শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১২. জিহাদের বিধানাবলী সম্পর্কিত

হাদীস নং: ৫৪৬৪
জিহাদের বিধানাবলী সম্পর্কিত
২০. অধ্যায়ঃ রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কর্তৃক মক্কা বলপূর্বক বিজয় করার প্রমাণ
৫৪৬৪। ইবরাহীম ইবনে আবী দাউদ (রাহঃ) ....আব্দুল্লাহ্ ইবনে রিবাহ (রাহঃ) সূত্রে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন মক্কা বিজয়ের উদ্দেশ্যে সফর করলেন, তখন আবু উবায়দা ইবনে জাররাহ (রাযিঃ), যুবাইর ইবনে আওয়াম (রাযিঃ) ও খালিদ ইবনে ওলীদ (রাযিঃ)-কে প্রেরণ করেন। যখন তাদেরকে প্রেরণ করেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে বললেন, আনসারদেরকে আওয়াজ দাও। তিনি ডাকলেন, হে আনসারের দল! রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে হাযির হও। তারা হাযির হলাে যেমন তাদের অভ্যাস ছিলাে। অতঃপর বললেন, এই পথে চল এবং যে কেউ উঁচু এলাকা থেকে আসবে তাকে হত্যা কর। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) চললেন, আর আল্লাহ্ তা'আলা তাদের বিজয় দান করলেন। সেই দিন তাদের চার ব্যক্তি নিহত হয়। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর কুরায়শের মুশরিক সরদারগণ কা'বাতে প্রবেশ করে। তাদের ধারণা ছিলাে যে, তাদের থেকে তারবারি (আর) উঠানাে হবে না। অতঃপর তিনি তাওয়াফ করেন এবং দু'রাকআত সালাত আদায় করেন। এরপর কা'বার কাছে এসে দরজার চৌকাঠের দুই প্রান্ত ধরে বললেন, তােমরা কি বলছ, তােমাদের কি ধারণা? তারা বলল, আমরা বলছি, আপনি ভাই, চাচাত ভাই এবং দয়ালু ও ধৈর্যশীল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, আমি সেই কথা বলছি, যা ইউসুফ (আ) বলেছিলেনঃ আজকে তােমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযােগ নেই। আল্লাহ্ তা'আলা তােমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তিনি সর্বাপেক্ষা দয়ালু। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, তারা তাে বেরিয়ে গেল, যেন তাদেরকে কবর থেকে বের করা হয়েছে। (অর্থাৎ নতুন জীবন লাভ হয়েছে)। তারা ইসলাম গ্রহণ করল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ঐ দরজা দিয়ে বের হলেন, যা ‘সাফা’র সাথে মিলিত। তিনি খুতবা (ভাষণ) দিলেন। আনসারগণ এর নীচে ছিলেন। আনসারগণ পরস্পরে বলতে লাগল, তাঁকে তাঁর কাওমের প্রতি মেহেরবানী এবং আত্মীয়তার প্রতি আকর্ষণ পেয়ে বসেছে। বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা তার উপর ওহী অবতীর্ণ করেন। তিনি বললেন, হে আনসারের দল? তােমরা কি বলেছ যে, তাঁকে কাওমের প্রতি মেহেরবানী এবং আত্মীয়তার প্রতি আকর্ষণ বেষ্টন করে নিয়েছে। ওই অবস্থায় তাে আমি নবী হব না। কস্মিনকালেও নয়, আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর সত্য রাসূল। অবশ্যই আমার জীবন তােমাদের জীবনের সঙ্গে আমার মৃত্যু তােমাদের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত। তারা বলল, আল্লাহর কসম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (ﷺ) আমরা এ কথা শুধু এই আশংকায় বলেছিলাম, যেন আপনি আমাদের থেকে পৃথক হয়ে না যান এবং আমরা আপনার বিষয়ে (অন্যদের সাথে) কৃপণতা করি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তােমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে সত্য। বলেন, আল্লাহর কসম! তাদের থেকে কেউ এরূপ ছিলাে না, যে কিনা অশ্রুসজল চোখে তাঁর সম্মুখে অবনত না হয়েছে।

সে ব্যক্তি কি লক্ষ্য করছেনা যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কাতে প্রবেশ করার পর কুরায়শদের ধারণা ছিলাে যে, তাদের থেকে তরবারি (আর) উঠানাে হবে না। তােমারদের ধারণা কি যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক তাদেরকে নিরাপত্তা প্রদান সত্ত্বেও তারা তাকে ভয় পাচ্ছিলাে। আল্লাহর কসম! তাঁর পবিত্র সত্তা ভীতির জায়গায় ছিলােনা। বরং তারা জানত যে, তার ইখতিয়ার রয়েছে, ইচ্ছা করলে হত্যা করবেন এবং ইচ্ছা করলে ইহসান তথা ক্ষমা প্রদর্শন করবেন। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে তাদের বিরুদ্ধে বিজয়ী করেছেন এবং তাঁকে ইখতিয়ার প্রদান করেছেন যে, তাদের ব্যাপারে পূর্বেও এবং এর পরেও যা আল্লাহ্ তা'আলা চান ফয়সালা করবেন। আর তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। অতঃপর সেই দিন তিনি তাদেরকে বলেছেনঃ আজকের পরে মক্কাতে (নগরীতে) কখনও লড়াই সংঘটিত হবে না।
كتاب السير
5464 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي دَاوُدَ , قَالَ: ثنا الْقَاسِمُ بْنُ سَلَّامِ بْنِ مِسْكِينٍ , قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ ,: ثنا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ , عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ رَبَاحٍ , عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ " أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , حِينَ سَارَ إِلَى مَكَّةَ لِيَسْتَفْتِحَهَا , فَسَرَّحَ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ , وَالزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ وَخَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ , فَلَمَّا بَعَثَهُمْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ اهْتِفْ بِالْأَنْصَارِ فَنَادَى: يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ أَجِيبُوا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءُوا كَمَا كَانُوا عَلَى مُعْتَادٍ , ثُمَّ قَالَ: اسْلُكُوا هَذَا الطَّرِيقَ وَلَا يُشْرِفَنَّ أَحَدٌ إِلَّا أَيْ: قَتَلْتُمُوهُ , وَسَارَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفَتَحَ اللهُ عَلَيْهِمْ مِنْ قَتْلَ يَوْمَئِذٍ الْأَرْبَعَةِ , قَالَ: ثُمَّ دَخَلَ صَنَادِيدُ قُرَيْشٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ الْكَعْبَةَ وَهُمْ يَظُنُّونَ أَنَّ السَّيْفَ لَا يُرْفَعُ عَنْهُمْ ثُمَّ طَافَ وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَتَى الْكَعْبَةَ فَأَخَذَ بِعِضَادَتَيِ الْبَابِ فَقَالَ مَا تَقُولُونَ وَمَا تَظُنُّونَ؟ , فَقَالُوا: نَقُولُ أَخٌ وَابْنُ عَمٍّ حَلِيمٌ رَحِيمٌ , فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقُولُ كَمَا قَالَ يُوسُفُ {لَا تَثْرِيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ يَغْفِرُ اللهُ لَكُمْ وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ} [يوسف: 92] , [ص:326] قَالَ: فَخَرَجُوا كَأَنَّمَا نُشِرُوا مِنَ الْقُبُورِ فَدَخَلُوا فِي الْإِسْلَامِ , فَخَرَجَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْبَابِ الَّذِي يَلِي الصَّفَا فَخَطَبَ , وَالْأَنْصَارُ أَسْفَلَ مِنْهُ , فَقَالَتِ الْأَنْصَارُ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ أَمَا إِنَّ الرَّجُلَ أَخَذَتْهُ الرَّأْفَةُ بِقَوْمِهِ وَأَدْرَكَتْهُ الرَّغْبَةُ فِي قَرَابَتِهِ , قَالَ: فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْهِ الْوَحْيَ فَقَالَ: يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ أَقُلْتُمْ: أَخَذَتْهُ الرَّأْفَةُ بِقَوْمِهِ وَأَدْرَكَتْهُ الرَّغْبَةُ فِي قَرَابَتِهِ فَمَا نَبِيٌّ أَنَا إِذًا كَلًّا وَاللهِ إِنِّي رَسُولُ اللهِ حَقًّا إِنَّ الْمَحْيَا لَمَحْيَاكُمْ وَإِنَّ الْمَمَاتَ لَمَمَاتُكُمْ , قَالُوا: وَاللهِ يَا رَسُولَ اللهِ، مَا قُلْنَا إِلَّا مَخَافَةَ أَنْ تُفَارِقَنَا إِلَّا ضِنًّا بِكَ , فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْتُمْ صَادِقُونَ عِنْدَ اللهِ وَرَسُولِهِ , قَالَ: فَوَاللهِ مَا بَقِيَ مِنْهُمْ رَجُلٌ إِلَّا نَكَّسَ نَحْرَهُ بِدُمُوعِ عَيْنَيْهِ «أَفَلَا يَرَى أَنَّ قُرَيْشًا بَعْدَ دُخُولِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَّةَ قَدْ كَانُوا يَظُنُّونَ أَنَّ السَّيْفَ لَا يُرْفَعُ عَنْهُمْ أَفَتُرَاهُمْ كَانُوا يَخَافُونَ ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ أَمَّنَهُمْ قَبْلَ ذَلِكَ؟ هَذَا وَاللهِ غَيْرُ مَخُوفٍ مِنْهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَكِنَّهُمْ عَلِمُوا أَنَّ إِلَيْهِ قَتْلَهُمْ إِنْ شَاءَ وَأَنَّ إِلَيْهِ الْمَنَّ عَلَيْهِمْ إِنْ شَاءَ وَأَنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ أَظْهَرَهُ عَلَيْهِمْ وَصَيَّرَهُمْ فِي يَدِهِ يَحْكُمُ فِيهِمْ بِمَا أَرَادَ اللهُ تَعَالَى مِنْ قَبْلُ , وَمَنَّ بَعْدَ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ وَعَفَا عَنْهُمْ , ثُمَّ قَالَ لَهُمْ يَوْمَئِذٍ» لَا تُغْزَى مَكَّةُ بَعْدَ هَذَا الْيَوْمِ أَبَدًا "
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান