শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

২. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ২৭২৯
নামাযের অধ্যায়
উরু সতরের অন্তর্ভুক্ত কি না?
২৭২৯। মুহাম্মাদ ইব্‌ন খুযায়মা (রাহঃ).... জারহাদ (রাযিঃ) থেকে বর্ননা করেন যে, তিনি বলেছেন, একবার আমার কাছ দিয়ে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) যাচ্ছিলেন, তখন আমার পরনে একটি চাদর ছিলো, যাতে আমার উরু থেকে উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিলো। এতে তিনি বললেন, তোমার উরু ঢেকে নাও, (আর জেনে রাখ) উরু সতরের অন্তর্ভুক্ত।
আবু জা’ফর তাহাবি (রাহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এই সমস্ত হাদীস ব্যক্ত করেছে যে, নিশ্চই উরু সতরের অন্তর্ভুক্ত এবং এই সমস্ত হাদীসের বিপরীত কোন সহীহ হাদীস নেই। অতএব এগুলো দ্বারা প্রমাণিত হল যে, উরু অবশ্যই সতরের অন্তর্ভুক্ত,এটি উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার কারণে সালাত বাতিল হয়ে যাবে, যেমনিভাবে অপরাপর সতর উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার কারণে তা (সালাত) বাতিল (বিনষ্ট) হয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে হচ্ছে, এই রিওয়াতের দিক থেকে এই অনুচ্ছদের হাদীসসমূহের সঠিক মর্ম নিরূপণের এটি-ই যথার্থ পন্থা।
ইমাম তাহাবী (রাহঃ)-এর যুক্তিভিত্তিক দলীলঃ বস্তুত এ বিষয়ের যুক্তিভিত্তিক বিশ্লেশ হল নিম্নরূপঃ আমরা লক্ষ্য করেছি যে, কোন ব্যাক্তি কোন অপরিচিতা নারীর চেহারা এবং তাঁর উভয় হাতের তালু দেখতে পারে (দেখা জায়েজ আছে),কিন্তু এর উপরে তাঁর মাথা এবং নীচে তাঁর পেট, পিঠ, দুই উরু ও দুই পায়ের নলা দেখা যায় না (জায়েজ নয়)। আমরা আরো লক্ষ্য করেছি, কোনো ব্যাক্তি তাঁর মাহরাম নারীর বক্ষদেশ, চুল, চেহারা, মাথা ও পায়ের নলার প্রতি দৃষ্টি দেয়াতে কোনো রূপ অসুবিধা নেই, কিন্তু এছাড়া তাঁর শরীরের অন্য স্থানের প্রতি দৃষ্টি দেয়া বৈধ নয়। এমনিভাবে লক্ষ্য করেছি কোনো ব্যক্তি অন্যের দাসীর প্রতি দৃষ্টি দেয়া (মাহরাম নারীর ন্যায়) বৈধ, যে দাসীর মালিকানা তার জন্য সাব্যস্ত নয় এবং সে তার মাহরাম ও নয়। অতএব তার মাহরাম নারী ও অন্যের মালিকানাভুক্ত দাসী, যে কিনা তার মাহরামও নয় এবং তার মালিকানাভুক্তও নয়; এদের উরু’র প্রতি দৃষ্টি দেয়া অনুরূপভাবে নিষিদ্ধ, যেমনিভাবে তাঁদের গুপ্তাঙ্গের প্রতি দৃষ্টি দেয়া নিষিদ্ধ। সুতরাং নারীদের উরু’র বিধান গুপ্তাঙ্গের অনুরূপ বিধান হবে, পায়ের নলার বিধানের অনুরূপ হবে না।এরই ভিত্তিতে যুক্তির দাবি হচ্ছে, পুরুষের বিধানটিও অনুরূপ হবে। অর্থাৎ দৃষ্টি দেয়ার ব্যপারে পুরুষের উরুর বিধান তার গুপ্তাঙ্গের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার অনুরূপ হবে, তার পায়ের নলার বিধানের মত হবে না। অতএব যখন তার গুপ্তাঙ্গের প্রতি দৃষ্টি দেয়া হারাম (অবৈধ) অনুরূপ তার উরুর প্রতি দৃষ্টি দেয়াও হারম বিবেচিত হবে। অনুরুপভাবে পুরুষের জন্য নিজের মাহরাম নারীর যে সমস্ত অঙ্গের প্রতি দৃষ্টি দেয়া হারাম, অনুরূপভাবে অন্য পুরুষের জন্য একে অপরের ওই সমস্ত অঙ্গের প্রতি দৃষ্টি দেয়াও হারাম। আর মাহরাম নারীর যে সমস্ত অঙ্গের প্রতি দৃষ্টি দেয়া হালাল (বৈধ) অন্য পুরুষের জন্য একে অপরীর ঐ সমস্ত অঙ্গের প্রতি দৃষ্টি দেয়াতেও কোন অসুবিধা নেই (হালাল)।

বস্তুত এটিই হচ্ছে এই অনুচ্ছেদের প্রকৃত যুক্তি। আর এই যুক্তি যে সমস্ত হাদীসসমূহের অনুকূলে রয়েছে, যা আমরা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে রিওয়াত করেছি। অতএব এটি-ই আমরা গ্রহন করব এবং এটি-ই হচ্ছে ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ), ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ), অ ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর অভিমন।
كتاب الصلاة
2729 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خُزَيْمَةَ، قَالَ: ثنا مُسَدَّدٌ، قَالَ: ثنا يَحْيَى، عَنْ مِسْعَرٍ، قَالَ: ثنا أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ عَمِّهِ، زُرْعَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جَرْهَدٍ , عَنْ جَدِّهِ جَرْهَدٍ , قَالَ: مَرَّ بِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيَّ بُرْدَةٌ , قَدْ كَشَفْتُ عَنْ فَخِذِي فَقَالَ: «غَطِّ فَخِذَكَ , الْفَخِذُ عَوْرَةٌ» قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَهَذِهِ الْآثَارُ الْمَرْوِيَّةُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , تُخْبِرُ أَنَّ الْفَخِذَ عَوْرَةٌ , وَلَمْ يُضَادَّهَا أَثَرٌ صَحِيحٌ. فَقَدْ ثَبَتَ بِهَا أَنَّ الْفَخِذَ عَوْرَةٌ , تَبْطُلُ الصَّلَاةُ بِكَشْفِهَا , كَمَا تَبْطُلُ بِكَشْفِ مَا سِوَاهَا مِنَ الْعَوْرَاتِ. فَهَذَا وَجْهُ هَذَا الْبَابِ مِنْ طَرِيقِ تَصْحِيحِ مَعَانِي الْآثَارِ. وَأَمَّا وَجْهُ ذَلِكَ مِنْ طَرِيقِ النَّظَرِ , فَإِنَّا رَأَيْنَا الرَّجُلَ يَنْظُرُ مِنَ الْمَرْأَةِ الَّتِي لَا مَحْرَمَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إِلَى وَجْهِهَا وَكَفَّيْهَا , وَلَا يَنْظُرُ إِلَى مَا فَوْقَ ذَلِكَ , مِنْ رَأْسِهَا , وَلَا إِلَى أَسْفَلِ مِنْهُ , مِنْ بَطْنِهَا , وَظَهْرِهَا , وَفَخِذَيْهَا , وَسَاقَيْهَا , وَرَأَيْنَاهُ فِي ذَاتِ الْمَحْرَمِ مِنْهُ لَا بَأْسَ أَنْ يَنْظُرَ مِنْهَا إِلَى صَدْرِهَا , وَشَعْرِهَا , وَوَجْهِهَا , وَرَأْسِهَا , وَسَاقِهَا , وَلَا يَنْظُرُ إِلَى مَا بَيْنَ ذَلِكَ مِنْ بَدَنِهَا. وَكَذَلِكَ رَأَيْنَاهُ يَنْظُرُ مِنَ الْأَمَةِ الَّتِي لَا مِلْكَ لَهُ عَلَيْهَا , وَلَا مَحْرَمَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا , فَكَانَ مَمْنُوعًا مِنَ النَّظَرِ مِنْ ذَاتِ الْمَحْرَمِ مِنْهُ وَمِنَ الْأَمَةِ الَّتِي لَيْسَتْ بِمَحْرَمٍ لَهُ , وَلَا مِلْكَ لَهُ عَلَيْهَا، إِلَى فَخِذِهَا , كَمَا كَانَ مَمْنُوعًا مِنَ النَّظَرِ إِلَى فَرْجِهَا فَصَارَ حُكْمُ الْفَخِذِ مِنَ النِّسَاءِ , كَحُكْمِ الْفَرَجِ , لَا كَحُكْمِ السَّاقِ. فَالنَّظَرُ عَلَى ذَلِكَ أَنْ يَكُونَ مِنَ الرِّجَالِ أَيْضًا كَذَلِكَ , وَأَنْ يَكُونَ حُكْمُ فَخِذِ الرَّجُلِ فِي النَّظَرِ إِلَيْهِ , كَحُكْمِ فَرْجِهِ فِي النَّظَرِ إِلَيْهِ , لَا كَحُكْمِ سَاقِهِ. فَلَمَّا كَانَ النَّظَرُ إِلَى فَرْجِهِ مُحَرَّمًا , كَانَ كَذَلِكَ النَّظَرُ إِلَى فَخِذِهِ مُحَرَّمًا , وَكَذَلِكَ كُلُّ مَا كَانَ حَرَامًا عَلَى الرَّجُلِ أَنْ يَنْظُرَ إِلَيْهِ مِنْهُ إِلَى ذَاتِ الْمَحْرَمِ مِنْهُ , فَحَرَامٌ عَلَى الرِّجَالِ أَنْ يَنْظُرَ إِلَيْهِ بَعْضُهُمْ مِنْ بَعْضٍ. وَكُلُّ مَا كَانَ حَلَالًا أَنْ يَنْظُرَ ذُو الْمَحْرَمِ مِنَ الْمَرْأَةِ ذَاتِ الْمَحْرَمِ مِنْهُ , فَلَا بَأْسَ أَنْ يَنْظُرَهُ الرِّجَالُ بَعْضُهُمْ مِنْ بَعْضٍ. فَهَذَا هُوَ أَصْلُ النَّظَرِ فِي هَذَا الْبَابِ , وَقَدْ وَافَقَ ذَلِكَ مَا جَاءَتْ بِهِ الرِّوَايَاتُ الَّتِي رَوَيْنَاهَا عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَبِذَلِكَ نَأْخُذُ , وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ , وَأَبِي يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمُ اللهُ تَعَالَى
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান