শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

৫. রোযার অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৩২১
রোযার অধ্যায়
অর্ধ শাবানের পর রামাযান পর্যন্ত সিয়াম পালন প্রসঙ্গে
৩৩২১। আলী ইব্‌ন শায়বা (রাহঃ)..... মুআযাহ আল-আদবীয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আয়েশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ ) কি প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালন করতেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তাঁকে বলা হলো, কোন তারিখ থেকে, (তিনি এই সিয়াম পালন করতেন) ? তিনি বললেন, মাসের কোন্ তিন দিন এই সিয়াম পালন করবেন, এই বিষয়ে তিনি কোন পরওয়া করতেন না। তাঁরা বলেছেন : এই সমস্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, পুরা শা'বান মাসে সিয়াম পালনে কোন অসুবিধা নেই।
তাঁদের বিরুদ্ধে প্রথমোক্ত আলিমদের প্রমাণ : বস্তুত এই সমস্ত হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ ) আমল সম্পর্কে বলা হয়েছে। আর পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত হাদীসসমূহে তাঁর বক্তব্য ব্যক্ত হয়েছে। সুতরাং উভয় হাদীসের মাঝে সমন্বয় সাধন করা একান্ত প্রয়োজন। অতএব রাসূলুল্লাহ (সাঃ ) যা করেছেন তা তাঁর নিজের জন্য মুবাহ (বৈধ) বলে সাব্যস্ত করা হবে। আর যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে তা হবে অন্যের (উম্মতের) জন্য নিষিদ্ধ। সুতরাং এই বিষয়ে অন্যের বিধান তাঁর বিধান থেকে ভিন্ন হিসাবে বিবেচিত হবে। যাতে করে উভয় হাদীস বিশুদ্ধ প্রমাণিত হয় এবং পারস্পরিক সাংঘর্ষিক সাব্যস্ত না হয়।
এই বিষয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হলো এই যে, রাসূলুল্লাহ্ ( সাঃ ) থেকে বর্ণিত উসামা (রাযিঃ)-এর হাদীসে ব্যক্ত হয়েছে যে, তিনি শা'বান মাস সম্পর্কে বলেছেন: এটি এমন মাস যার সিয়াম পালন থেকে লোকেরা গাফিল। এতে প্রমাণিত হয় যে, তাতে তাঁদের সিয়াম পালন ইফতার (ভঙ্গ) অপেক্ষা উত্তম। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকেও এরূপ হাদীস বর্ণিত আছে যা আমাদের বর্ণনাকৃত ব্যাখ্যার স্বপক্ষে প্রমাণ বহন করে :
كتاب الصيام
3321 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ شَيْبَةَ , قَالَ: ثنا رَوْحٌ , قَالَ: ثنا شُعْبَةُ , قَالَ: ثنا يَزِيدُ الرِّشْكُ , عَنْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةِ , قَالَتْ: " سُئِلَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ؟ قَالَتْ نَعَمْ فَقِيلَ لَهَا: مِنْ أَيِّهِ. قَالَتْ: مَا كَانَ يُبَالِي مِنْ أَيِّ الشَّهْرِ صَامَهَا " قَالُوا: فَفِي هَذِهِ الْآثَارِ دَلِيلٌ عَلَى أَنْ لَا بَأْسَ بِصَوْمِ شَعْبَانَ كُلِّهِ فَكَانَ مِنْ حُجَّةِ الْأَوَّلِينَ عَلَيْهِمْ , أَنَّ الَّذِي رُوِيَ فِي هَذِهِ الْأَخْبَارِ إِنَّمَا هُوَ إِخْبَارٌ عَنْ فِعْلِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , وَمَا قَبْلَ ذَلِكَ , مِمَّا فِيهِ النَّهْيُ , إِخْبَارٌ عَنْ قَوْلِهِ فَكَانَ يَنْبَغِي أَنْ يُصَحَّحَ الْحَدِيثَانِ جَمِيعًا. فَجُعِلَ مَا فَعَلَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ مُبَاحًا لَهُ , وَمَا نَهَى عَنْهُ كَانَ مَحْظُورًا عَلَى غَيْرِهِ , فَيَكُونُ حُكْمُ غَيْرِهِ فِي ذَلِكَ خِلَافَ حُكْمِهِ حَتَّى يَصِحَّ الْحَدِيثَانِ جَمِيعًا وَلَا يَتَضَادَّانِ. فَكَانَ مِنَ الْحُجَّةِ عَلَيْهِمْ فِي ذَلِكَ أَنَّ فِي حَدِيثِ أُسَامَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ فِي شَعْبَانَ «هُوَ شَهْرُ يَغْفُلُ النَّاسُ عَنْ صَوْمِهِ» فَدَلَّ ذَلِكَ أَنَّ صَوْمَهُمْ إِيَّاهُ أَفْضَلُ مِنَ الْإِفْطَارِ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيْضًا مَا يَدُلُّ عَلَى مَا ذَكَرْنَا

হাদীসের ব্যাখ্যা:

কোন কোন হাদীসে প্রতি মাসের শুরুতে হুযুর (ﷺ)-এর তিন দিন রোযা রাখার অভ্যাস ছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। কোন কোন রেওয়ায়াতে মাসের তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখ এবং অপর কোন কোন বর্ণনায় সপ্তাহের বিশেষ বিশেষ তিন দিনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি.-এর এ বর্ণনা দ্বারা জানা গেল যে, এগুলোর মধ্য থেকে কোনটাই হুযুর (ﷺ)-এর চিরাচরিত অভ্যাস ছিল না। এর একটি কারণ তো এ ছিল যে, হুযুর (ﷺ)-এর অনেক সময় বাইরে সফর এবং এ জাতীয় অন্যান্য প্রয়োজন বেশী করে দেখা দিত। এগুলোর কারণে বিশেষ বিশেষ তারিখ ও দিনের নিয়মানুবর্তিতা তাঁর জন্য উপযোগী ছিল না। দ্বিতীয় কারণ এটাও ছিল যে, তিনি যদি সর্বদা বিশেষ বিশেষ দিন ও তারিখে রোযা রাখতেন, তাহলে উম্মতের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য এটা কষ্টের কারণ হয়ে যেত এবং এর দ্বারা এ ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হতে পারত যে, এ রোযাগুলো ওয়াজিব পর্যায়ের। সারকথা, এ জাতীয় কল্যাণ চিন্তার কারণে তিনি নিজে বিশেষ বিশেষ দিন ও তারিখের পাবন্দী করতেন না এবং হুযুর (ﷺ)-এর বেলায় এটাই উত্তম ছিল। তবে সাহাবায়ে কেরামকে তিনি মাসের তিন রোযার ক্ষেত্রে অধিকতর আইয়ামে বীয তথা ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের প্রতিই উৎসাহ দিতেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)