শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

১৩. যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৪৯০
যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়র অধ্যায়
অধ্যায়ঃ ক্রয়-বিক্রয়

১. পরস্পরে অতিরিক্ত লেন-দেন করে গমের বিনিময়ে যব বিক্রয় প্রসঙ্গ
৫৪৯০। ইউনুস ইবনে আব্দিল আ'লা বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে ওয়াহব ..... মা'মার ইবনে আব্দুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন। একবার তিনি তার একজন গােলামকে এক সা' গম দিয়ে (বাজারে) পাঠালেন। তিনি তাকে বললেন, এই গমের বিনিময়ে যব ক্রয় করে নিয়ে এস। গােলামটি গিয়ে এক ‘সা’ গমের বিনিময়ে এক ‘সা’ অপেক্ষা কিছু অধিক যব নিয়ে এল। যখন সে মা'মার-কে খবর দিল, তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি এমন করেছ কেন? এটা ফিরিয়ে দাও এবং গমের সমপরিমাণ যব নিয়ে এসাে। কারণ, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, খাদ্য খাদ্যের বিনিময়ে সমান সমান বিক্রয় কর। আর সেকালে আমাদের খাদ্য বলতে শুধু যব ছিল। তখন হযরত মা'মারকে বলা হলাে, যব তাে আর গমের মত নয়। জবাবে তিনি বললেন, আমার আশংকা হয়। যে, যব গমের সদৃশ-ই হবে।

বিশ্লেষণ
আবু জাফর তাহাবী (রাহঃ) বলেনঃ একদল উলামা এ হাদীসকে গ্রহণ করেছেন।* তারা বলেন, যবের বিনিময়ে গম ক্রয়-বিক্রয় করলে সমান সমান লেনদেন করতে হবে। অপর পক্ষে উলামা-ই কিরামের অন্য একটি দল এঁদের বিরােধিতা করেন।** তারা বলেন, অতিরিক্ত লেন-দেনের মাধ্যমে যবের বিনিময়ে গমের ক্রয়-বিক্রয় করলে, চাই অতিরিক্ত দ্বিগুণ কিংবা তিন গুণ অথবা তার চেয়েও বেশী হােক না কেন, এতে কোন অসুবিধা নেই। যারা প্রথম বক্তব্য পেশ করেছেন, দলীল হিসেবে তারা যে হাদীস পেশ করেছেন, দ্বিতীয় পক্ষের দলীলও সেই একই হাদীসে রয়েছে। আর সে হাদীসটি হলােঃ أن معمرا أخبر عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان يسمعه يقول «الطعام بالطعام , مثلا بمثل» ثم قال معمر: وكان طعامنا يومئذ الشعير
অর্থাৎ "নবী (ﷺ) হতে মা'মার বর্ণনা করেন, তিনি তাঁকে বলতে শুনতেন, খাদ্যকে খাদ্যের বিনিময়ে সমান সমান বিক্রয় করবে। অতঃপর মামার বলেন, সেকালে আমাদের খাদ্য ছিল যব।"

অতএব নবী (ﷺ)-এর নিকট হতে মামার বর্ণিত হাদীসে যে খাদ্যের কথা বলা হয়েছে, সম্ভবতঃ তিনি তা দ্বারা সেই খাদ্যই উদ্দেশ্য করেছেন, যা তখন তাদের খাদ্য হিসেবে প্রচলিত ছিল। অতএব বেশ-কমের নিষিদ্ধতা কেবল যবের বিনিময়ে যব ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেই প্রযােজ্য হবে। বস্তুতঃ আলােচ্য হাদীসে গমের বিনিময়ে যব বিক্রয়ের কোন উল্লেখই নেই, বরং হাদীসে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা কেবল মা'মার এর নিজস্ব মত ও ব্যাখ্যা। এ ব্যাপারে তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে কিছুই শুনেননি। দেখুন না, তাঁকে যখন বলা হলাে যে, যব তাে আর গম নয়। অর্থাৎ দুটো বস্তু তাে আর এক নয়। তখন তিনি তার কথাকে অস্বীকার করেননি। অতএব তিনি যখন একথা বলেছিলেন আমার আশংকা, যব গমের সদৃশ, তখন তিনি যেন এই আশংকাই করেছিলেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে যে কথা বলতে শুনেছেন, তা সমস্ত খাদ্যের জন্য প্রযােজ্য। সুতরাং তার অন্তরে যে সন্দেহ প্রবেশ করেছিল, সে কারণেই তিনি এর থেকে বিরত থাকেন।

উল্লেখিত হাদীসে যখন কোন এক পক্ষের কোন দলীল নেই তখন আমরা অন্য হাদীসে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করে দেখেছি যে, এর সমাধানে কোন দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় কি না, আর তখনই তা আমরা। গ্রহণযােগ্য মনে করব। তখন আমরা দেখতে পাইঃ
كتاب البيوع و الصرف
كِتَابُ الْبُيُوعِ: بَابٌ بَيْعُ الشَّعِيرِ بِالْحِنْطَةِ مُتَفَاضِلًا
5490 - حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى الصَّدَفِيُّ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ أَبَا الزُّبَيْرِ حَدَّثَهُ أَنَّ بُسْرَ بْنَ سَعِيدٍ حَدَّثَهُ , عَنْ مَعْمَرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، أَنَّهُ أَرْسَلَ غُلَامًا لَهُ بِصَاعٍ مِنْ قَمْحٍ هُوَ الْحِنْطَةُ، فَقَالَ لَهُ: بِعْهُ ثُمَّ اشْتَرِ بِهِ شَعِيرًا , فَذَهَبَ الْغُلَامُ فَأَخَذَ صَاعًا وَزِيَادَةَ بَعْضِ صَاعٍ , فَلَمَّا جَاءَ مَعْمَرٌ أَخْبَرَهُ , فَقَالَ لَهُ مَعْمَرٌ: لِمَ فَعَلْتَ؟ انْطَلِقْ فَرُدَّهُ , وَلَا تَأْخُذْ إِلَّا مِثْلًا بِمِثْلٍ , فَإِنِّي كُنْتُ أَسْمَعُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ «الطَّعَامُ بِالطَّعَامِ , مِثْلًا بِمِثْلٍ» وَكَانَ طَعَامُنَا يَوْمَئِذٍ , الشَّعِيرَ. قِيلَ لَهُ: فَإِنَّهُ لَيْسَ مِثْلَهُ , قَالَ: إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُضَارِعَهُ (أَنْ يُشْبِهَهُ) قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ فَقَلَّدُوهُ , وَقَالُوا: لَا يَجُوزُ بَيْعُ الْحِنْطَةِ بِالشَّعِيرِ , إِلَّا مِثْلًا بِمِثْلٍ. وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ , فَقَالُوا: لَا بَأْسَ بِبَيْعِ الْحِنْطَةِ بِالشَّعِيرِ مُتَفَاضِلًا , مِثْلَيْنِ بِمِثْلٍ أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ. وَكَانَ مِنَ الْحُجَّةِ لَهُمْ عَلَى أَهْلِ الْمَقَالَةِ الْأُولَى فِي الْحَدِيثِ الَّذِي احْتَجُّوا بِهِ عَلَيْهِمْ , أَنَّ مَعْمَرًا أَخْبَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ يَسْمَعُهُ يَقُولُ «الطَّعَامُ بِالطَّعَامِ , مِثْلًا بِمِثْلٍ» ثُمَّ قَالَ مَعْمَرٌ: وَكَانَ طَعَامُنَا يَوْمَئِذٍ الشَّعِيرَ. فَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَادَ بِقَوْلِهِ الَّذِي حَكَاهُ عَنْهُ مَعْمَرٌ , الطَّعَامَ الَّذِي كَانَ طَعَامَهُمْ يَوْمَئِذٍ , فَيَكُونُ ذَلِكَ عَلَى الشَّعِيرِ بِالشَّعِيرِ , فَلَا يَكُونُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ شَيْءٌ مِنْ ذِكْرِ بَيْعِ الْحِنْطَةِ بِالشَّعِيرِ , مِمَّا ذَكَرَ فِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِنَّمَا هُوَ مَذْكُورٌ عَنْ مَعْمَرٍ , مِنْ رَأْيِهِ , وَمِنْ تَأْوِيلِهِ مَا كَانَ سَمِعَ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. أَلَا تَرَى أَنَّهُ قِيلَ لَهُ: فَإِنَّهُ لَيْسَ مِثْلَهُ , أَيْ: لَيْسَ مِنْ نَوْعِهِ , فَلَمْ يُنْكِرْ ذَلِكَ عَلَى مَنْ قَالَهُ , وَكَانَ جَوَابُهُ لَهُ «إِنِّي أَخْشَى أَنْ يُضَارِعَهُ» كَأَنَّهُ خَافَ أَنْ يَكُونَ قَوْلُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّذِي سَمِعَهُ يَقُولُهُ , وَهُوَ مَا ذَكَرْنَا فِي حَدِيثِهِ عَلَى الْأَطْعِمَةِ كُلِّهَا فَتَوَقَّى ذَلِكَ وَتَنَزَّهَ عَنْهُ , لِلرَّيْبِ الَّذِي وَقَعَ فِي قَلْبِهِ مِنْهُ. فَلَمَّا انْتَفَى أَنْ يَكُونَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ حُجَّةٌ لِأَحَدِ الْفَرِيقَيْنِ عَلَى صَاحِبِهِ , نَظَرْنَا هَلْ فِي غَيْرِهِ مَا يَدُلُّنَا عَلَى حُكْمِ ذَلِكَ كَيْفَ هُوَ؟ [ص:4] فَاعْتَبَرْنَا ذَلِكَ ,

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

* আল্লামা আইনী বলেন, এ সকল উলামা দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন আব্দুর রহমান সুলামী, কাসেম, সালেম, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব,
রাবী'আ আবুয-যিনাদ, হাকাম ইবনে উৎবা, হাম্মাদ ইবনে আবী সুলায়মান, লাইস ইবনে সা’দ ও মালেক (র)......

** আল্লামা আইনী (র) বলেন, এ সকল উলামা দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন নাখঈ, শা'বী, যুহুরী, আতা, ছাওরী, আবু হানীফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ, শাফেই, আহমদ, ইসহাক ও আবু ছাওর। অতঃপর তিনি বলেন, ইবনে উমার, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ্ ইবন মাসউদ, আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস ও উবাদা ইবনে ছামিত (রা) হতেও এমতই বর্ণিত হয়েছে। ইবন আবূ শায়বা বিশুদ্ধ সনদের মাধ্যমে এদের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান