শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
৪. যাকাতের অধ্যায়
হাদীস নং: ৩০৩৮
যাকাতের অধ্যায়
মুক্তভাবে বিচরণকারী ঘােড়ার ক্ষেত্রে যাকাত আছে কি-না ?
৩০৩৮। ফাহাদ (রাহঃ) ….. হারিসা ইব্ন মুযাররিব (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি একবার
উমর ইব্নুল খাত্তাব (রাযিঃ)-এর সাথে হজ্জ পালন করেছি। সে সময়ে তার নিকট সিরিয়ার অভিজাত লােকেরা এলেন এবং তাঁরা বললেন, হে আমীরুল মু'মিনীন, আমরা জন্তু এবং সম্পদ লাভ করেছি। সুতরাং আমাদের সম্পদ থেকে সাদাকা (যাকাত) গ্রহণ করুন, এর দ্বারা আমাদেরকে পবিত্র করুন এবং আমাদের জন্য যাকাত (পবিত্রতা) হবে । তিনি বললেন, এটি এমন বস্তু যা আমার পূর্ববর্তী দুই ব্যক্তি (রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও আবু বাকর রা.) করেন নি। বরং তােমরা অপেক্ষা কর, আমি মুসলমানদেরকে (বিষয়টি সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা (পরামর্শ) করি। তারপর তিনি সাহাবা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, তাদের মধ্যে আলী ইব্ন আবী তালিব (রাযিঃ) বিদ্যমান ছিলেন। তাঁরা তা উত্তম বলে মন্তব্য করলেন। আলী (রাযিঃ) চুপ রইলেন, তাঁদের সাথে মন্তব্য করলেন না।
উমার (রাযিঃ) বললেন, হে আবুল হাসান! আপনার কি হলাে, কথা বলছেন না যে? তিনি বললেন, লােকরা
আপনাকে যে পরামর্শ দিয়েছেন তাতে কোন অসুবিধা নেই যদি তা ওয়াজিব বা নিয়মিত জিযয়া হিসাবে না হয় (বরং নফল হিসাবে হয়)। রাবী বলেন, তারপর তিনি বার্ষিক প্রত্যেক গােলামের ক্ষেত্রে দশ (দিরহাম), প্রত্যেক ঘােড়ার ক্ষেত্রে দশ (দিরহাম), প্রত্যেক এরূপ ঘােড়ার ক্ষেত্রে আট (দিরহাম) যার মা আরবী এবং বাপ অনারবী, প্রত্যেক ফারসী বা অনারবী ঘােড়ার ক্ষেত্রে অথবা খচ্চরের ক্ষেত্রে পাঁচ (দিরহাম) করে আদায় করতেন। তারপর (বায়তুল মাল থেকে) মাসিক রিযিক হিসাবে ঘােড়ার ক্ষেত্রে দশ দিরহাম, এরূপ ঘােড়ার ক্ষেত্রে যার মা আরবী এবং বাপ অনারবী আট (দিরহাম), খচ্চরের ক্ষেত্রে পাঁচ (দিরহাম) ও গােলামের ক্ষেত্রে দুই জারিব (গম)।
সুতরাং এই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, উমর (রাযিঃ) তাদের থেকে যা গ্রহণ করেন তা যাকাত ছিলাে না; বরং যাকাত ব্যতীত (নফল) সাদাকা ছিলাে। উমার (রাযিঃ) তাঁদেরকে বলেছিলেনঃ এটি সেই দুই ব্যক্তি করেন নি যারা আমার পূর্বে ছিলেন। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বাকর (রাযিঃ)। এটি প্রমাণ বহন করে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও আবু বাকর (রাযিঃ) তাঁদের কালে উপস্থিত ঘােড়া থেকে সাদাকা (যাকাত) গ্রহণ করেন নি। আর এ বিষয়ে উমর (রাযিঃ) যা বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কোন সাহাবী এর প্রতিবাদ করেননি, আবার উমর (রাযিঃ)-এর উদ্দেশ্যে আলী (রাযিঃ)-এর উক্তি “লােকেরা তাে আপনাকে পরামর্শ দিয়েছে, যদি তা জিযয়া (কর) এবং ওয়াজিব খারাজ (ভূমিকর) হিসেবে না হয়" এবং উমর (রাযিঃ) কর্তৃক তা গ্রহণ করাতে বুঝা যাচ্ছে যে, উমর (রাযিঃ) তাঁদের থেকে যা গ্রহণ করেছেন তা তাদের প্রস্তাবের কারণে এবং তা সাদাকার মধ্যে খরচ করার জন্য। আর তারা যখন ইচ্ছা করে তা তাঁকে দেয়া বন্ধ করে দিতে পারত। তারপর উমর (রাযিঃ) উক্ত বিষয়ে
গােলামের ব্যাপারে ও ঘােড়ার অনুরূপ পন্থা অবলম্বন করেছেন। আর এটি একথার দলীল নয় যে, সেই সমস্ত গােলাম যেগুলাে ব্যবসায়ের জন্য নয়, তাদের ক্ষেত্রে সাদাকা ওয়াজিব হবে। তা ছিলো তাদের গােলামদের ক্ষেত্রে নফল দান।
দ্বিতীয় পক্ষের আলিমগণের দলীলঃ আলী (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেনঃ আমি তােমাদের জন্য ঘােড়া ও গােলামদের যাকাত মাফ করে দিলাম ।
উমর ইব্নুল খাত্তাব (রাযিঃ)-এর সাথে হজ্জ পালন করেছি। সে সময়ে তার নিকট সিরিয়ার অভিজাত লােকেরা এলেন এবং তাঁরা বললেন, হে আমীরুল মু'মিনীন, আমরা জন্তু এবং সম্পদ লাভ করেছি। সুতরাং আমাদের সম্পদ থেকে সাদাকা (যাকাত) গ্রহণ করুন, এর দ্বারা আমাদেরকে পবিত্র করুন এবং আমাদের জন্য যাকাত (পবিত্রতা) হবে । তিনি বললেন, এটি এমন বস্তু যা আমার পূর্ববর্তী দুই ব্যক্তি (রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও আবু বাকর রা.) করেন নি। বরং তােমরা অপেক্ষা কর, আমি মুসলমানদেরকে (বিষয়টি সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা (পরামর্শ) করি। তারপর তিনি সাহাবা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, তাদের মধ্যে আলী ইব্ন আবী তালিব (রাযিঃ) বিদ্যমান ছিলেন। তাঁরা তা উত্তম বলে মন্তব্য করলেন। আলী (রাযিঃ) চুপ রইলেন, তাঁদের সাথে মন্তব্য করলেন না।
উমার (রাযিঃ) বললেন, হে আবুল হাসান! আপনার কি হলাে, কথা বলছেন না যে? তিনি বললেন, লােকরা
আপনাকে যে পরামর্শ দিয়েছেন তাতে কোন অসুবিধা নেই যদি তা ওয়াজিব বা নিয়মিত জিযয়া হিসাবে না হয় (বরং নফল হিসাবে হয়)। রাবী বলেন, তারপর তিনি বার্ষিক প্রত্যেক গােলামের ক্ষেত্রে দশ (দিরহাম), প্রত্যেক ঘােড়ার ক্ষেত্রে দশ (দিরহাম), প্রত্যেক এরূপ ঘােড়ার ক্ষেত্রে আট (দিরহাম) যার মা আরবী এবং বাপ অনারবী, প্রত্যেক ফারসী বা অনারবী ঘােড়ার ক্ষেত্রে অথবা খচ্চরের ক্ষেত্রে পাঁচ (দিরহাম) করে আদায় করতেন। তারপর (বায়তুল মাল থেকে) মাসিক রিযিক হিসাবে ঘােড়ার ক্ষেত্রে দশ দিরহাম, এরূপ ঘােড়ার ক্ষেত্রে যার মা আরবী এবং বাপ অনারবী আট (দিরহাম), খচ্চরের ক্ষেত্রে পাঁচ (দিরহাম) ও গােলামের ক্ষেত্রে দুই জারিব (গম)।
সুতরাং এই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, উমর (রাযিঃ) তাদের থেকে যা গ্রহণ করেন তা যাকাত ছিলাে না; বরং যাকাত ব্যতীত (নফল) সাদাকা ছিলাে। উমার (রাযিঃ) তাঁদেরকে বলেছিলেনঃ এটি সেই দুই ব্যক্তি করেন নি যারা আমার পূর্বে ছিলেন। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বাকর (রাযিঃ)। এটি প্রমাণ বহন করে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও আবু বাকর (রাযিঃ) তাঁদের কালে উপস্থিত ঘােড়া থেকে সাদাকা (যাকাত) গ্রহণ করেন নি। আর এ বিষয়ে উমর (রাযিঃ) যা বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কোন সাহাবী এর প্রতিবাদ করেননি, আবার উমর (রাযিঃ)-এর উদ্দেশ্যে আলী (রাযিঃ)-এর উক্তি “লােকেরা তাে আপনাকে পরামর্শ দিয়েছে, যদি তা জিযয়া (কর) এবং ওয়াজিব খারাজ (ভূমিকর) হিসেবে না হয়" এবং উমর (রাযিঃ) কর্তৃক তা গ্রহণ করাতে বুঝা যাচ্ছে যে, উমর (রাযিঃ) তাঁদের থেকে যা গ্রহণ করেছেন তা তাদের প্রস্তাবের কারণে এবং তা সাদাকার মধ্যে খরচ করার জন্য। আর তারা যখন ইচ্ছা করে তা তাঁকে দেয়া বন্ধ করে দিতে পারত। তারপর উমর (রাযিঃ) উক্ত বিষয়ে
গােলামের ব্যাপারে ও ঘােড়ার অনুরূপ পন্থা অবলম্বন করেছেন। আর এটি একথার দলীল নয় যে, সেই সমস্ত গােলাম যেগুলাে ব্যবসায়ের জন্য নয়, তাদের ক্ষেত্রে সাদাকা ওয়াজিব হবে। তা ছিলো তাদের গােলামদের ক্ষেত্রে নফল দান।
দ্বিতীয় পক্ষের আলিমগণের দলীলঃ আলী (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেনঃ আমি তােমাদের জন্য ঘােড়া ও গােলামদের যাকাত মাফ করে দিলাম ।
كتاب الزكاة
3038 - حَدَّثَنَا فَهْدٌ , قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ الْمَعْرُوفُ بِسُحَيْمٍ الْحَرَّانِيُّ , قَالَ: ثنا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ , قَالَ: ثنا أَبُو إِسْحَاقَ ,عَنْ حَارِثَةَ بْنِ مُضَرِّبٍ , قَالَ: حَجَجْتُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا , فَأَتَاهُ أَشْرَافٌ مِنْ أَشْرَافِ أَهْلِ الشَّامِ، فَقَالُوا: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ , إِنَّا قَدْ أَصَبْنَا دَوَابَّ وَأَمْوَالًا , فَخُذْ مِنْ أَمْوَالِنَا صَدَقَةً تُطَهِّرُنَا بِهَا , وَتَكُونُ لَنَا زَكَاةً. فَقَالَ: هَذَا شَيْءٌ لَمْ يَفْعَلْهُ اللَّذَانِ كَانَا قَبْلِي , وَلَكِنِ انْتَظِرُوا حَتَّى أَسْأَلَ الْمُسْلِمِينَ , فَسَأَلَ أَصْحَابَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , فِيهِمْ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فَقَالُوا: حَسَنٌ , وَعَلِيٌّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ سَاكِتٌ لَمْ يَتَكَلَّمْ مَعَهُمْ. فَقَالَ: مَا لَكَ يَا أَبَا الْحَسَنِ لَا تَتَكَلَّمُ قَالَ: قَدْ أَشَارُوا عَلَيْكَ , وَلَا بَأْسَ بِمَا قَالُوا , إِنْ لَمْ يَكُنْ أَمْرًا وَاجِبًا وَلَا جِزْيَةً رَاتِبَةً يُؤْخَذُونَ بِهَا. قَالَ: «فَأَخَذَ مِنْ كُلِّ عَبْدٍ عَشَرَةً , وَمِنْ كُلِّ فَرَسٍ عَشْرَةً , وَمِنْ كُلِّ هَجِينٍ ثَمَانِيَةً , وَمِنْ كُلِّ بِرْذَوْنٍ أَوْ بَغْلٍ , خَمْسَةَ دَرَاهِمَ فِي السَّنَةِ , وَرَزَقَهُمْ كُلَّ شَهْرٍ , وَلِلْفَرَسِ عَشَرَةَ دَرَاهِمَ , وَالْهَجِينِ ثَمَانِيَةً , وَالْبَغْلِ خَمْسَةً خَمْسَةً , وَالْمَمْلُوكُ جَرِيبَيْنِ كُلَّ شَهْرٍ» فَدَلَّ هَذَا الْحَدِيثُ عَلَى أَنَّ مَا أَخَذَ مِنْهُمْ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ مِنْ أَجَلِهِ , مَا كَانَ أَخَذَ مِنْهُمْ فِي ذَلِكَ , أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ زَكَاةً وَلَكِنَّهَا صَدَقَةٌ غَيْرَ زَكَاةٍ. وَقَدْ قَالَ لَهُمْ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ إِنَّ هَذَا لَمْ يَفْعَلْهُ اللَّذَانِ كَانَا قَبْلِي , يَعْنِي رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبَا بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ. فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبَا بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ لَمْ يَأْخُذَا , مِمَّا كَانَ بِحَضْرَتِهِمَا , مِنَ الْخَيْلِ صَدَقَةً , وَلَمْ يُنْكِرْ عَلَى عُمَرَ مَا قَالَ مِنْ ذَلِكَ , أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. وَدَلَّ قَوْلُ عَلِيٍّ لِعُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: قَدْ أَشَارُوا عَلَيْكَ , إِنْ لَمْ يَكُنْ جِزْيَةً رَاتِبَةً , وَخَرَاجًا وَاجِبًا ". وَقَبُولُ عُمَرَ ذَلِكَ مِنْهُ , أَنَّ عُمَرَ إِنَّمَا كَانَ أَخَذَ مِنْهُمْ بِسُؤَالِهِمْ إِيَّاهُ أَنْ يَأْخُذَ مِنْهُمْ , فَيَصْرِفَهُ فِي الصَّدَقَاتِ , وَأَنَّ لَهُمْ مَنْعَ ذَلِكَ مِنْهُ , مَتَى أَحَبُّوا , ثُمَّ سَلَكَ عُمَرُ بِالْعَبِيدِ أَيْضًا فِي ذَلِكَ , مَسْلَكَ الْخَيْلِ , وَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ بِدَلِيلٍ عَلَى أَنَّ الْعَبِيدَ الَّذِينَ لِغَيْرِ التِّجَارَةِ , يَجِبُ فِيهِمْ صَدَقَةٌ وَإِنَّمَا كَانَ ذَلِكَ عَلَى التَّبَرُّعِ مِنْ مَوَالِيهِمْ بِإِعْطَاءِ ذَلِكَ
وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «عَفَوْتُ لَكُمْ عَنْ صَدَقَةِ الْخَيْلِ وَالرَّقِيقِ»
وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «عَفَوْتُ لَكُمْ عَنْ صَدَقَةِ الْخَيْلِ وَالرَّقِيقِ»