শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

৪. যাকাতের অধ্যায়

হাদীস নং: ৩০৩৬
যাকাতের অধ্যায়
মুক্তভাবে বিচরণকারী ঘােড়ার ক্ষেত্রে যাকাত আছে কি-না ?
৩০৩৬। রবী'উল মুয়াযযিন (রাহঃ) ….. ফাতিমা বিনত কায়স (রাযিঃ) সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ যাকাত ছাড়াও ধন-সম্পদে অবশ্যই আরাে হক রয়েছে। তারপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন। (অর্থ): কোন পুণ্য নেই তােমাদের মুখ ফিরানােতে ….. শেষ পর্যন্ত (২ বাকারা : ১৭৭)
সুতরাং যখন আমরা দেখছি যে, সম্পদে যাকাত ব্যতীত অন্য হক সাব্যস্ত করা হয়েছে তাহলে সম্ভাবনা থাকছে যে, সেই হক যা কিনা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ঘােড়ার ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন, সেটি এই দ্বিতীয় হক।
আরেকটি দলীলঃ হাদীসে ব্যক্ত যাকাত, যা আমরা আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে রিওয়ায়াত করেছি, তা আব্দ্ধ
ঘােড়ার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, মুক্তভাবে বিচরণকারী ঘােড়ার ক্ষেত্রে বলা হয়নি।
আরেকটি দলীলঃ আমরা লক্ষ্য করছি যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুক্তভাবে বিচরণকারী উটের (বিষয়টি) ও উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেনঃ এতে হক রয়েছে। এ হক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলাে, তা কিরূপ ? তিনি বলেনঃনর উটকে (মাদী উটের সাথে) প্রজননের জন্য দেয়া, উটকে পানি পান করানাের জন্য বালতি ধার দেয়া ও দুগ্ধবতী উটনীকে (নিজের অভাবগ্রস্ত প্রতিবেশীকে দুধ পান করার নিমিত্ত কিছু দিনের জন্য) প্রদান করা।
كتاب الزكاة
3036 - مَا حَدَّثَنَا رَبِيعٌ الْمُؤَذِّنُ , قَالَ: ثنا أَسَدٌ , قَالَ: ثنا شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللهِ , عَنْ أَبِي حَمْزَةَ , عَنْ عَامِرٍ , عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ , عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «فِي الْمَالِ حَقٌّ سِوَى الزَّكَاةِ , وَتَلَا هَذِهِ الْآيَةَ {» لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ "} [البقرة: 177] إِلَى آخِرِ الْآيَةِ ". فَلَمَّا رَأَيْنَا الْمَالَ قَدْ جُعِلَ فِيهِ حَقٌّ سِوَى الزَّكَاةِ , احْتُمِلَ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ الْحَقُّ , الَّذِي ذَكَرَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْخَيْلِ , هُوَ ذَلِكَ الْحَقُّ أَيْضًا. وَحُجَّةٌ أُخْرَى أَنَّ الزَّكَاةَ فِي الْحَدِيثِ الَّذِي رَوَيْنَاهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , إِنَّمَا هُوَ فِي الْخَيْلِ الْمُرْتَبِطَةِ , لَا فِي الْخَيْلِ السَّائِمَةِ وَحُجَّةٌ أُخْرَى
أَنَّا قَدْ رَأَيْنَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَكَرَ الْإِبِلَ السَّائِمَةَ أَيْضًا فَقَالَ فِيهَا حَقٌّ فَسُئِلَ عَنْ ذَلِكَ الْحَقِّ مَا هُوَ فَقَالَ «إِطْرَاقُ فَحْلِهَا , وَإِعَارَةُ دَلْوِهَا , وَمَنِيحَةُ سَمِينِهَا»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীসটির উদ্দেশ্য এই যে, কেউ যেন এ ভুল বুঝাবুঝির শিকার না হয় যে, নির্ধারিত যাকাত (অর্থাৎ, বধিষ্ণু সম্পদের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ) আদায় করে দেওয়ার পর মানুষের উপর আল্লাহর আর কোন হক ও দাবী অবশিষ্ট থাকে না এবং সে এ সংক্রান্ত সকল দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যায়। ব্যাপারটি আসলে এমন নয়; বরং বিশেষ বিশেষ অবস্থায় যাকাত আদায় করে দেওয়ার পরও আল্লাহর অভাবী বান্দাদের সাহায্যের দায়িত্ব বিত্তবানদের উপর থেকে যায়। যেমন, একজন ধনী মানুষ হিসাব করে সম্পূর্ণ যাকাত আদায় করে দিয়ে দিল, তারপর সে জানতে পারল যে, তার কোন প্রতিবেশী উপোস করছে অথবা অমুক আত্মীয় চরম অভাবে রয়েছে কিংবা কোন অভিজাত বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি অথবা কোন মুসাফির এমন অবস্থায় তার কাছে এসে পৌছল যে, এ মুহূর্তে তার সাহায্যের প্রয়োজন। এসব অবস্থায় এ অভাবী ও বিপদগ্রস্তদের সাহায্য করা তার উপর ওয়াজিব হয়ে যাবে।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এখানে এ বিষয়টি বর্ণনা করলেন এবং প্রমাণ হিসাবে সূরা বাকারার উপরের আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন। এ আয়াতে পুণ্য কর্মসমূহের তালিকায় ঈমানের পর ইয়াতীম, মিসকীন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী ইত্যাদি শ্রেণীসমূহের আর্থিক সাহায্যের কথা বলা হয়েছে। এরপর নামায কায়েম ও যাকাত আদায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর দ্বারা বুঝা গেল যে, এখানে ঐসব দুর্বল ও অভাবী শ্রেণীর মানুষদের আর্থিক সাহায্যের যে কথা বলা হয়েছে, এটা যাকাতের বাইরে অন্যান্য দান-খয়রাত। কেননা, যাকাতের আলোচনা এ আয়াতেই স্বতন্ত্রভাবে বর্তমান রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান