শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
৮. তালাক - ডিভোর্স অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৪৬৬
আন্তর্জাতিক নং: ৪৪৬৭
তালাক - ডিভোর্স অধ্যায়
১. কোন ব্যক্তি তার ঋতুবতী স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর যদি সুন্নত পদ্ধতিতে তালাক দিতে চায় তাহলে কখন এটা তার জন্য সম্ভব?
৪৪৬৬-৬৭। নসর ইব্ন মারযূক (রাহঃ) ও ইব্ন আবু দাউদ (রাহঃ) সালিম ইব্ন আব্দুল্লাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইব্ন উমার (রাযিঃ) তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি একদিন তার ঋতুবতী স্ত্রীকে তালাক দেন। রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) -এর কাছে এ ঘটনাটি উল্লেখ করা হলে তার প্রতি রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) অসন্তুষ্ট হন। এরপর রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) বলেনঃ সে যেন তাকে রাজায়াত করে অর্থাৎ তাকে ফেরত নেয়। অতঃপর তাকে পবিত্রতা অর্জন করতে সময় দেয়। আবার ঋতুবতী হতে দেয় এবং পবিত্রতা অর্জন করতে সুযােগ দেয়। এরপর যদি তাকে তালাক দেয়া প্রয়ােজন হয় তাহলে তাকে স্পর্শ করার পূর্বে পবিত্র অবস্থায় যেন তালাক দেয়। এ ইদ্দতটি পালন করা হয় যেমন আল্লাহ তা'আলা নির্দেশ করেছেন।
ইয়াযীদ ইব্ন সিনান (রাহঃ) ….. আবু সালিহ (রাহঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি তার নিজ সনদে অনুরূপ বর্ণনা পেশ করেন।
ইয়াযীদ ইব্ন সিনান (রাহঃ) ….. আবু সালিহ (রাহঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি তার নিজ সনদে অনুরূপ বর্ণনা পেশ করেন।
كتاب الطلاق
4466 - حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ مَرْزُوقٍ , وَابْنُ أَبِي دَاوُدَ , قَالَا: ثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ: حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ , عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللهِ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَةً لَهُ , وَهِيَ حَائِضٌ , فَذَكَرَ ذَلِكَ عُمَرُ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , فَتَغَيَّظَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لِيُرَاجِعَهَا , ثُمَّ لِيُمْسِكَهَا حَتَّى تَطْهُرَ , ثُمَّ تَحِيضَ فَتَطْهُرَ , فَإِنْ بَدَا لَهُ أَنْ يُطَلِّقَهَا , فَلْيُطَلِّقْهَا طَاهِرًا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا , فَتِلْكَ الْعِدَّةُ كَمَا أَمَرَ اللهُ»
4467 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ سِنَانٍ قَالَ: ثنا أَبُو صَالِحٍ , فَذَكَرَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ
4467 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ سِنَانٍ قَالَ: ثنا أَبُو صَالِحٍ , فَذَكَرَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীস থেকে জানা গেল যে, ঋতুবতী অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেয়া শক্ত গুনাহের কাজ। যদি কেউ ভুলবশত এরূপ করে তবে তাকে ফিরিয়ে নেয়া চাই। এরপর যদি তালাক দেয়ার ইচ্ছা অটুট থাকে তবে সেই পবিত্রাবস্থায় তালাক দিতে হবে যার মধ্যে সহবাসের সুযোগ হয়নি। এর রহস্য সুস্পষ্ট যে, অপবিত্র অবস্থায় নারী আকর্ষণযোগ্য থাকে না। পবিত্রাবস্থায় এটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে, স্বামীর হৃদয়ে আকর্ষণ সৃষ্টি হবে আর তালাক প্রদানের ইচ্ছাই শেষ হয়ে যাবে। আর আল্লাহ ও রাসুলের এতেই অধিক সন্তুষ্টি।
উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ ﷺ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-কে নির্দেশ দিলেন যে, অন্তর্বর্তী অবস্থায় তিনি যে তালাক দিয়েছিলেন তাতে তিনি তাঁকে পুনঃ গ্রহণ করবেন এবং একটি পবিত্রকাল অতিক্রান্ত হতে দেবেন। এরপর যদি তালাক দিতেই হয় তবে দ্বিতীয় পবিত্র অবস্থায় দেবে। এটারও প্রকাশ্য উদ্দেশ্য ইহাই যে, মধ্যবর্তী পবিত্র অবস্থায় যখন উভয়ে একত্রে বাস করবে তবে এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, সম্পর্কের মধ্যে পুনরায় প্রফুল্লতা আসবে এবং তালাকের সুযোগই আসবে না। কিন্তু যদি এরূপ হয় বরং তালাক দেওয়ারই সিদ্ধান্ত হয় তবে তিনি অনুমতি প্রদান করেছেন যে, দ্বিতীয় পবিত্র অবস্থায় সহবাসের পূর্বে তালাক দেবে। ‘সহবাসের পূর্বে’ বাধ্যবাধকতা সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যও এটাই যে, যখন অপবিত্র অবস্থায় দিনগুলো শেষ হয়ে যায় তখন প্রাকৃতিকভাবে সহবাসের আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। এভাবে এই বাধ্যবাধকতাও তালাক প্রদানের প্রতিবন্ধকতার কারণ হতে পারে।
উক্ত ঘটনায় রাসুলুল্লাহ ﷺ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-কে পুনরায় গ্রহণের যে নির্দেশ প্রদান করেন তাতে জানা গেল যে, ঋতুবতী অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়া যদিও নাজায়িয এবং শক্ত গুনাহর বিষয় তবুও তালাক অনুষ্ঠিত হয়ে যায়। যদি অনুষ্ঠিত না হত তবে পুনরায় গ্রহণের প্রয়োজনই হত না। আর হুজুর ﷺ পুনরায় গ্রহণের নির্দেশ প্রদানের স্থলে এটা বলতেন যে, তালাক অনুষ্ঠিতই হয়নি।
উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ ﷺ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-কে নির্দেশ দিলেন যে, অন্তর্বর্তী অবস্থায় তিনি যে তালাক দিয়েছিলেন তাতে তিনি তাঁকে পুনঃ গ্রহণ করবেন এবং একটি পবিত্রকাল অতিক্রান্ত হতে দেবেন। এরপর যদি তালাক দিতেই হয় তবে দ্বিতীয় পবিত্র অবস্থায় দেবে। এটারও প্রকাশ্য উদ্দেশ্য ইহাই যে, মধ্যবর্তী পবিত্র অবস্থায় যখন উভয়ে একত্রে বাস করবে তবে এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, সম্পর্কের মধ্যে পুনরায় প্রফুল্লতা আসবে এবং তালাকের সুযোগই আসবে না। কিন্তু যদি এরূপ হয় বরং তালাক দেওয়ারই সিদ্ধান্ত হয় তবে তিনি অনুমতি প্রদান করেছেন যে, দ্বিতীয় পবিত্র অবস্থায় সহবাসের পূর্বে তালাক দেবে। ‘সহবাসের পূর্বে’ বাধ্যবাধকতা সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যও এটাই যে, যখন অপবিত্র অবস্থায় দিনগুলো শেষ হয়ে যায় তখন প্রাকৃতিকভাবে সহবাসের আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। এভাবে এই বাধ্যবাধকতাও তালাক প্রদানের প্রতিবন্ধকতার কারণ হতে পারে।
উক্ত ঘটনায় রাসুলুল্লাহ ﷺ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-কে পুনরায় গ্রহণের যে নির্দেশ প্রদান করেন তাতে জানা গেল যে, ঋতুবতী অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়া যদিও নাজায়িয এবং শক্ত গুনাহর বিষয় তবুও তালাক অনুষ্ঠিত হয়ে যায়। যদি অনুষ্ঠিত না হত তবে পুনরায় গ্রহণের প্রয়োজনই হত না। আর হুজুর ﷺ পুনরায় গ্রহণের নির্দেশ প্রদানের স্থলে এটা বলতেন যে, তালাক অনুষ্ঠিতই হয়নি।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)