শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

৭. বিবাহ-শাদীর অধ্যায়

হাদীস নং: ৪৪৪৯
বিবাহ-শাদীর অধ্যায়
বিয়ের মজলিসে বিক্ষিপ্তভাবে নিক্ষিপ্ত এবং ছিটানাে-ছড়ানাে দ্রব্যাদি নিয়ে কাড়াকাড়ি করা
৪৪৪৯। আবু বাকরা (রাহঃ) এবং ইব্‌ন মারযূক (রাহঃ) ….. আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন কুরত (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) ইরশাদ করেন, “আল্লাহ্ তা'আলার নিকট অত্যন্ত প্রিয় দিন হল কুরবানীর দিন। অতঃপর আরাফাতের দিন।” আমি রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) -এর কাছে পাঁচটি কিংবা ছয়টি উট পেশ করলাম। উটগুলাে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ)-এর নিকটবর্তী হওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়ল যে, রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) কোন্‌টাকে প্রথম গ্রহণ করবেন। যখন উটগুলােকে নজর করা হল রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) কি যেন ক্ষীণ স্বরে বললেন। আমি কিন্তু তার অর্থ বুঝতে পারিনি। আমার পাশে যে ব্যক্তিটি ছিল তাকে বললাম, রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) কি বললেন? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) বলেছেনঃ من شاء اقتطع অর্থাৎ যে ইচ্ছে করে সে যেন এগুলাে থেকে মাংস কেটে নিয়ে যায়।

এ হাদীসে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ্(ﷺ)-এর বাণী من شاء اقتطع - “যে ইচ্ছে করে সে যেন এগুলাে থেকে মাংস কেটে নিয়ে যায়।” এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যদি খাদ্য কিংবা অন্য কোন বস্তুর মালিক তার সম্পদ জনগণের জন্যে আহরণ করা বৈধ করে দেয় তাহলে তা সংগ্রহ করা তাদের জন্য বৈধ। আর এটা এরূপ লুটপাট নয়, যা প্রথমােক্ত হাদীসগুলােতে বর্ণিত হয়েছে। আমাদের উল্লেখিত আলােচনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, প্রথমােক্ত হাদীসগুলােতে উল্লেখিত লুটপাটের অনুমতি দেয়া হয়নি। আর যে লুটপাট বৈধ এবং যার অনুমতি দেয়া হয়েছে তা বর্ণিত হয়েছে দ্বিতীয় প্রকারের হাদীসগুলােতে। রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) থেকে বর্ণিত حديث منقطع পাওয়া যায়, যার মধ্যে নিষিদ্ধ লুটপাট ও বৈধ লুটপাটের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এটার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি হাদীস আমরা উল্লেখ করব এখানেঃ
كتاب النكاح
4449 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرَةَ , وَابْنُ مَرْزُوقٍ , قَالَا: ثنا أَبُو عَاصِمٍ قَالَ: ثنا ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ , عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ , عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ لُحَيٍّ , عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ قُرْطٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَحَبُّ الْأَيَّامِ إِلَى اللهِ يَوْمُ النَّحْرِ , ثُمَّ يَوْمُ عَرَفَةَ» . فَقَرَّبْتُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَدَنَاتٍ خَمْسًا أَوْ سِتًّا , فَطَفِقْنَ يَزْدَلِفْنَ إِلَيْهِ , بِأَيَّتِهِنَّ يَبْدَأُ فَلَمَّا وَجَبَتْ أَيْ سَقَطَتْ جُنُوبُهَا قَالَ كَلِمَةً خَفِيفَةً لَمْ أَفْهَمْهَا. فَقُلْتُ لِلَّذِي كَانَ إِلَى جَنْبِي مَا قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَ: قَالَ: «مَنْ شَاءَ اقْتَطَعَ» فَلَمَّا قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ مَنْ شَاءَ اقْتَطَعَ وَأَبَاحَ ذَلِكَ , دَلَّ هَذَا أَنَّ مَا أَبَاحَهُ رَبُّهُ لِلنَّاسِ مِنْ طَعَامٍ , أَوْ غَيْرِهِ , فَلَهُمْ أَنْ يَأْخُذُوا مِنْ ذَلِكَ , وَهَذَا خِلَافُ النُّهْبَةِ الَّتِي نَهَى عَنْهَا فِي الْآثَارِ الْأُوَلِ. فَثَبَتَ بِمَا ذَكَرْنَا أَنَّ النُّهْبَةَ الَّتِي فِي الْآثَارِ الْأُوَلِ , هِيَ نُهْبَةٌ مَا لَمْ يُؤْذَنْ فِيهِ , وَأَنَّ مَا أُبِيحَ مِنْ ذَلِكَ وَأُذِنَ فِيهِ , فَعَلَى مَا فِي هَذَا الْأَثَرِ الثَّانِي. وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثٌ مُنْقَطِعٌ قَدْ فَسَّرَ حُكْمَ النُّهْبَةِ الْمَنْهِيِّ عَنْهَا وَالنُّهْبَةِ الْمُبَاحَةِ , وَإِنَّمَا أَرَدْنَا بِذِكْرِهِ هَاهُنَا تَفْسِيرَهُ لِمَعْنَى هَذَا الْمُتَّصِلِ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আল্লাহ্ তা'আলার এ কুদরত ও শক্তি রয়েছে যে, তিনি পশুদের মধ্যে এমনকি মাটি, পাথর ইত্যাদি প্রাণহীন বস্তুর মধ্যেও বাস্তবতার অনুভূতি সৃষ্টি করে দিতে পারেন। এই যে, ৫/৬টি উট, যেগুলো কুরবানীর জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খেদমতে নিয়ে আসা হয়েছিল, এগুলোর মধ্যে আল্লাহ তা'আলা ঐ সময় এ অনুভূতি ও জ্ঞান পয়দা করে দিয়েছিলেন যে, আল্লাহর রাহে এবং তাঁর প্রিয়তম রাসূল মুহাম্মদ (ﷺ)-এর হাতে তাদের কুরবানী হওয়া কত বিরাট সৌভাগ্যের ব্যাপার। এ জন্য এগুলোর মধ্য থেকে প্রত্যেকটিই এ আকাঙ্ক্ষা নিয়ে হুযুর (ﷺ)-এর কাছে এসে ঘেঁষতে লাগল যে, প্রথমে যেন আমাকেই যাবাহ করা হয়।
কবির ভাষায়:
ہمہ آہوانِ صحرا سرِ خود نہادہ بر کف بہ اُمید آنکہ روزے بہ شکار خواہی آمد
মরুর হরিণগুলো নিজের মস্তক হাতের মুঠোয় করে এ আশায় দাঁড়িয়ে আছে যে, একদিন আমার প্রিয়তম আমাকে শিকার করতে আসবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান