْمُومُ يَجِبُ عَلَيْهِ مَا يَجِبُ عَلَى إِمَامِهِ , وَيَزِيدُ فَرْضُهُ بِزِيَادَةِ فَرْضِ إِمَامِهِ , وَقَدْ يَكُونُ عَلَى الْمَأْمُومِ مَا لَيْسَ عَلَى إِمَامِهِ. مِنْ ذَلِكَ أَنَّا رَأَيْنَا الْمُقِيمَ يُصَلِّي خَلْفَ الْمُسَافِرِ فَيُصَلِّي بِصَلَاتِهِ , ثُمَّ يَقُومُ بَعْدَ ذَلِكَ فَيَقْضِي تَمَامَ صَلَاةِ الْمُقِيمِ فَكَانَ الْمَأْمُومُ قَدْ يَجِبُ عَلَيْهِ مَا لَيْسَ عَلَى إِمَامِهِ وَلَا يَجِبُ عَلَى إِمَامِهِ مَا لَا يَجِبُ عَلَيْهِ. فَلَمَّا ثَبَتَ بِمَا ذَكَرْنَا وُجُوبُ الرَّكْعَتَيْنِ عَلَىالْإِمَامِ ثَبَتَ أَنَّ مِثْلَهُمَا عَلَى الْمَأْمُومِ. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ حُذَيْفَةَ مِنْ قَوْلِهِ مَا يَدُلُّ عَلَى مَا تَأَوَّلْنَا فِي حَدِيثِهِ وَحَدِيثِ زَيْدٍ وَجَابِرٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُمْ قَضَوْا رَكْعَةً رَكْعَةً
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান