শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
২. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ২৭১৪
নামাযের অধ্যায়
মৃত পশুর চামড়া পাকা করলে পবিত্র হয় কি না?
২৭১৪। উইনুস (রাহঃ).... ইব্ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ননা করেন যে,রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি মৃত বকরী (নিক্ষিপ্ত অবস্থায়) পেলেন, যা কিনা মায়মুনা (রাযিঃ)-এর দাসীকে সাদাকা হিসেবে দেয়া হয়েছিলো। রাসূলুল্লাহ বললেনঃ এর চামড়া থেকে কেন তোমরা উপকার গ্রহন করলে না? তারা বললো এটি তো মৃত! তিনি বললেন হারাম তো এর (গোশত) আহার করা।
এতে প্রমাণিত হয় যে, বকরীর মৃত্যুর কারণে তার গোশত আহার করা হারাম হয়, অন্য কিছু চামড়া শিরা(হারাম) নয়। এটি-ই হচ্ছে রিওয়াতের দিক থেকে এই অনুচ্ছেদের হাদীসসমুহের সঠিক বিশ্লেশণ।
ইমাম তাহাবী (রাহঃ) এর যুক্তিভিত্তিক দলীল
বস্তুত সংশ্লিষ্ট বিষয়ের যুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণ হচ্ছে এই যে, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, সর্বাদিসম্মত নিয়ম হচ্ছে, (বস্তুর বিধান পরিবর্তিত গুনাবলীর কারণে পরিবর্তিত হতে থাকে)-যেমন (আঙ্গুর ইত্যাদির) রস পান করা এবং এর দ্বারা উপকার গ্রহন করতে কোন রূপ দোষ নেই,যতক্ষণ পর্যন্ত তাতে মদের বৈশিষ্ট্যাবলী সৃষ্টি হয়ে যায়, তখন এটি এ কারনে হারাম হয়ে যায়। তারপর এটি এভাবে হারাম অবস্থায়-ই বিধ্যমান থাকে যতক্ষণ না এর মধ্যে সিরকার গুণাবলী সৃষ্টি হয়। যখন এতে সিরকার গুণাবলী সৃষ্টি হয় তখন এটি হালাল হয়ে যায়। অতএব বুঝা যাচ্ছে যে, একই বস্তু পরিবর্তিত গুনাবলীর কারণে হালাল ও হারামে পরিণত হয়। এক গুণ সৃষ্টির দ্বারা এটি তা হালাল হয়, পক্ষান্তরে অন্য গুণ সৃষ্টির দ্বারা তা হারাম হয়, যদিও তা একই কায়ারূপ বিশিষ্টি হয়। এই যুক্তির উপরে ভিত্তি করে মৃতের চামড়ার বিধানও অনুরূপ হবে। এতে মৃত্যুর গুণ সৃষ্টির দ্বারা তা হারাম হবে এবং (পাকা করার দ্বারা) তাতে কাপড় ইত্যাদি সামগ্রীর গুণ সৃষ্টির দ্বারা হালাল হয়ে যাবে। যখন তা পাকা করা হবে তখন তা (পাকা) চামড়া এবং সামগ্রীর মত হয়ে যাবে। তাতে হালালের গুণ সৃষ্টি হয়েছে। অতএব আমাদের উল্লিখিত বর্ণনার ভিত্তিতে যুক্তির দাবি হচ্ছে, উক্ত গুণ সৃষ্টির হওয়ার কারণে এটিও হালালে রূপায়িত হবে।
দ্বিতীয় দলিল
আমরা লক্ষ্য করেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবাগণ যখন ইসলাম গ্রহন করেন, তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদেরকে তাঁদের জুতা মোজা ও চামড়ার বিছানাসমূহ ফেলে দেয়ার নির্দেশ দেননি; যা তাঁদের জাহিলিয়াতের (পৌত্তলিকতার) যুগে বানিয়ে ছিলেন। আর তা অবশ্যই মৃত জন্তু কিংবা যবাইকৃত পশুর (চামড়ার তৈরী) ছিলো। তাদের যবাইকৃত পশু ছিলো পৌত্তলিকদের যবাইকৃত পশু। সেটি মুসলমানদের জন্য মৃতের মতোই হারাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তাঁদেরকে এই সমস্ত বস্তু ফেলে দেয়ার এবং এর দ্বারা উপকার গ্রহণ না করার নির্দেশ দেননি তাহলে এতে প্রমানিত হল যে, এই সমস্ত বস্তু পাকা করার দ্বারা মৃত এবং নাপাকের বিধান থেকে বের হয়ে অপরাপর সামগ্রী এবং এর পাক হওয়ার বিধানের আওতাভুক্ত হয়েছে।
অনুরূপভাবে যখন তাঁরা (সাহাবা) পৌত্তলিকদের শহরসমূহ বিজয় করেছেন তখন তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলেন। তিনি তাঁদেরকে পৌত্তলিকদের মোজা, জুতা ও বিছানাসহ তাদীর অপরাপর চামড়ার সামগ্রী থেকে বিরত থাকতে এবং সেগুলো গ্রহন না করতে নির্দেশ দেননি। বরং তিনি তাঁদেরকে এ সবের কিছুই নিষেধ করেননি।এটিও প্রমাণ বহন করে যে, চামড়া পাকা করার দ্বারা পাক হয়ে যায়।
এ বিষয়ে জাবির ইব্ন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
এতে প্রমাণিত হয় যে, বকরীর মৃত্যুর কারণে তার গোশত আহার করা হারাম হয়, অন্য কিছু চামড়া শিরা(হারাম) নয়। এটি-ই হচ্ছে রিওয়াতের দিক থেকে এই অনুচ্ছেদের হাদীসসমুহের সঠিক বিশ্লেশণ।
ইমাম তাহাবী (রাহঃ) এর যুক্তিভিত্তিক দলীল
বস্তুত সংশ্লিষ্ট বিষয়ের যুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণ হচ্ছে এই যে, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, সর্বাদিসম্মত নিয়ম হচ্ছে, (বস্তুর বিধান পরিবর্তিত গুনাবলীর কারণে পরিবর্তিত হতে থাকে)-যেমন (আঙ্গুর ইত্যাদির) রস পান করা এবং এর দ্বারা উপকার গ্রহন করতে কোন রূপ দোষ নেই,যতক্ষণ পর্যন্ত তাতে মদের বৈশিষ্ট্যাবলী সৃষ্টি হয়ে যায়, তখন এটি এ কারনে হারাম হয়ে যায়। তারপর এটি এভাবে হারাম অবস্থায়-ই বিধ্যমান থাকে যতক্ষণ না এর মধ্যে সিরকার গুণাবলী সৃষ্টি হয়। যখন এতে সিরকার গুণাবলী সৃষ্টি হয় তখন এটি হালাল হয়ে যায়। অতএব বুঝা যাচ্ছে যে, একই বস্তু পরিবর্তিত গুনাবলীর কারণে হালাল ও হারামে পরিণত হয়। এক গুণ সৃষ্টির দ্বারা এটি তা হালাল হয়, পক্ষান্তরে অন্য গুণ সৃষ্টির দ্বারা তা হারাম হয়, যদিও তা একই কায়ারূপ বিশিষ্টি হয়। এই যুক্তির উপরে ভিত্তি করে মৃতের চামড়ার বিধানও অনুরূপ হবে। এতে মৃত্যুর গুণ সৃষ্টির দ্বারা তা হারাম হবে এবং (পাকা করার দ্বারা) তাতে কাপড় ইত্যাদি সামগ্রীর গুণ সৃষ্টির দ্বারা হালাল হয়ে যাবে। যখন তা পাকা করা হবে তখন তা (পাকা) চামড়া এবং সামগ্রীর মত হয়ে যাবে। তাতে হালালের গুণ সৃষ্টি হয়েছে। অতএব আমাদের উল্লিখিত বর্ণনার ভিত্তিতে যুক্তির দাবি হচ্ছে, উক্ত গুণ সৃষ্টির হওয়ার কারণে এটিও হালালে রূপায়িত হবে।
দ্বিতীয় দলিল
আমরা লক্ষ্য করেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবাগণ যখন ইসলাম গ্রহন করেন, তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদেরকে তাঁদের জুতা মোজা ও চামড়ার বিছানাসমূহ ফেলে দেয়ার নির্দেশ দেননি; যা তাঁদের জাহিলিয়াতের (পৌত্তলিকতার) যুগে বানিয়ে ছিলেন। আর তা অবশ্যই মৃত জন্তু কিংবা যবাইকৃত পশুর (চামড়ার তৈরী) ছিলো। তাদের যবাইকৃত পশু ছিলো পৌত্তলিকদের যবাইকৃত পশু। সেটি মুসলমানদের জন্য মৃতের মতোই হারাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তাঁদেরকে এই সমস্ত বস্তু ফেলে দেয়ার এবং এর দ্বারা উপকার গ্রহণ না করার নির্দেশ দেননি তাহলে এতে প্রমানিত হল যে, এই সমস্ত বস্তু পাকা করার দ্বারা মৃত এবং নাপাকের বিধান থেকে বের হয়ে অপরাপর সামগ্রী এবং এর পাক হওয়ার বিধানের আওতাভুক্ত হয়েছে।
অনুরূপভাবে যখন তাঁরা (সাহাবা) পৌত্তলিকদের শহরসমূহ বিজয় করেছেন তখন তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলেন। তিনি তাঁদেরকে পৌত্তলিকদের মোজা, জুতা ও বিছানাসহ তাদীর অপরাপর চামড়ার সামগ্রী থেকে বিরত থাকতে এবং সেগুলো গ্রহন না করতে নির্দেশ দেননি। বরং তিনি তাঁদেরকে এ সবের কিছুই নিষেধ করেননি।এটিও প্রমাণ বহন করে যে, চামড়া পাকা করার দ্বারা পাক হয়ে যায়।
এ বিষয়ে জাবির ইব্ন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
كتاب الصلاة
2714 - حَدَّثَنَا يُونُسُ، قَالَ: أنا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُبَيْدِ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَدَ شَاةً مَيْتَةً أُعْطِيَتَهَا مَوْلَاةٌ لِمَيْمُونَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا مِنَ الصَّدَقَةِ , فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَّا انْتَفَعْتُمْ بِجِلْدِهَا» قَالُوا: إِنَّهَا مَيْتَةٌ , قَالَ: «إِنَّمَا حَرُمَ أَكْلُهَا» فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ الَّذِي حَرُمَ مِنَ الشَّاةِ بِمَوْتِهَا , هُوَ الَّذِي يُرَادُ مِنْهَا لِلْأَكْلِ لَا غَيْرُ ذَلِكَ مِنْ جُلُودِهَا وَعَصَبِهَا. فَهَذَا وَجْهُ هَذَا الْبَابِ مِنْ طَرِيقِ الْآثَارِ. وَأَمَّا وَجْهُهُ مِنْ طَرِيقِ النَّظَرِ , فَإِنَّا قَدْ رَأَيْنَا الْأَصْلَ الْمُجْتَمَعَ عَلَيْهِ أَنَّ الْعَصِيرَ لَا بَأْسَ بِشُرْبِهِ , وَالِانْتِفَاعِ بِهِ , مَا لَمْ يَحْدُثْ فِيهِ صِفَاتُ الْخَمْرِ. فَإِذَا حَدَثَتْ فِيهِ صِفَاتُ الْخَمْرِ , حَرُمَ بِذَلِكَ , ثُمَّ لَا يَزَالُ حَرَامٌ كَذَلِكَ حَتَّى تَحْدُثَ فِيهِ صِفَاتُ الْخَلِّ. فَإِذَا حَدَثَتْ فِيهِ صِفَاتُ الْخَلِّ حَلَّ. فَكَانَ يَحِلُّ بِحُدُوثِ الصِّفَةِ , وَيَحْرُمُ بِحُدُوثِ صِفَةٍ غَيْرِهَا , وَإِنْ كَانَ بَدَنًا وَاحِدًا. فَالنَّظَرُ عَلَى ذَلِكَ أَنْ يَكُونَ كَذَلِكَ جِلْدُ الْمَيْتَةِ , يَحْرُمُ بِحُدُوثِهِ صِفَةُ الْمَوْتِ فِيهِ , وَيَحِلُّ بِحُدُوثِ صِفَةِ الْأَمْتِعَةِ فِيهِ مِنَ الثِّيَابِ وَغَيْرِهَا فِيهِ. وَإِذَا دُبِغَ فَصَارَ كَالْجُلُودِ وَالْأَمْتِعَةِ , فَقَدْ حَدَثَتْ فِيهِ صِفَةُ الْحَلَالِ. فَالنَّظَرُ عَلَى مَا ذَكَرْنَا أَنْ يَحِلَّ أَيْضًا بِحُدُوثِ تِلْكَ الصِّفَةِ فِيهِ. وَحُجَّةٌ أُخْرَى: أَنَّا قَدْ رَأَيْنَا أَصْحَابَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , لَمَّا أَسْلَمُوا , لَمْ يَأْمُرْهُمْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِطَرْحِ نِعَالِهِمْ وَخِفَافِهِمْ وَأَنْطَاعِهِمْ , الَّتِي كَانُوا اتَّخَذُوهَا فِي حَالِ جَاهِلِيَّتِهِمْ , وَإِنَّمَا كَانَ ذَلِكَ مِنْ مَيْتَةٍ , أَوْ مِنْ ذَبِيحَةٍ. فَذَبِيحَتُهُمْ حِينَئِذٍ إِنَّمَا كَانَتْ ذَبِيحَةَ أَهْلِ الْأَوْثَانِ , فَهِيَ، فِي حُرْمَتِهَا عَلَى أَهْلِ الْإِسْلَامِ، كَحُرْمَةِ الْمَيْتَةِ. فَلَمَّا لَمْ يَأْمُرْهُمْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِطَرْحِ ذَلِكَ , وَتَرْكِ الِانْتِفَاعِ بِهِ , ثَبَتَ أَنَّ ذَلِكَ كَانَ قَدْ خَرَجَ مِنْ حُكْمِ الْمَيْتَةِ وَنَجَاسَتِهَا بِالدِّبَاغِ , إِلَى حُكْمِ سَائِرِ الْأَمْتِعَةِ وَطَهَارَتِهَا. وَكَذَلِكَ كَانُوا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا افْتَتَحُوا بُلْدَانَ الْمُشْرِكِينَ لَا يَأْمُرُهُمْ بِأَنْ يُتَحَامَوْا خِفَافَهُمْ وَنِعَالَهُمْ وَأَنْطَاعَهُمْ وَسَائِرَ جُلُودِهِمْ , فَلَا يَأْخُذُوا مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا , بَلْ كَانَ لَا يَمْنَعُهُمْ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ , فَذَلِكَ دَلِيلٌ أَيْضًا , عَلَى طَهَارَةِ الْجُلُودِ بِالدِّبَاغِ
وَلَقَدْ رُوِيَ فِي هَذَا عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ
وَلَقَدْ رُوِيَ فِي هَذَا عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ