শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

৬. হজ্বের অধ্যায়

হাদীস নং: ৪১০২
আন্তর্জাতিক নং: ৪১০৩
হজ্বের অধ্যায়
যে তামাত্তু হজ্জ পালনকারীর কাছে হাদী নেই এবং সে দশটি দিনে সিয়ামও পালন করে না।
৪১০২-০৩। ইব্‌ন আবী দাউদ (রাহঃ) ….. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আইয়্যামে তাশরীক পানাহার এবং আল্লাহ তা'আলার যিকরের দিন।

ইব্‌ন আবী দাউদ (রাহঃ) ….. নুবাইশা হুযালী (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন।
كتاب مناسك الحج
4102 - حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ قَالَ: ثنا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ: ثنا هُشَيْمٌ قَالَ أنا عُمَرُ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ , عَنْ أَبِيهِ , عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيَّامُ التَّشْرِيقِ , أَيَّامُ أَكْلٍ , وَشُرْبٍ , وَذِكْرِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ»

4103 - حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ , قَالَ: ثنا سَعِيدٌ هُوَ ابْنُ مَنْصُورٍ , قَالَ: ثنا هُشَيْمٌ , قَالَ: أنا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ , عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ الْهُذَلِيِّ , عَنْ نُبَيْشَةَ الْهُذَلِيِّ , عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , مِثْلَهُ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী, হযরত আবু হুরায়রা ও হযরত উমর রাযি.-এর হাদীসগুলোতে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনে রোযা রাখতে স্পষ্ট নিষেধ করা হয়েছে। হযরত উমর রাযি.-এর বক্তব্যে এদিকেও ইঙ্গিত রয়েছে যে, ঈদুল ফিতরের দিন রোযা রাখা এজন্য নিষেধ যে, আল্লাহ তা'আলা এ দিনটিকে রমযানের পর 'ইফতারের দিন' অর্থাৎ, রোযা না রেখে পানাহার করার দিন বানিয়েছেন। এই কারণে এ দিন রোযা রাখাতে আল্লাহর অভিপ্রায়ের বিরুদ্ধাচরণ করা হয়। আর কুরবানীর দিন রোযা রাখা এজন্য নিষেধ যে, এটা হচ্ছে কুরবানীর গোশত খাওয়ার দিন। আল্লাহর অভিপ্রায় যেন এই যে, এ দিন আল্লাহর নামে যেসব কুরবানী করা হয়, আল্লাহর বান্দারা যেন এগুলোর গোশত আল্লাহর মেহমানী মনে করে এবং তার দুয়ারের ভিখারী সেজে শুকরিয়ার সাথে খেয়ে নেয়। নিঃসন্দেহে ঐ বান্দা খুবই অহংকারী ও অকৃতজ্ঞ বিবেচিত হবে, যে আল্লাহর এই আম মেহমানীর দিন জেনে শুনে রোযা রাখে। তথা পানাহার বর্জন করে আর যিলহজ্বের ১১ ও ১২ তারিখও যেহেতু কুরবানীর দিন, সুতরাং এগুলোর বিধানও তাই হবে। অর্থাৎ, এ দু'দিনও রোযা রাখা যাবে না। নুবাইশা হুযালীর হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, হুযুর (ﷺ) আইয়ামে তাশরীকের সবকটি দিনকেই পানাহার অর্থাৎ, আল্লাহর মেহমানীর দিন বলেছেন, যার মধ্যে ১৩ই যিলহজ্বও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই ১০ ই যিলহজ্ব থেকে ১৩ ই যিলহজ্ব পর্যন্ত ৪ দিনই রোযা রাখা নিষিদ্ধ সাব্যস্ত করা হয়েছে। অতএব, এ দিনগুলোতে রোযা রাখা আর ইবাদত হবে না; বরং গুনাহর কাজ হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
ত্বহাবী শরীফ - হাদীস নং ৪১০২ | মুসলিম বাংলা