শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১০. শপথ ও মান্নতের অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৭৭৬
শপথ ও মান্নতের অধ্যায়
২, কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির সাথে এক মাস কথা না বলার শপথ করে, তাহলে কত দিনে এ মাস গণনা করা হবে?
৪৭৭৬। নসর ইবন মারযুক (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের থেকে ঈলা করেন। তিনি (উপরের) কোঠায় অবস্থান করেন। অতঃপর নেমে আসেন। সাহাবায়ে কিরাম বলেন, হে আল্লাহর রাসুল (ﷺ)! আপনি এক মাসের জন্য ঈলা করেছেন? তিনি তখন বলেন, এ মাস হচ্ছে ২৯ দিনে।
আবু জা’ফর আত-তাহাবী (রাহঃ) বলেনঃ একদল আলিমের অভিমত হল, যখন কোন ব্যক্তি শপথ করে যে, সে অন্য এক ব্যক্তির সাথে একমাস কথা বলবেনা, তখন সে ২৯ দিন পর তার সাথে কথা বলল, তাহলে তার শপথ ভঙ্গ হলনা। উপরােক্ত হাদীসগুলাের মাধ্যমে তারা দলীল পেশ করেন। অন্য এক দল আলিম এ সম্পর্কে তাদের বিরোধিতা করেন এবং বলেন, যদি এ ব্যক্তিটি নয়া চাঁদ দেখার সাথে সাথে এরূপ শপথ করে তাহলে ঐ মাস ৩০শা হলে ৩০ দিন, আর ২৯ শা হলে ২৯ দিন যাবত শপথ রক্ষা করতে হবে। আর যদি মাসের কয়েক দিন অতিক্রান্ত হবার পর শপথ করে তাহলে তাকে ত্রিশ দিন শপথ রক্ষা করতে হবে। এ ব্যাপারে তারা এ হাদীসটি দলীল হিসেবে পেশ করেন, যা এ অনুচ্ছেদের প্রথম দিকে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদীসটি হল নিঃসন্দেহে রাসূলুল্লাহ বলেছেন, এ মাস হচ্ছে ২৯ শা। তোমরা যখন নয়া চাঁদ দেখৰে সিয়াম পালন করা আরম্ভ করবে আবার যখন নয়া চাল দেখবে তখন সিয়াম ভঙ্গ করবে আর আকাশ যদি মেঘাচ্ছন্ন হয় ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।
আল্লামা আত-তাহাবী (রাহঃ) বলেনঃ তুমি কি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -কে দেখনি যে, তিনি মুমিনদের জন্যে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন অবস্থায় ৩০ দিন সিয়াম পূর্ণ করা ওয়াজিব করেছেন ও মাসটিকে পরিপূর্ণ ঘোষণা করেছেন, যতক্ষণ না নয়া চাঁদ দেখা যায়। শা’বানের চাঁদের ক্ষেত্রেও এরূপ করেছেন। রমাদানের নয়া চাঁদ দেখার পর তারাবীহ সালাত আদায়ের হুকুম দিয়েছেন। যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন দেখতে পান তখন তারা সিয়াম পালন শুরু করেননি। শাবান মাসও ত্রিশ দিন গণ্য করা হত যতক্ষণ না নয়া চাঁদ দেখা যাওয়ার মাধ্যমে ব্যতিক্রম ঘটত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে প্রথম দিকে উল্লেখিত হাদীসসমূহের ভিন্নরূপ একটি বর্ণনাও এসেছেঃ
আবু জা’ফর আত-তাহাবী (রাহঃ) বলেনঃ একদল আলিমের অভিমত হল, যখন কোন ব্যক্তি শপথ করে যে, সে অন্য এক ব্যক্তির সাথে একমাস কথা বলবেনা, তখন সে ২৯ দিন পর তার সাথে কথা বলল, তাহলে তার শপথ ভঙ্গ হলনা। উপরােক্ত হাদীসগুলাের মাধ্যমে তারা দলীল পেশ করেন। অন্য এক দল আলিম এ সম্পর্কে তাদের বিরোধিতা করেন এবং বলেন, যদি এ ব্যক্তিটি নয়া চাঁদ দেখার সাথে সাথে এরূপ শপথ করে তাহলে ঐ মাস ৩০শা হলে ৩০ দিন, আর ২৯ শা হলে ২৯ দিন যাবত শপথ রক্ষা করতে হবে। আর যদি মাসের কয়েক দিন অতিক্রান্ত হবার পর শপথ করে তাহলে তাকে ত্রিশ দিন শপথ রক্ষা করতে হবে। এ ব্যাপারে তারা এ হাদীসটি দলীল হিসেবে পেশ করেন, যা এ অনুচ্ছেদের প্রথম দিকে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদীসটি হল নিঃসন্দেহে রাসূলুল্লাহ বলেছেন, এ মাস হচ্ছে ২৯ শা। তোমরা যখন নয়া চাঁদ দেখৰে সিয়াম পালন করা আরম্ভ করবে আবার যখন নয়া চাল দেখবে তখন সিয়াম ভঙ্গ করবে আর আকাশ যদি মেঘাচ্ছন্ন হয় ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।
আল্লামা আত-তাহাবী (রাহঃ) বলেনঃ তুমি কি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -কে দেখনি যে, তিনি মুমিনদের জন্যে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন অবস্থায় ৩০ দিন সিয়াম পূর্ণ করা ওয়াজিব করেছেন ও মাসটিকে পরিপূর্ণ ঘোষণা করেছেন, যতক্ষণ না নয়া চাঁদ দেখা যায়। শা’বানের চাঁদের ক্ষেত্রেও এরূপ করেছেন। রমাদানের নয়া চাঁদ দেখার পর তারাবীহ সালাত আদায়ের হুকুম দিয়েছেন। যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন দেখতে পান তখন তারা সিয়াম পালন শুরু করেননি। শাবান মাসও ত্রিশ দিন গণ্য করা হত যতক্ষণ না নয়া চাঁদ দেখা যাওয়ার মাধ্যমে ব্যতিক্রম ঘটত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে প্রথম দিকে উল্লেখিত হাদীসসমূহের ভিন্নরূপ একটি বর্ণনাও এসেছেঃ
كتاب الأيمان والنذور
4776 - حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ مَرْزُوقٍ , قَالَ: ثنا عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدٍ , قَالَ: ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ , عَنْ حُمَيْدٍ , عَنْ أَنَسٍ , قَالَ: " آلَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ نِسَائِهِ , فَأَقَامَ فِي مَشْرُبَةٍ تِسْعًا وَعِشْرِينَ , ثُمَّ نَزَلَ. فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ , آلَيْتَ شَهْرًا , فَقَالَ الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ " قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ رَحِمَهُ اللهُ: فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا حَلَفَ لَا يُكَلِّمُ رَجُلًا شَهْرًا , فَكَلَّمَهُ بَعْدَ مُضِيِّ تِسْعَةٍ وَعِشْرِينَ يَوْمًا , أَنَّهُ لَا يَحْنَثُ , وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِهَذِهِ الْآثَارِ. وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ , فَقَالُوا: إِنْ كَانَ حَلَفَ مَعَ رُؤْيَةِ الْهِلَالِ , فَهُوَ عَلَى ذَلِكَ الشَّهْرِ الَّذِي كَانَ ثَلَاثِينَ يَوْمًا [ص:124] أَوْ تِسْعًا وَعِشْرِينَ يَوْمًا , وَإِنْ كَانَ حَلَفَ فِي بَعْضِ شَهْرٍ فَيَمِينُهُ عَلَى ثَلَاثِينَ يَوْمًا , وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِالْحَدِيثِ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ فِي أَوَّلِ هَذَا الْبَابِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ , فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَصُومُوا , وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا , فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا ثَلَاثِينَ يَوْمًا» . أَفَلَا تَرَاهُ قَدْ أَوْجَبَ عَلَيْهِمْ - إِذَا غُمَّ - ثَلَاثِينَ , وَجَعَلَهُ عَلَى الْكَمَالِ حَتَّى يَرَوُا الْهِلَالَ ذَلِكَ؟ وَكَذَلِكَ فَعَلَ أَيْضًا فِي شَعْبَانَ أَمَرَ بِالصَّوْمِ بَعْدَمَا يُرَى هِلَالُ شَهْرِ رَمَضَانَ , فَإِذَا أُغْمِيَ عَلَيْهِمْ , لَمْ يَصُومُوا , وَكَانَ شَعْبَانُ عَلَى الثَّلَاثِينَ إِلَّا أَنْ يَنْقَطِعَ ذَلِكَ بِرُؤْيَةِ الْهِلَالِ. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذَلِكَ , غَيْرُ مَا فِي الْآثَارِ الْأُوَلِ