শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

৭. বিবাহ-শাদীর অধ্যায়

হাদীস নং: ৪২৮৫
বিবাহ-শাদীর অধ্যায়
যদি কোন ব্যক্তি কোন মহিলাকে বিবাহ করতে ইচ্ছে পোষণ করে তাহলে তার দিকে নযর করা ঐ ব্যক্তিটির জন্যে হালাল হবে কি-না?
৪২৮৫। মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন ইউনুস (রাহঃ) ...... আল-মুগীরা ইন শু'বা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “আমি একটি মহিলাকে বিবাহের প্রস্তাব দিতে মনস্থ করলাম। রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন, “তুমি কি তার দিকে নযর করেছ? আমি বললাম, 'না', তিনি বললেন, তাহলে তুমি তার দিকে নয়র কর। কেননা তাতে তোমাদের মধ্যে মহব্বত স্থায়ী হবে।”
আবু জা'ফর আত-তাহাবী (রাহঃ) বলেনঃ “উপরোক্ত হাদীসগুলো দ্বারা বুঝা যায় যে, কোন পুরুষ কোন মহিলাকে বিবাহ করার ইচ্ছে পোষণ করলে তার চেহারার দিকে নযর করা পুরুষটির জন্যে বৈধ। একদল আলিম এ অভিমতটি গ্রহণ করেন এবং অন্য একদল আলিম এ ব্যাপারে তাদের বিরোধিতা করেন। আর তারা বলেনঃ যে কোন ব্যক্তি কোন মহিলাকে বিবাহ করার ইচ্ছে পোষণ করুক কিংবা না-ই করুক, তার দিকে নযর করা জায়িয নেই, যতক্ষণ না সে তার স্ত্রী হবে কিংবা তার মাহরাম হবে। আর তারা নিন্মের দলীল পেশ করেনঃ
كتاب النكاح
4285 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ يُونُسَ قَالَ: ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ , عَنْ عَاصِمٍ , عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ , عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ: خَطَبْتُ امْرَأَةً، فَقَالَ لِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلْ نَظَرْتَ إِلَيْهَا؟» فَقُلْتُ: لَا. فَقَالَ: «فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا» . قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَفِي هَذِهِ الْآثَارِ إِبَاحَةُ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِ الْمَرْأَةِ , لِمَنْ أَرَادَ نِكَاحَهَا , فَذَهَبَ إِلَى ذَلِكَ قَوْمٌ. وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ فَقَالُوا: لَا يَجُوزُ ذَلِكَ لِمَنْ أَرَادَ نِكَاحَ الْمَرْأَةِ , وَلَا لِغَيْرِ مَنْ أَرَادَ نِكَاحَهَا، إِلَّا أَنْ يَكُونَ زَوْجًا لَهَا أَوْ ذَا رَحِمٍ مَحْرَمٍ مِنْهَا. وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِمَا

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর এসব নির্দেশাবলীর উদ্দেশ্য এটাই যে, বিয়ে-শাদীর বিষয় অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ, যা সারা জীবনের জন্য এক সিদ্ধান্ত ও চুক্তিস্বরূপ। এটা সংগত নয় যে, চুক্তি অজ্ঞাতসারে অন্ধকারে হবে, বরং জ্ঞাতসারে এবং দেখেশুনে হওয়া চাই। নির্ভরযোগ্য লোক, বিশেষ করে মহিলাদের মাধ্যমেও সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে। যে মাধ্যমই অবলম্বন করা হোক না কেন, সর্বাবস্থায় এ কথার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে যে, পাত্রী বা তার পারিবারিক লোকদের জন্য কঠিন এবং অনভিপ্রেত যেন না হয়। বরং এটা উত্তম যে, তারা বুঝতে পারবে না। সুনানে আবু দাউদে হযরত জারির (রা)-এর এ বর্ণনা এসেছে যে, আমি এক মহিলার জন্য বিয়ের প্রস্তাব নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এ নির্দেশ অনুযায়ী আমি তাকে গোপনে দেখার চেষ্টা চালিয়ে গেলাম। অবশেষে এ বিষয়ে আমি সফলকাম হলাম এবং আমি তাকে বিয়ে করলাম।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
ত্বহাবী শরীফ - হাদীস নং ৪২৮৫ | মুসলিম বাংলা